এক টিকিটে তিনবার লাভ, ফিফার কোটি টাকার বাণিজ্যে আইনি খড়্গ

ছবি সংগৃহীত

 

স্পোর্টস ডেস্ক : স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মহারণ দেখার টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে সাধারণ মানের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্যই দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ টাকারও বেশি।

পিচের কাছাকাছি বা প্রথম সারির ক্যাটাগরি-১ টিকিটগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৯ হাজার ৯৯৫ থেকে শুরু করে প্রায় ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে ভিআইপি ও করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজগুলোর মূল্য ছুঁয়েছে মাথাপিছু প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা এই ফাইনালকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত করেছে।

সবচেয়ে বড় কাণ্ড ঘটছে ফিফা অনুমোদিত অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় বা রিসেল মার্কেটে। এখানে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। কয়েক মাস আগে মাঠের ঠিক পেছনে লোয়ার বোলের চারটি টিকিটের প্রতিটির দাম উঠেছিল রেকর্ড ২৩ লাখ ডলার, যার পুরো প্যাকেজের মূল্য ছিল ৯০ লাখ ডলারের বেশি। ফাইনালের ঠিক আগে ফিফার অফিশিয়াল পোর্টালে এই টিকিটের দাম সাড়ে সাত হাজার ডলার থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। আসলে এই ফাইনালের কোনো নির্দিষ্ট অফিশিয়াল দাম নেই; টিকিটের ক্যাটাগরি, প্রাপ্যতা এবং সেই মুহূর্তের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একই সারিতে বসা দুই দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে টিকিট কিনেছেন এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক।

তবে এই টিকিটের বিশ্বজয়ের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে ফিফার আয়ের অভিনব কৌশলে। একই টিকিট হাতবদল হওয়ার প্রতিটি ধাপে ফিফা মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছে। প্রথমবার টিকিট বিক্রির সময় ফিফা মূল দামটি পায়। এরপর কোনো ক্রেতা যদি সেই টিকিট আবার অফিশিয়াল রিসেল মার্কেটে তোলেন, তবে ফিফা বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেয় এবং নতুন ক্রেতার কাছ থেকেও অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ফি আদায় করে। অর্থাৎ, আইনগতভাবে বৈধ এই প্রক্রিয়ায় একই টিকিট থেকে তিনবার রাজস্ব পকেটে পুড়ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফা দাবি করে যে তারা রিসেল বা পুনর্বিক্রয়ের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, তবে টিকিট যত চড়া দামে বিক্রি হয়, ফিফার লাভের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়।

এই রমরমা বাণিজ্যের মাঝেই টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহে ফিফাকে পড়তে হয়েছে বড় ধরনের আইনি জটিলতায়। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আদালত এক নিষেধাজ্ঞায় ফিফাকে তাদের রিসেল প্ল্যাটফর্মের কিছু কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এটি রবিবারের ফাইনালে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। শুধু জার্মানিই নয়, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলরা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রির নানা অসংগতি নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। ডেমোক্রেটিক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিতিয়া জেমসের অভিযোগ, অনেক ভক্ত সবচেয়ে দামি ক্যাটাগরি-১ টিকিট কিনেও শেষ পর্যন্ত মাঠ থেকে বেশ দূরের ক্যাটাগরি-২ আসনে বসে খেলা দেখার টিকিট পেয়েছেন। কৃত্রিমভাবে টিকিটের সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার এই অনৈতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এখন মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সূত্র: মার্কা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ভ্যানচালক নিহত

» জনস্বার্থে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি: মন্ত্রী টুকু

» বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

» এআই কনটেন্ট শনাক্তে নতুন উদ্যোগ টিকটকের

» পাকা আমের সন্দেশ তৈরির রেসিপি জেনে নিন

» দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় নিহত ৮, মোট প্রাণহানি ৩৮

» আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি : মির্জা ফখরুল

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১১ জন গ্রেফতার

» ‘ফ্লপ সিনেমা’ বিতর্কে আলিয়ার নামে ভাইরাল পোস্ট

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

এক টিকিটে তিনবার লাভ, ফিফার কোটি টাকার বাণিজ্যে আইনি খড়্গ

ছবি সংগৃহীত

 

স্পোর্টস ডেস্ক : স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মহারণ দেখার টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে সাধারণ মানের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্যই দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ টাকারও বেশি।

পিচের কাছাকাছি বা প্রথম সারির ক্যাটাগরি-১ টিকিটগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৯ হাজার ৯৯৫ থেকে শুরু করে প্রায় ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে ভিআইপি ও করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজগুলোর মূল্য ছুঁয়েছে মাথাপিছু প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা এই ফাইনালকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত করেছে।

সবচেয়ে বড় কাণ্ড ঘটছে ফিফা অনুমোদিত অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় বা রিসেল মার্কেটে। এখানে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। কয়েক মাস আগে মাঠের ঠিক পেছনে লোয়ার বোলের চারটি টিকিটের প্রতিটির দাম উঠেছিল রেকর্ড ২৩ লাখ ডলার, যার পুরো প্যাকেজের মূল্য ছিল ৯০ লাখ ডলারের বেশি। ফাইনালের ঠিক আগে ফিফার অফিশিয়াল পোর্টালে এই টিকিটের দাম সাড়ে সাত হাজার ডলার থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। আসলে এই ফাইনালের কোনো নির্দিষ্ট অফিশিয়াল দাম নেই; টিকিটের ক্যাটাগরি, প্রাপ্যতা এবং সেই মুহূর্তের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে একই সারিতে বসা দুই দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে টিকিট কিনেছেন এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক।

তবে এই টিকিটের বিশ্বজয়ের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে ফিফার আয়ের অভিনব কৌশলে। একই টিকিট হাতবদল হওয়ার প্রতিটি ধাপে ফিফা মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছে। প্রথমবার টিকিট বিক্রির সময় ফিফা মূল দামটি পায়। এরপর কোনো ক্রেতা যদি সেই টিকিট আবার অফিশিয়াল রিসেল মার্কেটে তোলেন, তবে ফিফা বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেয় এবং নতুন ক্রেতার কাছ থেকেও অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ফি আদায় করে। অর্থাৎ, আইনগতভাবে বৈধ এই প্রক্রিয়ায় একই টিকিট থেকে তিনবার রাজস্ব পকেটে পুড়ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফা দাবি করে যে তারা রিসেল বা পুনর্বিক্রয়ের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, তবে টিকিট যত চড়া দামে বিক্রি হয়, ফিফার লাভের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়।

এই রমরমা বাণিজ্যের মাঝেই টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহে ফিফাকে পড়তে হয়েছে বড় ধরনের আইনি জটিলতায়। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আদালত এক নিষেধাজ্ঞায় ফিফাকে তাদের রিসেল প্ল্যাটফর্মের কিছু কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এটি রবিবারের ফাইনালে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। শুধু জার্মানিই নয়, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলরা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রির নানা অসংগতি নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। ডেমোক্রেটিক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিতিয়া জেমসের অভিযোগ, অনেক ভক্ত সবচেয়ে দামি ক্যাটাগরি-১ টিকিট কিনেও শেষ পর্যন্ত মাঠ থেকে বেশ দূরের ক্যাটাগরি-২ আসনে বসে খেলা দেখার টিকিট পেয়েছেন। কৃত্রিমভাবে টিকিটের সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার এই অনৈতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এখন মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সূত্র: মার্কা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com