ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ওমান উপসাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযান লক্ষ্য করে তারা এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান একে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার স্থূল লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যে সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা, যা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এবং লারক দ্বীপের আশেপাশে এই হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং আমেরিকান যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলো। একই সাথে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন বিছানোর চেষ্টায় লিপ্ত নৌযানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, কূটনীতি সচল রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষায় তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

হামলার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হরমোজগান অঞ্চলে মার্কিন এই আগ্রাসনকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও উস্কানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই শত্রুভাবাপন্ন আচরণকে মোটেও উপেক্ষা করবে না এবং যথাসময়ে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, বন্দর আব্বাসের কাছে বিস্ফোরণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ওয়াশিংটনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।

এই সামরিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল যখন কাতার ও ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা এখনও চলছে, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রধান বিষয়গুলোতে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক এই আশাবাদের বিপরীতে মাঠের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ইসরায়েল যখন লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরান শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইরান যদি এই হামলার জবাবে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো ও হিজবুল্লাহকে জড়িয়ে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সূএ : গালফ নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অপোর শপ ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছে জামাল ভূঁইয়া

» বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ভ্যানচালক নিহত

» জনস্বার্থে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি: মন্ত্রী টুকু

» বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

» এআই কনটেন্ট শনাক্তে নতুন উদ্যোগ টিকটকের

» পাকা আমের সন্দেশ তৈরির রেসিপি জেনে নিন

» দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় নিহত ৮, মোট প্রাণহানি ৩৮

» আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি : মির্জা ফখরুল

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১১ জন গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ওমান উপসাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযান লক্ষ্য করে তারা এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান একে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার স্থূল লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যে সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা, যা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এবং লারক দ্বীপের আশেপাশে এই হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং আমেরিকান যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলো। একই সাথে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন বিছানোর চেষ্টায় লিপ্ত নৌযানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, কূটনীতি সচল রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষায় তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

হামলার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হরমোজগান অঞ্চলে মার্কিন এই আগ্রাসনকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও উস্কানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই শত্রুভাবাপন্ন আচরণকে মোটেও উপেক্ষা করবে না এবং যথাসময়ে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, বন্দর আব্বাসের কাছে বিস্ফোরণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ওয়াশিংটনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।

এই সামরিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল যখন কাতার ও ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা এখনও চলছে, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রধান বিষয়গুলোতে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক এই আশাবাদের বিপরীতে মাঠের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ইসরায়েল যখন লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরান শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইরান যদি এই হামলার জবাবে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো ও হিজবুল্লাহকে জড়িয়ে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সূএ : গালফ নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com