১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বীপ, আবুধাবিতে তৈরি হচ্ছে সুস্থতার এক স্বর্গরাজ্য

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বর্তমান ব্যস্ত পৃথিবীতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মানুষের মনোযোগ দিন দিন বাড়ছে। কেবল সাময়িক ছুটি কাটাতে নয়, এবার দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় করে তুলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গড়ে উঠছে এক অনন্য দ্বীপ। ‘ফাহিদ আইল্যান্ড’ নামের এই দ্বীপে সম্পূর্ণ সুস্থতা ও ভালো থাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে একটি আধুনিক আবাসন প্রকল্প, যা মানুষের জীবনযাত্রার ধারণাই বদলে দেবে।

আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আলদার ডেভেলপমেন্টের অধীনে ৪০ বিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম বা প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের বুক চিরে গড়ে ওঠা এই ফাহিদ দ্বীপে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বাড়ি তৈরি করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ২.৭ মিলিয়ন বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপে থাকবে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং তিনটি প্রধান আবাসিক এলাকা, যেখানে সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে অতি-বিলাসবহুল ভিলা থাকবে। এই প্রকল্পের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম শুরু হচ্ছে ১৯ লাখ দিরহাম থেকে, যা বিলাসবহুল বাড়ির ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলদার ডেভেলপমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন জানান, এই প্রকল্পের প্রতিটি নকশা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা মাথায় রেখে। সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হলো চারপাশের অনুকূল পরিবেশ। আর তাই এই দ্বীপের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বার্ম পার্ক’। এটি একইসঙ্গে সবুজ বাফার জোন, রানিং ট্র্যাক এবং তিনটি সাইক্লিং রুট হিসেবে কাজ করবে। পুরো দ্বীপে থাকবে ১৫ কিলোমিটারের একটি সুসংযুক্ত হাঁটার পথ, যার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ থাকবে ছায়াবৃত, যাতে তীব্র গরমেও বাসিন্দারা সহজেই হেঁটেই পুরো দ্বীপে যাতায়াত করতে পারেন।

বাসিন্দাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে যাত্রা শুরু করবে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘কিংস কলেজ স্কুল উইম্বলডন’-এর একটি শাখা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র এবং জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উদ্ভাবিত ‘ফিটওয়েল’ স্বাস্থ্যকর বিল্ডিং সনদে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম স্কুল। শুধু স্কুলই নয়, ফাহিদ আইল্যান্ড পুরো প্রকল্প হিসেবেই এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সূচকে সর্বোচ্চ থ্রি-স্টার রেটিং পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের নামে আজকাল কেবল একটি ভবনে জিম বা স্পা তৈরি করে সেটিকে ‘ওয়েলনেস’ নাম দেওয়ার যে বাণিজ্যিক প্রবণতা রয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেন এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন। তার মতে, সুস্থতা মানে কেবল ব্যায়ামাগার নয়; এটি এমন এক পরিবেশ তৈরি করা যা মানুষকে প্রতিদিন সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। ফাহিদ আইল্যান্ড মূলত সেই লক্ষ্যেই একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই জীবনযাত্রার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা: মাহদী আমিন

» হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

» মাতৃত্বের অনুভূতিতে আপ্লুত সামান্থা

» উত্তরা থেকে সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীরা

» জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুঁশিয়ারি দিল আইআরজিসি

» টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

» বৈরি আবহাওয়ার কারণে এইচএসসি দিতে না পারাদের ফের সুযোগ, সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

» ইরাক থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

» কুয়েতে রক্তদান কর্মসূচি পালন করল প্রবাসী বাংলাদেশিরা

» সরকারের সুবিধাজনক অবস্থার অসুবিধা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বীপ, আবুধাবিতে তৈরি হচ্ছে সুস্থতার এক স্বর্গরাজ্য

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বর্তমান ব্যস্ত পৃথিবীতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মানুষের মনোযোগ দিন দিন বাড়ছে। কেবল সাময়িক ছুটি কাটাতে নয়, এবার দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় করে তুলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গড়ে উঠছে এক অনন্য দ্বীপ। ‘ফাহিদ আইল্যান্ড’ নামের এই দ্বীপে সম্পূর্ণ সুস্থতা ও ভালো থাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে একটি আধুনিক আবাসন প্রকল্প, যা মানুষের জীবনযাত্রার ধারণাই বদলে দেবে।

আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আলদার ডেভেলপমেন্টের অধীনে ৪০ বিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম বা প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের বুক চিরে গড়ে ওঠা এই ফাহিদ দ্বীপে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বাড়ি তৈরি করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ২.৭ মিলিয়ন বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপে থাকবে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং তিনটি প্রধান আবাসিক এলাকা, যেখানে সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে অতি-বিলাসবহুল ভিলা থাকবে। এই প্রকল্পের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম শুরু হচ্ছে ১৯ লাখ দিরহাম থেকে, যা বিলাসবহুল বাড়ির ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলদার ডেভেলপমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন জানান, এই প্রকল্পের প্রতিটি নকশা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা মাথায় রেখে। সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হলো চারপাশের অনুকূল পরিবেশ। আর তাই এই দ্বীপের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বার্ম পার্ক’। এটি একইসঙ্গে সবুজ বাফার জোন, রানিং ট্র্যাক এবং তিনটি সাইক্লিং রুট হিসেবে কাজ করবে। পুরো দ্বীপে থাকবে ১৫ কিলোমিটারের একটি সুসংযুক্ত হাঁটার পথ, যার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ থাকবে ছায়াবৃত, যাতে তীব্র গরমেও বাসিন্দারা সহজেই হেঁটেই পুরো দ্বীপে যাতায়াত করতে পারেন।

বাসিন্দাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে যাত্রা শুরু করবে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘কিংস কলেজ স্কুল উইম্বলডন’-এর একটি শাখা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র এবং জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উদ্ভাবিত ‘ফিটওয়েল’ স্বাস্থ্যকর বিল্ডিং সনদে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম স্কুল। শুধু স্কুলই নয়, ফাহিদ আইল্যান্ড পুরো প্রকল্প হিসেবেই এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সূচকে সর্বোচ্চ থ্রি-স্টার রেটিং পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের নামে আজকাল কেবল একটি ভবনে জিম বা স্পা তৈরি করে সেটিকে ‘ওয়েলনেস’ নাম দেওয়ার যে বাণিজ্যিক প্রবণতা রয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেন এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন। তার মতে, সুস্থতা মানে কেবল ব্যায়ামাগার নয়; এটি এমন এক পরিবেশ তৈরি করা যা মানুষকে প্রতিদিন সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। ফাহিদ আইল্যান্ড মূলত সেই লক্ষ্যেই একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই জীবনযাত্রার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com