বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আফ্রিকার শক্ত অবস্থান, নেতৃত্বে চার দেশ

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের বিকল্প সরবরাহ উৎস হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আফ্রিকা। বিপুল তেল উৎপাদন সত্ত্বেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর আফ্রিকার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্ববাজারে বড় তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে আফ্রিকা।বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে মহাদেশটি থেকে, যেখানে প্রতিদিন উত্তোলন হয় প্রায় ১ কোটি ব্যারেল। বিশেষ করে নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার উৎপাদন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাইজেরিয়ায় দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়েছে। এ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশটি আফ্রিকার শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা আফ্রিকান অপরিশোধিত তেলের ৫৫ শতাংশের বেশি এসেছে নাইজেরিয়া থেকে।

আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে লিবিয়ায়। দেশটির মজুদের পরিমাণ প্রায় ৪৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ব্যারেল। ২০২৫ সালে লিবিয়া প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।

তেলের উৎপাদনে এরপর রয়েছে আলজেরিয়া। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলা ধারাবাহিকভাবে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।

তবে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশকে। এর অন্যতম কারণ স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিশোধন সক্ষমতার অভাব। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ায় দৈনিক ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার দাঙ্গোতে শোধনাগার পুরোপুরি চালু হয়েছে। বড় আকারের এ ধরনের অবকাঠামো কার্যক্রমে আসায় আফ্রিকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

এদিকে, ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওপেকের ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের দৈনিক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৯ লাখ ব্যারেল। দুই দেশ মিলে বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ করেছে। তথ্যসূত্র : ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

» বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

» জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

» শান্তি চাই, অশান্তি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

» খেলার মাঠে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি উপসচিবকে

» টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে ‘এমপি-পুলিশ’ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিবে: ডিএমপি কমিশনার

» রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াত অবস্থান নেবে: গোলাম পরওয়ার

» রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানালেন নাহিদ ইসলাম

» জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় বেশিরভাগ সিট ফাঁকা ছিল: শিশির মনির

» চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার লড়াই, অনেকটা পথ একাই হেঁটেছি: পাটওয়ারী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আফ্রিকার শক্ত অবস্থান, নেতৃত্বে চার দেশ

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের বিকল্প সরবরাহ উৎস হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আফ্রিকা। বিপুল তেল উৎপাদন সত্ত্বেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর আফ্রিকার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্ববাজারে বড় তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে আফ্রিকা।বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে মহাদেশটি থেকে, যেখানে প্রতিদিন উত্তোলন হয় প্রায় ১ কোটি ব্যারেল। বিশেষ করে নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার উৎপাদন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাইজেরিয়ায় দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়েছে। এ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশটি আফ্রিকার শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা আফ্রিকান অপরিশোধিত তেলের ৫৫ শতাংশের বেশি এসেছে নাইজেরিয়া থেকে।

আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে লিবিয়ায়। দেশটির মজুদের পরিমাণ প্রায় ৪৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ব্যারেল। ২০২৫ সালে লিবিয়া প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।

তেলের উৎপাদনে এরপর রয়েছে আলজেরিয়া। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলা ধারাবাহিকভাবে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করেছে।

তবে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশকে। এর অন্যতম কারণ স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিশোধন সক্ষমতার অভাব। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ায় দৈনিক ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার দাঙ্গোতে শোধনাগার পুরোপুরি চালু হয়েছে। বড় আকারের এ ধরনের অবকাঠামো কার্যক্রমে আসায় আফ্রিকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

এদিকে, ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওপেকের ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের দৈনিক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৯ লাখ ব্যারেল। দুই দেশ মিলে বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ করেছে। তথ্যসূত্র : ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com