শিশুর আকিকা না করে টাকা দান করা যাবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সন্তানের জন্মের পর আকিকা করা ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নেক আমল। তবে আধুনিক সময়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, আকিকার জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি না করে সেই অর্থ কোনো জনকল্যাণমূলক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে দান করে দিলে আকিকার সওয়াব পাওয়া যাবে কি না।

আলেমদের মতে, আকিকা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়, বরং এটি একটি মুস্তাহাব বা ঐচ্ছিক নেক আমল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আকিকার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু রক্ত প্রবাহিত করা বা কোরবানি করা। শরিয়ত নির্ধারিত এই বিশেষ আমলটির মাধ্যমেই আকিকার জন্য ঘোষিত ফজিলত ও সওয়াব হাসিল হয়।

যদি কেউ আকিকার পশুর সমপরিমাণ অর্থ কোনো চ্যারিটি বা কল্যাণমূলক সংস্থায় দান করে দেন, তবে সাধারণ সদকা বা দানের সওয়াব পাওয়া গেলেও তা আকিকা হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, আকিকার মাধ্যমে যে বিশেষ বরকত বা সওয়াব পাওয়ার কথা ছিল, তা শুধু পশু জবাই করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, ইবাদতের ধরণ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যে আমল যেভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। তাই সন্তানের কল্যাণে আকিকার সওয়াব পেতে হলে পশু জবাই করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সাধারণ দান-সদকা অন্য সময় বা অতিরিক্ত হিসেবে করা যেতে পারে, কিন্তু তা আকিকার বিকল্প হতে পারে না।

সন্তান জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম। এক হাদিসে সপ্তম দিনে আকিকা করার কথা বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৪)

তাই সম্ভব হলে সপ্তম দিনেই আকিকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ তম দিনে বা একুশতম দিনে করা ভালো। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আকিকা সপ্তম দিনে হওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে। এবং তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৬৯)  সূএ : ঢাকা পোস্ট ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

» ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও মো. রীদওয়ানুল হক

» মৌলভীবাজারে নতুন পরিবেশ বান্ধব গ্রামীণফোন সেন্টারের যাত্রা শুরু

» বুয়েট ও চুয়েটে হুয়াওয়ের ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

» ১ জুলাই কাজী জাফর আহমদ এর ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী

» স্মার্টফোনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হওয়ার সুযোগ

» বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০ ফল

» আনারস-শসা দিয়ে তৈরি করুন ভিন্ন স্বাদের সালাদ

» গুগল ম্যাপস আপনাকে কি ভুল রাস্তা দেখাচ্ছে? এই সেটিং বদলে নিন এখনই

» অতিরিক্ত করলা খেলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শিশুর আকিকা না করে টাকা দান করা যাবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সন্তানের জন্মের পর আকিকা করা ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নেক আমল। তবে আধুনিক সময়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, আকিকার জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি না করে সেই অর্থ কোনো জনকল্যাণমূলক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে দান করে দিলে আকিকার সওয়াব পাওয়া যাবে কি না।

আলেমদের মতে, আকিকা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়, বরং এটি একটি মুস্তাহাব বা ঐচ্ছিক নেক আমল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আকিকার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু রক্ত প্রবাহিত করা বা কোরবানি করা। শরিয়ত নির্ধারিত এই বিশেষ আমলটির মাধ্যমেই আকিকার জন্য ঘোষিত ফজিলত ও সওয়াব হাসিল হয়।

যদি কেউ আকিকার পশুর সমপরিমাণ অর্থ কোনো চ্যারিটি বা কল্যাণমূলক সংস্থায় দান করে দেন, তবে সাধারণ সদকা বা দানের সওয়াব পাওয়া গেলেও তা আকিকা হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, আকিকার মাধ্যমে যে বিশেষ বরকত বা সওয়াব পাওয়ার কথা ছিল, তা শুধু পশু জবাই করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, ইবাদতের ধরণ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যে আমল যেভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। তাই সন্তানের কল্যাণে আকিকার সওয়াব পেতে হলে পশু জবাই করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সাধারণ দান-সদকা অন্য সময় বা অতিরিক্ত হিসেবে করা যেতে পারে, কিন্তু তা আকিকার বিকল্প হতে পারে না।

সন্তান জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম। এক হাদিসে সপ্তম দিনে আকিকা করার কথা বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৪)

তাই সম্ভব হলে সপ্তম দিনেই আকিকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ তম দিনে বা একুশতম দিনে করা ভালো। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আকিকা সপ্তম দিনে হওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে। এবং তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৬৯)  সূএ : ঢাকা পোস্ট ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com