ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া (BAOA)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ২০২৬।
রবিবার (১৯ জুলাই) সিডনির মিন্টুতে ধর্মীয় সম্প্রীতি, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব, কমিউনিটির ঐক্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ উপস্থাপনায় সাজানো এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক অতিথি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম অতিথিদের স্বাগত জানান এবং সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এমপি, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ডেলি এমপি, ক্যাম্পবেলটাউনের লর্ড মেয়র ডার্সি লাউন্ড, ডেভিড মনক্রিফ এমপি, নাথান হ্যাগার্টি এমপিসহ বিশিষ্ট অতিথিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। এছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি ও অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র আল-কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং Acknowledgement of Country-এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান জানানো হয়।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে BAOA-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এমপি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির অবদানকে উচ্চ প্রশংসা করেন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনে তাদের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট এমপি, লর্ড মেয়র ডার্সি লাউন্ড, অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ডেলি এমপি, ডেভিড মনক্রিফ এমপি এবং নাথান হ্যাগার্টি এমপি।
অনুষ্ঠানে ‘চলন্তিকা’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি প্রিমিয়ার, ফেডারেল মন্ত্রী ও লর্ড মেয়রের হাতে সম্মাননা স্মারক (Crest) তুলে দেওয়া হয় এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে স্মারক আলোকচিত্র ধারণ করা হয়। বক্তব্য দেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলর ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, এবং ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান।
নৈশভোজের পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থাপনায় ছিলেন পুরবী পারমিতা বোস ও কিশওয়ার আখতার। উদ্বোধনী নৃত্যে মঞ্চ মাতিয়ে তোলে অর্পিতা সোম ড্যান্স গ্রুপ। এরপর দর্শকদের মুগ্ধ করে নাট্যকার বেলাল হোসেন ঢালী রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘প্রবাসীর পাংখা’। নাটকে অভিনয় করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মাজনুন মিজান, জুই সেন তুলি, তানিম মান্নানসহ অন্যান্য শিল্পীরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে একক নৃত্য পরিবেশন করেন আদরিতা আকাশ। সংগীত পরিবেশন করেন মিতা আতিক, প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা বুলবুল আহমেদ-এর কন্যা ঐন্দ্রিলা আহমেদ, এবং চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠখ্যাত শিল্পী মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানের শেষদিকে ঐন্দ্রিলা আহমেদ ও মেহেদী হাসানের দ্বৈত সংগীত দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর, মিডিয়া পার্টনার, টেকনিক্যাল টিম এবং উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে কনভেনর মোবারক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এবারের আয়োজনে ছিল নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। নিবেদিতপ্রাণ নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকগন শৃঙ্খলা রক্ষা, অতিথি অভ্যর্থনা ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথি ও কমিউনিটির সদস্যরা। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








