সুশান্তের মৃত্যুর পর কেউ কাজ দেয়নি: রিয়া চক্রবর্তী

ছবি সংগৃহীত

 

বিনোদন ডেস্ক :২০২০ সালে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় ঝড়টি এসেছিল বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর জীবনে। একদিকে প্রেমিককে হারিয়ে কাতর। অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষকে হত্যার অভিযোগ তাঁর কাঁধে। হত্যার অভিযোগে কারাবাস বরণ করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে ভাগ্য সহায় হওয়ায় সুশান্ত হত্যা মামলা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলেছে। কিন্তু ততদিনে শেষ হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার!

সুশান্ত কাণ্ডের পর কেউ কাজ দিত না। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় অভিনেত্রীর ভাইসহ চরম অর্থকষ্টে দিন পার করেছেন। কঠিন সময় পার করে রিয়া এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।

rhea-ezgif.com-webp-to-jpg-converter_20250324_185241943

নেহা ধুপিয়ার সঙ্গে আলাপকালে রিয়া স্বীকার করেন, নিজের ভাই-বোনের সঙ্গে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ ছিল না। পারিবারিক ও পেশাদার সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বেশ জটিল। রিয়া জানান, ভাই-বোনের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে যদি কোনো কারণে ভাইয়ের ওপর রাগ থাকে, তবে কাজের জায়গায় ছোট কোনো ভুল হলেও সেই রাগটা অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। তবে ঝামেলার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক দিক হলো অন্ধের মতো বিশ্বাস করা যায়।

ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডের নাম চূড়ান্ত করার আগে রিয়া বেশ কিছু নাম ভেবেছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমাদের ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডের নাম চূড়ান্ত করার আগে আমি বেশ কিছু অদ্ভুত নাম ভেবেছিলাম। সত্যি বলতে, আমার প্রথম পছন্দ ছিল ‘চুড়েল কা বদলা’ (পেত্নীর প্রতিশোধ)! এই নামটা নিয়ে আমি এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে, টি-শার্ট বা অন্যান্য জিনিসের ডিজাইন কেমন হবে তাও মনে মনে সাজিয়ে ফেলেছিলাম। তখন সবাই আমাকে বুঝিয়েছিল নামটা নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে। এটা রাখা ঠিক হবে না।”

তিনি যোগ করেন, “এরপর আমার মাথায় ‘ব্ল্যাক শিপ’-এর কথা আসে। কারণ, ওই কঠিন সময়ে সমাজের চোখে আমরা নিজেদের এক প্রকার ‘ব্ল্যাক শিপ’ বা কুলাঙ্গার মনে করতাম। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিই সব অতীতকে পেছনে ফেলে দিতে হবে। জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবে আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের নাম রাখি ‘চ্যাপ্টার ২’।”

রিয়া আরও বলেন, “২০২০ সালের ঘটনার পর আমার সব কাজ চলে গিয়েছিল। কোনো পরিচালক বা প্রযোজক আমাকে সিনেমায় নিচ্ছিলেন না। চারপাশ থেকে সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঠিক একই সময়ে শৌভিককেও কেউ কোনো চাকরি দিচ্ছিল না। আমাদের দুজনের ক্যারিয়ার তখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। কিন্তু সেই কষ্টের দিনগুলোতেও আমাদের ভাই-বোনের পারস্পরিক বিশ্বাস আর একে অপরের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত আমাদের সব বাধা পেরিয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে ভারতীয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) জানায়, তদন্তে হত্যার অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুশান্ত আত্মহত্যা করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের ওপর নির্ভর করে রিয়াকে হত্যার অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘লং মার্চের’ নামে বিরোধীদল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে: রিজভী

» মাতৃত্বের পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ, বিপাশার ক্ষোভ

» ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে : সড়ক প্রতিমন্ত্রী

» ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর

» রক্তপাতের বিনিময়ে আসা গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

» বিধান লঙ্ঘন করে এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ কেন, হান্নানের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বললেন সচল কোম্পানি বন্ধ করা যায় না

