ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন, কৃষকদের বিনা সুদে কৃষিঋণ বিতরণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংক (অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি) এর ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে।
তিনি জানান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯০২৯ .৬৭ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮.৭৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮১৩১.০৯ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫৩৯৬.৬৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯২৮১.৭৪ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫০৪৮.৩৯ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষকদের সুদবিহীন কোনো ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষকদের মাঝে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ব্যাংক আমানতদারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত আমানত গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ করে থাকে। সংগৃহীত আমানতের ওপর ব্যাংক কর্তৃক আমানতদারীদের সুদ প্রদান করতে হয় বিধায় প্রচলিত নিয়মে ব্যাংকের পক্ষে গ্রাহকদের সুদহীন ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয় না।
পরে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান ও পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগারের একটি করে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনা জামানতে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ বিতরণের কোনো পরিকল্পনাও আপাতত নেই। তবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এখনো কৃষকদের সহজে ঋণ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।








