ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচিতে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। পাঁচ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ তিনি নিজে উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
বলা হয়েছে, গত ৩ জুলাই উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করে কিম জং উন যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা যাচাইয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা তদারকি করেন। এ সময় কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, জাহাজের প্রধান ও স্বয়ংক্রিয় কামানের নিখুঁত গোলাবর্ষণ, বৈদ্যুতিক যুদ্ধব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ব্যবস্থার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
পরীক্ষা শেষে কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে যুদ্ধজাহাজটিকে সরাসরি দায়িত্ব পালনের জন্য নৌবাহিনীতে মোতায়েনের নির্দেশ দেন।
‘ক্যাং কন’ যুদ্ধজাহাজটি প্রথম ২০২৫ সালের মে মাসে উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়ার চংজিন বন্দরে উদ্বোধনের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে জাহাজটি আংশিক উল্টে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কিম জং উন।
পরে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে দীর্ঘদিন মেরামতের পর চলতি বছরের জুনে যুদ্ধজাহাজটি আবার পানিতে নামানো হয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাশাপাশি নৌবাহিনীর আধুনিকায়নেও এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কিম জং উন। এর আগে জুন মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম পাঁচ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ ‘চোয়ে হিয়ন’ নৌবাহিনীতে যুক্ত করে। সে সময় কিম ঘোষণা দেন, দেশটির নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পরিকল্পনা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের ধারণা, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার ফলেই এ ধরনের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।








