জনরোষে এই সরকার কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!: শিবির সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে সাম্প্রতিক আইন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘দেউলিয়া প্রায় ইসলামী ব্যাংকে দলীয়করণ করার জন্য সব বন্দোবস্ত করেছে নব্য লুটেরা সরকার। জনরোষে এই দলটা কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!’। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে সাদ্দাম বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের ডাকাতদের পুনর্বাসন ও জনগণের অবশিষ্ট অর্থ লুটপাটের দ্বার উন্মুক্ত করলো বিএনপি। ইন্টিরিমের আমলে লুটপাটের কারণে জনগণের জামানত দিতে না পেরে একীভূত ৫টি ব্যাংকের ৪টির মালিকানা ছিল এস আলম গ্রুপের। আজ বিএনপি আইন করে সেগুলো আবার তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করলো। অথচ একীভূত করার সময় সম্মিলিত ব্যাংক চালানোর জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিলের (জনগণের ট্যাক্সের টাকা) থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মুনাফেকির একটা লিমিট থাকা দরকার। বিএনপি সব ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে দেউলিয়া প্রায় ইসলামী ব্যাংকে দলীয়করণ করার জন্য সব বন্দোবস্ত করেছে নব্য লুটেরা সরকার। জনরোষে এই দলটা কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!’

শিবিরি সভাপতি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে বলা ছিল, কোনো ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরবর্তীতে সব অর্থ ফেরত দিলেও তাদের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। তবে সেই বিধান থেকে সরে এসে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’, যেখানে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। নতুন আইনের ফলে একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার ক্ষেত্রে আগের শেয়ারহোল্ডারদের আর আইনি বাধা থাকছে না। এর মাধ্যমে আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের মতো পূর্বতন নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষগুলোর জন্যও পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান ডিফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ। অনেকে বলে সালাহউদ্দিন সাহেবের অর্থের যোগানদাতা হচ্ছে ব্যাংক ডাকাত, লুটেরা, ফ্যাসিবাদের দোসর এস আলম গ্রুপ।’

তিন আরও বলেন, ‘৯৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে লুট করেছে এই গ্রুপ। এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আবার মালিকানা ফিরিয়ে নিয়ে বিরদর্পে ফিরছে এই ব্যাংক ডাকাত। সংসদ, আইন, সংবিধান—সবই দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রতারক রাজনীতিবিদদের সম্পদ লুটপাটের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘আমার প্রশ্ন—ইতিপূর্বে এসব গ্রুপের ব্যাপারে সরব পার্থর মতো তথাকথিত সুশীল এমপিরা কি গলার রগ উঁচু করে কথা বলার সাহস করবেন, নাকি মেরুদণ্ডহীন দলকানা অবস্থান নেবেন?’ সূএ: বার্তা বাজার ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পহেলা বৈশাখে বৈরিতা নয়, সংহতি ও নতুন উদ্দীপনার আহ্বান ফখরুলের

» ভারতের সঙ্গে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে পদক্ষেপ নিতে হবে: স্পিকার

» নওগাঁয় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

» বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

» তথ্যপ্রবাহের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য : তথ্যমন্ত্রী

» ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদের জামিন নামঞ্জুর

» জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি : নাহিদ ইসলাম

» অস্তিত্ব

» গণভোটের রায় মেনে নিন, না হলে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে :গোলাম পরওয়ার

» ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জনরোষে এই সরকার কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!: শিবির সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে সাম্প্রতিক আইন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘দেউলিয়া প্রায় ইসলামী ব্যাংকে দলীয়করণ করার জন্য সব বন্দোবস্ত করেছে নব্য লুটেরা সরকার। জনরোষে এই দলটা কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!’। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে সাদ্দাম বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের ডাকাতদের পুনর্বাসন ও জনগণের অবশিষ্ট অর্থ লুটপাটের দ্বার উন্মুক্ত করলো বিএনপি। ইন্টিরিমের আমলে লুটপাটের কারণে জনগণের জামানত দিতে না পেরে একীভূত ৫টি ব্যাংকের ৪টির মালিকানা ছিল এস আলম গ্রুপের। আজ বিএনপি আইন করে সেগুলো আবার তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করলো। অথচ একীভূত করার সময় সম্মিলিত ব্যাংক চালানোর জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিলের (জনগণের ট্যাক্সের টাকা) থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মুনাফেকির একটা লিমিট থাকা দরকার। বিএনপি সব ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে দেউলিয়া প্রায় ইসলামী ব্যাংকে দলীয়করণ করার জন্য সব বন্দোবস্ত করেছে নব্য লুটেরা সরকার। জনরোষে এই দলটা কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!’

শিবিরি সভাপতি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে বলা ছিল, কোনো ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরবর্তীতে সব অর্থ ফেরত দিলেও তাদের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। তবে সেই বিধান থেকে সরে এসে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’, যেখানে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। নতুন আইনের ফলে একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার ক্ষেত্রে আগের শেয়ারহোল্ডারদের আর আইনি বাধা থাকছে না। এর মাধ্যমে আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের মতো পূর্বতন নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষগুলোর জন্যও পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান ডিফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ। অনেকে বলে সালাহউদ্দিন সাহেবের অর্থের যোগানদাতা হচ্ছে ব্যাংক ডাকাত, লুটেরা, ফ্যাসিবাদের দোসর এস আলম গ্রুপ।’

তিন আরও বলেন, ‘৯৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে লুট করেছে এই গ্রুপ। এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আবার মালিকানা ফিরিয়ে নিয়ে বিরদর্পে ফিরছে এই ব্যাংক ডাকাত। সংসদ, আইন, সংবিধান—সবই দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রতারক রাজনীতিবিদদের সম্পদ লুটপাটের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘আমার প্রশ্ন—ইতিপূর্বে এসব গ্রুপের ব্যাপারে সরব পার্থর মতো তথাকথিত সুশীল এমপিরা কি গলার রগ উঁচু করে কথা বলার সাহস করবেন, নাকি মেরুদণ্ডহীন দলকানা অবস্থান নেবেন?’ সূএ: বার্তা বাজার ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com