সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুইজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গুলির ঘটনাটি ঘটে।
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিভাগের (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটল। এ দুই ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পোর্টল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’
পুলিশ আরও বলেছে, তারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল না। বিকেলের দিকে তাদের ফোন দিয়ে সাহায্য চাওয়া হলে ছুটে যায় তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ এক পুরুষ ও এক নারীকে দেখতে পান। পরে ব্যান্ডেজ দিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনের শরীরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকেন তারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কাছে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি চালিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সাহায্যের জন্য পুলিশকে ফোন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ (ডিএইচএস) বলেছে, বর্ডার প্যাট্রল এজেন্টরা ওই দুজনের ওপর গুলি চালিয়েছেন।
এজেন্টদের দাবি, একটি গাড়ি তল্লাশি করার সময় ভেনেজুয়েলার এক দেহ ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য বর্ডার প্যাট্রল এজেন্টদের গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। গাড়িচালকও ওই চক্রের সদস্য ছিলেন।
তবে পোর্টল্যান্ডের মেয়র কিথ উইলসন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘পোর্টল্যান্ড কোনো সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়। প্রশাসনের এ বেপরোয়া পদক্ষেপের ফল প্রাণঘাতী হচ্ছে।’ তিনি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহরে আইসিইর সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে মিনিয়াপোলিস শহরে আইসিইর এক এজেন্টের গুলিতে এক নারী গাড়িচালক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। এসব ঘটনায় মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। অবৈধ বা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান চালানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভের মধ্যে গুলিতে নিহত হওয়ার ওই ঘটনা ঘটে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম রেনি নিকোল গুড (৩৭)। তাদের দাবি, রেনি একজন ‘সহিংস দাঙ্গাকারী’ ছিলেন এবং তিনি আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এ দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তার ক্ষমতার বেপরোয়া ব্যবহারের ফলে ওই নারী নিহত হয়েছেন। আইসিই কর্মকর্তাদের শহর ছাড়ার নির্দেশও দেন তিনি।
তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এ দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তার ক্ষমতার বেপরোয়া ব্যবহারের ফলে ওই নারী নিহত হয়েছেন। আইসিই কর্মকর্তাদের শহর ছাড়ার নির্দেশও দেন তিনি।
শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের যৌথভাবে এ ঘটনা তদন্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরে এফবিআই এককভাবে তদন্তের নিয়ন্ত্রণ নিলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের দাবি, সত্য গোপন করার জন্যই একতরফাভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুই গুলির ঘটনায় মিনিয়াপোলিস ছাড়াও নিউইয়র্ক, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। পোর্টল্যান্ডে এফবিআই কার্যালয়ের সামনে ও মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স