» বিনা সুদে কৃষিঋণ বিতরণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই: সংসদে অর্থমন্ত্রী

» রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআর আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল

» সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী, পাস না করার আহ্বান জামায়াত এমপির

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সুশান্তের মৃত্যুর পর কেউ কাজ দেয়নি: রিয়া চক্রবর্তী

ছবি সংগৃহীত

 

বিনোদন ডেস্ক :২০২০ সালে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় ঝড়টি এসেছিল বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর জীবনে। একদিকে প্রেমিককে হারিয়ে কাতর। অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষকে হত্যার অভিযোগ তাঁর কাঁধে। হত্যার অভিযোগে কারাবাস বরণ করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে ভাগ্য সহায় হওয়ায় সুশান্ত হত্যা মামলা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলেছে। কিন্তু ততদিনে শেষ হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার!

সুশান্ত কাণ্ডের পর কেউ কাজ দিত না। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় অভিনেত্রীর ভাইসহ চরম অর্থকষ্টে দিন পার করেছেন। কঠিন সময় পার করে রিয়া এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।

rhea-ezgif.com-webp-to-jpg-converter_20250324_185241943

নেহা ধুপিয়ার সঙ্গে আলাপকালে রিয়া স্বীকার করেন, নিজের ভাই-বোনের সঙ্গে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ ছিল না। পারিবারিক ও পেশাদার সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বেশ জটিল। রিয়া জানান, ভাই-বোনের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে যদি কোনো কারণে ভাইয়ের ওপর রাগ থাকে, তবে কাজের জায়গায় ছোট কোনো ভুল হলেও সেই রাগটা অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। তবে ঝামেলার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক দিক হলো অন্ধের মতো বিশ্বাস করা যায়।

ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডের নাম চূড়ান্ত করার আগে রিয়া বেশ কিছু নাম ভেবেছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমাদের ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডের নাম চূড়ান্ত করার আগে আমি বেশ কিছু অদ্ভুত নাম ভেবেছিলাম। সত্যি বলতে, আমার প্রথম পছন্দ ছিল ‘চুড়েল কা বদলা’ (পেত্নীর প্রতিশোধ)! এই নামটা নিয়ে আমি এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে, টি-শার্ট বা অন্যান্য জিনিসের ডিজাইন কেমন হবে তাও মনে মনে সাজিয়ে ফেলেছিলাম। তখন সবাই আমাকে বুঝিয়েছিল নামটা নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে। এটা রাখা ঠিক হবে না।”

তিনি যোগ করেন, “এরপর আমার মাথায় ‘ব্ল্যাক শিপ’-এর কথা আসে। কারণ, ওই কঠিন সময়ে সমাজের চোখে আমরা নিজেদের এক প্রকার ‘ব্ল্যাক শিপ’ বা কুলাঙ্গার মনে করতাম। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিই সব অতীতকে পেছনে ফেলে দিতে হবে। জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবে আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের নাম রাখি ‘চ্যাপ্টার ২’।”

রিয়া আরও বলেন, “২০২০ সালের ঘটনার পর আমার সব কাজ চলে গিয়েছিল। কোনো পরিচালক বা প্রযোজক আমাকে সিনেমায় নিচ্ছিলেন না। চারপাশ থেকে সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঠিক একই সময়ে শৌভিককেও কেউ কোনো চাকরি দিচ্ছিল না। আমাদের দুজনের ক্যারিয়ার তখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। কিন্তু সেই কষ্টের দিনগুলোতেও আমাদের ভাই-বোনের পারস্পরিক বিশ্বাস আর একে অপরের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত আমাদের সব বাধা পেরিয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে ভারতীয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) জানায়, তদন্তে হত্যার অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুশান্ত আত্মহত্যা করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের ওপর নির্ভর করে রিয়াকে হত্যার অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com