ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে শান্তিচুক্তির আলোচনা এগোলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। একদিকে দ্রুত চুক্তির আশাবাদ, অন্যদিকে বাস্তবতার জটিলতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে দেশটির ভেতরেই ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতে থাকলে এই প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, খুব দ্রুতই একটি চুক্তি হতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে আর কোনো বড় অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও সেটি সীমিত পরিসরে কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নির্দিষ্ট রুটে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্যাঙ্কার পারাপারের অনুমতি দিতে পারে। এমনকি প্রতিটি জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক, আর এর বিনিময়ে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়েও কোনো স্পষ্ট সমঝোতা হয়নি।
ইসরায়েল প্রসঙ্গেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট। এই পরিস্থিতি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম। বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং সীমিত নিরাপত্তা সমঝোতাই বাস্তবসম্মত হতে পারে। এমনকি কোনো চুক্তি হলেও তা পুরনো বিরোধেরই নতুন রূপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস








