ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলাই প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন। তবে অনেকেরই অজানা, ফাইনালে জয়ের পর যে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করেন চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়রা, সেটি স্থায়ীভাবে তাদের কাছে থাকে না। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই আসল ট্রফি ফিরিয়ে নেয় ফিফা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনাল শেষে বিজয়ী দল কিছু সময়ের জন্য আসল বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উদযাপনের সুযোগ পায়। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রফিটি ফেরত নেওয়া হয়। পরে চ্যাম্পিয়ন দলকে তাদের দেশের নাম খোদাই করা সোনালি আবরণযুক্ত ব্রোঞ্জের তৈরি একটি রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়।
আসল বিশ্বকাপ ট্রফিটি বছরের বেশির ভাগ সময় সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়। বিশেষ প্রদর্শনী, ট্রফি ট্যুর কিংবা বিশ্বকাপ চলাকালীন নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ছাড়া এটি বাইরে আনা হয় না।
বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে এমন কঠোর নিরাপত্তার পেছনে রয়েছে ইতিহাস। পুরোনো জুল রিমে ট্রফি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় চুরি হয়েছিল। পরে ‘পিকলস’ নামে একটি কুকুর সেটি উদ্ধার করে। কিন্তু ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে দ্বিতীয়বার চুরির পর সেই ট্রফি আর কখনো উদ্ধার করা যায়নি। ধারণা করা হয়, সেটি গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।
জুল রিমে ট্রফি ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পর স্থায়ীভাবে ব্রাজিলের মালিকানায় চলে যায়। এরপর নতুন ট্রফি তৈরির উদ্যোগ নেয় ফিফা।
বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা করেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭৪ বিশ্বকাপ থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা এই ট্রফি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬ দশমিক ২ কেজি। ট্রফির নকশায় দুইজন মানুষের হাতে পৃথিবীকে তুলে ধরার প্রতীকী অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি চিরকাল থাকলেও আসল ট্রফি নয়, তার হুবহু প্রতিরূপই স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








