ইরান সংঘাত: ব্রিটিশ ঘাঁটিতে নামল মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ অষ্টম দিনে প্রবেশ করেছে। উত্তেজনার এই মুহূর্তে ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছে শক্তিশালী মার্কিন বি-১ ল্যান্সার সুপারসনিক বোমারু বিমান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম বিমানটি গ্লুচেস্টারশায়ারে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে আরও তিনটি বোমারু বিমান সেখানে অবতরণ করে। ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘাঁটি থেকে ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন মিশন শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ইরানে হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা হবে এবং আরও বেশি ফাইটার স্কোয়াড্রন ও বোমারু বিমান এই অভিযানে অংশ নেবে।

এদিকে যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরালো করা হয়েছে। ওমান থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বেশ কিছু ব্রিটিশ নাগরিক আজ ভোরে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ব্রিটিশ নাগরিক দেশে ফিরেছেন। দুবাইয়ে বিস্ফোরণের খবরের পর এমিরেটস এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে তাদের ফ্লাইট বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে তা সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু করেছে। কাতার ও ইতিহাদ এয়ারলাইন্সও লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

অন্যদিকে এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও এখন প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনচ সরকারের এই বিলম্বিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে মিত্র দেশগুলো ব্রিটেনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সরাসরি হামলার আইনগত প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাজ্যের। বর্তমানে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর রণতরী এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: আইটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে হবে: জামায়াত আমির

» মুক্তিযুদ্ধের নামে আ.লীগকে পুনর্বাসন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

» উত্তরায় অসহায়দের জন্য জামায়াতের ‘ইচ্ছেপূরণ’ কর্মসূচি

» জুলুমতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে বদরযুদ্ধ শাশ্বত অনুপ্রেরণার উৎস: চরমোনাই পীর

» মাটির নিচ থেকে পানির ট্যাঙ্কি ভর্তি ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

» ইরান সংঘাত: ব্রিটিশ ঘাঁটিতে নামল মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান

» আলেম-ওলামা ও এতিমদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

» যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

» ছুটির দিনেও কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেন প্রধানমন্ত্রী

» যারা নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করবে না, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইরান সংঘাত: ব্রিটিশ ঘাঁটিতে নামল মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ অষ্টম দিনে প্রবেশ করেছে। উত্তেজনার এই মুহূর্তে ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছে শক্তিশালী মার্কিন বি-১ ল্যান্সার সুপারসনিক বোমারু বিমান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম বিমানটি গ্লুচেস্টারশায়ারে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে আরও তিনটি বোমারু বিমান সেখানে অবতরণ করে। ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘাঁটি থেকে ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন মিশন শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ইরানে হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা হবে এবং আরও বেশি ফাইটার স্কোয়াড্রন ও বোমারু বিমান এই অভিযানে অংশ নেবে।

এদিকে যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরালো করা হয়েছে। ওমান থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বেশ কিছু ব্রিটিশ নাগরিক আজ ভোরে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ব্রিটিশ নাগরিক দেশে ফিরেছেন। দুবাইয়ে বিস্ফোরণের খবরের পর এমিরেটস এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে তাদের ফ্লাইট বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে তা সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু করেছে। কাতার ও ইতিহাদ এয়ারলাইন্সও লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

অন্যদিকে এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও এখন প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনচ সরকারের এই বিলম্বিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে মিত্র দেশগুলো ব্রিটেনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সরাসরি হামলার আইনগত প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাজ্যের। বর্তমানে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর রণতরী এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: আইটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com