ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : নীরাজ শর্মা নামক এক ভারতীয়সহ ১৭ বিদেশীর মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে। গ্রীনকার্ড পাবার সময় থেকে নাগরিকত্ব গ্রহণের বিভিন্ন পর্বে মিথ্যাচার, সত্য গোপন করার পাশাপাশি প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরই ইউএস সিআইএস (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস)’র পক্ষ থেকে বিচার বিভাগে এই আবেদন জানানোর তথ্য সোমবার জানায় হোয়াইট হাউজ।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকেই অভিবাসন-বিরোধী নানা পদক্ষেপের মধ্যে একইসাথে ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনাটি সবচেয়ে কঠোরতার সামিল বলে অভিবাসন নিয়ে কর্মরতরা মন্তব্য করেছেন।
নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় কর্তৃপক্ষের সাথে মিথ্যাচার/প্রতারণার দায়ে এর আগে ১৯৯০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ২৭ বছরে মোট ২৯৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে অর্থাৎ বার্ষিক গড়ে ১১ জন এমন আচরণের সামিল হন। ট্রাম্পের এই আমলের চলতি জুনে ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আবেদন জানানোর ঘটনাটি অভিবাসন-সমাজে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ বছরের মে মাসেও বেশ কয়েক ডজন বিদেশীর নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানানো হয় বিচার বিভাগে।
বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী নাগরিকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় (ভাই/বোন/স্বামী/স্ত্রী) ছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি লাভ করেন এবং টানা ৫ বছর পর্যন্ত বসবাসের পর সংশ্লিষ্টরা নাগরিকত্বের আবেদন জানান। এ ধরনের নাগরিকরা ‘ন্যাচারালাইজড সিটিজেন’ হিসেবে স্বীকৃত অর্থাৎ তারাও যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা (প্রেসিডেন্ট হওয়া ছাড়া) ভোগের অধিকার পান। তবে কেউ যদি গুরুতর কোন অপরাধে লিপ্ত থাকার তথ্য গোপন করেন কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের সময় থেকে নাগরিকত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন এবং তা যদি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে-তবেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর কর্তৃপক্ষ ন্যাচারালাইজড সিটিজেনশিপ কেড়ে নেওয়ার আইন কার্যকর করতে অধিকতর মনোযোগী হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আমলে তা আরও তীব্র করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থি অর্থাৎ ইসরায়েলের আগ্রাসী তৎপরতার প্রতিবাদকারীরাও এমন পদক্ষেপের ভিকটিম হয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এ সংবাদদাতাকে জানান, নিউজার্সিস্থ ‘ম্যাগনাভিশন’ নামক স্ট্যাফিং কোম্পানির মালিক হিসেবে নীরাজ শর্মা কর্তৃক ১১ ভারতীয়কে এইচ-১বি ভিসায় (উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী) যুক্তরাষ্ট্রে আনার আবেদনে প্রতারণার আশ্রয় নেন এবং ভুয়া ও মিথ্যা ডক্যুমেন্ট সাবমিট করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও ২০১৭ সালে নাগরিকত্ব গ্রহণের ইন্টারভিউ’র সময় মিথ্যাচার করেছেন এবং জাল ডক্যুমেন্ট সাবমিট করেছিলেন দক্ষ কর্মীর। ১৭ জনের অন্যরা হলেন মেক্সিকান, হাইতিয়ান, কলম্বিয়ান, কিউবার নাগরিকরা আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নী জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) টোড ব্ল্যাঙ্ক বলেছেন, এমন অপকর্মে লিপ্তদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধী অভিবাসীরা অতীতের জঘন্য অপরাধের তথ্য গোপন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে কিংবা মাদকপাচার অথবা যৌন হয়রানিতে লিপ্ত থাকার তথ্য প্রকাশ না করার ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কোআইন মুলিন বলেন, এ ধরনের ন্যাচারালাইজড সিটিজেনদের শনাক্ত ও নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে। সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন








