ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : নতুন মৌসুম শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বড় আর্থিক সংকটে পড়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর। বিপুল ঋণের চাপে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনসহ ক্লাবটির সব ধরনের ট্রান্সফার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হচ্ছে সৌদি প্রো লিগের নতুন মৌসুম। অন্য ক্লাবগুলো যখন দল গোছাতে ব্যস্ত, তখন আল-নাসর আর্থিক সংকটের কারণে নতুন কোনো খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারছে না।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-রিয়াদিয়াহ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটির ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (প্রায় ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল দেনার কারণে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এরই প্রভাব পড়েছে চলমান দলবদল কার্যক্রমেও। পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সামু কস্তাকে দলে ভেড়াতে স্পেনের ক্লাব রিয়াল মায়োর্কার সঙ্গে সমঝোতা হলেও আর্থিক জটিলতার কারণে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে আটকে আছে দলের উইঙ্গার আব্দুল রহমান ঘারিবের নতুন চুক্তির আলোচনাও। গত মৌসুমে কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারা আল-নাসর নতুন মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাবটির ৭৫ শতাংশ মালিকানাধীন সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। প্রতিষ্ঠানটি তিন দফা পুনর্গঠন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বাণিজ্যিক আয় বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আর্থিক ও আইনি উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লাবের কিছু মালিকানা বেসরকারি খাতে বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুটি প্রস্তাব পাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ক্লাবের এই আর্থিক সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ পর্তুগিজ সুপারস্টারের অবস্থান বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বরং তার বাণিজ্যিক মূল্য এবং ক্লাবে আংশিক মালিকানার কারণে সংকট উত্তরণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-নাসরের বর্তমান পরিস্থিতি সৌদি ফুটবলের নতুন অর্থনৈতিক নীতিরই প্রতিফলন। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্লাবগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে স্বনির্ভর ও টেকসই করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আল-নাসর এখন সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি।








