ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সামরিক অধ্যায়ের অবসান ঘটে দুই দেশের মধ্যে এক নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সূচনা হতে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর আলি আল-জাইদি জানান, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার উদ্যোগও নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন বাহিনী চলে যাবে। তাদের জায়গায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে আসবে। ওই তারিখের পর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো গোষ্ঠীকে অস্ত্র বহন করতে দেওয়া হবে না।
জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরাকের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনীর আর প্রয়োজন নেই। একসময় সেখানে প্রায় ২৫০০ মার্কিন সেনা ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করলেও গত কয়েক মাসে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তিনি বলেন, ইরাকের বিপুল তেলসম্পদের কারণে দেশটির সম্ভাবনা অনেক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে একাধিক ব্যবসায়িক চুক্তি হবে। যা উভয় দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। তবে এসব চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করলে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতন ঘটে। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেও ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এসব হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
সূত্র : ডয়চে ভেলে








