ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৭ এর আয়োজক দেশ ৩টি – দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া। বিশ্বকাপ সামনে রেখে টুর্নামেন্টের ১২টি ভেন্যুর নাম প্রকাশ করেছে আইসিসি। জোহানেসবার্গে এক অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের ভেন্যুর নাম এবং বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড উন্মোচন করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভেন্যু এবং ব্র্যান্ড নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে আইসিসি। ১২ ভেন্যুর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে ৮ ভেন্যু, ৩ ভেন্যু জিম্বাবুয়েতে এবং ১টি ভেন্যু আছে নামিবিয়ায়। ২৪ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফিরছে আফ্রিকা মহাদেশে।
বিশ্বকাপের ১২ ভেন্যুর মধ্যে ৮টি দক্ষিণ আফ্রিকায়, এগুলো হচ্ছে – জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, টিশওয়ানের সেঞ্চুরিয়ন, কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ডারবানের কিংসমেড ক্রিকেট গ্রাউন্ড, গকেবেরহার সেন্ট জর্জস পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গাউঙ্গ ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং কুগোম্পো সিটির (সাবেক ইস্ট লন্ডন) বাফেলো পার্ক। জিম্বাবুয়ের ৩ ভেন্যু হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসের ফল মুসি-ওয়া-টুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নামিবিয়ার উইন্ডহোয়েকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড সম্পর্কে আইসিসি জানিয়েছে, ‘বিশ্বের সেরা ১৪টি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপে স্বাগতিক তিন দেশ ‘থ্রি নেশনস, ওয়ান হার্টবিট’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে আশাবাদ, বৈচিত্র্য এবং ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায়ের চেতনায় একত্রিত হয়েছে।’
আইসিসি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, ‘১৪তম আসরের এই মেগা টুর্নামেন্টে (আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৭) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেট কমিউনিটি একত্রিত হবে আফ্রিকার বার্তা ‘উবুন্তু’-কে ধারণ করে। ‘উবুন্তু’ একটি দর্শন, যার অর্থ ‘আমি আছি, কারণ আমরা আছি’, অর্থাৎ মানবতা আমাদের সহমর্মিতা, দয়া এবং একে অপরের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমেই সংজ্ঞায়িত হয়।
এই দর্শনটি ‘মেক দ্য সার্কেল বিগার’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ২০২৭ আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মূল প্রতিপাদ্য। এই আসর একত্রিত করবে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ২৯টি স্বীকৃত ভাষা, ভিন্নধর্মী জীবনযাপন এবং নানা পরিচয়ের মানুষের এক বিশাল মোজাইক, যা পুরো অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করে।’
আইসিসি সভাপতি জয় শাহ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘২০২৭ আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পথে এটি (ভেন্যুর নাম ঘোষণা) একটি রোমাঞ্চকর মাইলফলক। আয়োজক শহরগুলোর ঘোষণা এবং টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড উন্মোচনের মাধ্যমে এমন এক যাত্রার সূচনা হলো, যা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের একত্রিত করবে এবং আমাদের খেলাটির সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আসরগুলোর একটিকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে তুলবে।’
জয় শাহ আরও বলেছেন, ‘২৪ বছর পর এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের আফ্রিকায় প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা বিশ্বাস করি, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, প্রবল ক্রিকেট-উন্মাদনা এবং সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যের অনন্য সমন্বয়ে একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপহার দেবে।’
আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্ত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও জাঁকজমকের প্রতীক। দুই দশকেরও বেশি সময় পর এই শীর্ষ আসরের আফ্রিকায় ফেরা এমন একটি মহাদেশকে উদযাপন করবে, যা অসাধারণ মানুষ, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি, শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা এবং খেলাধুলার প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্য পরিচিত। আজ উন্মোচিত প্রাণবন্ত ব্র্যান্ডটি টুর্নামেন্টের শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনাকে তুলে ধরে। একই সঙ্গে প্রতিটি আয়োজক শহর দর্শকদের জন্য আফ্রিকার উষ্ণতা ও বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ এনে দেবে।’
সংযোগ আরও জানান, ‘খেলাটির প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করার বার্তার সমন্বয়ে এই আয়োজন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক, উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।’
১৪ দলের ৫৭ ম্যাচ হবে ৩ দেশের ১২ ভেন্যুতে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে আগে আয়োজক হলেও সিনিয়র দলের কোনো আইসিসি ইভেন্টে এবারই প্রথম আয়োজকের দায়িত্বে থাকছে নামিবিয়া।








