অপূর্ব লাল সরকার ,প্রতিনিধি, আগৈলঝাড়া (বরিশাল): বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুবিধা, সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে জনগণের জ্ঞান, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করা হয়।
গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ছিদ্দিকুর রহমান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এজিএম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. লুৎফর রহমান, বিদ্যুৎ অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শক ইমরান মীর, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ হোসেন ফিরোজ মোল্লা, ব্যবসায়ী এসএম আলমগীর, মেহেদী হাসান, আলামিন মোল্লা, নাইম মিয়া, বাশাইল এলাকার ব্যবসায়ী শামীম সিকদার, বাগধা এলাকার রাব্বি হাওলাদার, শাকিল মাহমুদ, হাবিব শেখ, আলামিন মোল্লা, শাকিল হাওলাদার ও আ. গাফফার হাওলাদার প্রমুখ।
এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভার শুরুতে “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা” বিষয়ক নীতিপত্র উপস্থাপন করেন এজিএম অতিরিক্ত দায়িত্ব লুৎফর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। এই নির্ভরতা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা দিয়ে প্রায় ৩২,৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারে।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঘাটতি, প্রচলিত ভুল ধারণা, প্রাথমিক বিনিয়োগের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গ্রিড সংযোগ, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক সংলাপ ও অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এ ধরণের উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।








