চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিলে বিপদে পড়বে বিএনপি : গোলাম মাওলা রনি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : চাঁদাবাজি বন্ধে বিএনপি ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’–এর মতো অভিযান চালালে বিপদে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।

সম্প্রতি ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হলে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তালিকা করে অপারেশন ক্লিন হার্ট হয় নাকি? এই সরকার তালিকা করে আবার কী করেছে? মেট্রোপলিটন কমিশনার বলেছেন, তাদের তালিকায় ৪০০-৫০০ জন রয়েছে। সেই তালিকা থেকে তারা ৫২, ৫৭ বা ৫৮ জনকে ধরেছে। এতে করে সমস্যা আরো বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই বলাবলি করছে, মূলত মাঠ ফাঁকা করার জন্যই এই ৫২ জনকে ধরা হয়েছে।

তাদের চাঁদাবাজির যে এরিয়াগুলো ছিল, সেগুলো হয়তো অন্য কাউন্টারপার্টদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

“এভাবে কোনো সমাধান হবে না। যখন অভিযান চালাতে হবে, তখন সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে একসঙ্গে সবাইকে ধরতে হবে। একটা শক্ত বার্তা যেতে হবে এবং পুরো চক্রটাকে ভেঙে ফেলতে হবে।

আর সেটি করার জন্য দরকার আগের বিএনপি আমলে পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্ট-এর মতো একটি অভিযান। ঠিক সেরকম, বরং আগের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালীভাবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালাতে হবে।”

‘কিন্তু ওই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন হাসান মসুদ চৌধুরী। তিনি যেমন সৎ ছিলেন, তেমনি ছিলেন অত্যন্ত চৌকস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান-কে দিয়ে বিএনপি কি সেরকম একটি অপারেশন করাতে পারবে?’

‘ওয়াকার-উজ-জামান সাহেবের ওপর তাদের সেই মাত্রার প্রভাব আছে কি না, কিংবা তিনি নিজে এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এমন একটি কাজ করবেন কি না—সেটাও বড় প্রশ্ন।

কারণ, এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে বিএনপিরই হয়তো কয়েকশ মানুষ নিহত হতে পারে। তখন বিএনপি তাকে পূর্ণ আস্থা ও কর্তৃত্ব দেবে কি না, কিংবা তার বাহিনীর জন্য নিরাপদ এক্সিট ও ইনডেমনিটি নিশ্চিত করবে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

‘এর পেছনে কারণও আছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে যেভাবে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আইসিটি কোর্টে নেওয়া হচ্ছে এবং সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, তাতে বাহিনীর ভেতরেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

“সেই প্রেক্ষাপটে, যদি আবার অপারেশন ক্লিন হার্ট টু-এর মতো কোনো ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হয়, তাহলে তারা আগের মতো দৃঢ়ভাবে মাঠে নামবে কি না, নাকি শুধু আনুষ্ঠানিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

গোলাম মাওলা রনি বলেন, “ ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালালে আরো বড় বিপদে পড়বে বিএনপি। এটাই হবে প্রথম সংকট। দ্বিতীয় সংকট হলো—ধরুন সরকার সবকিছু ম্যানেজ করল। এরপর কী হবে? সেনাবাহিনী ও পুলিশ যখন নির্বিচারে অভিযানে নামবে, তখন ৯৯.৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই যাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে, তারা বিএনপির লোকই হবে। যারা গ্রেপ্তার হবে, তারা বিএনপির লোক; যারা নিহত হবে, তারাও বিএনপির লোক।’

‘ফলে পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। বর্তমানে বিএনপির যে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব রয়েছে, সেটি ধীরে ধীরে এনসিপি কিংবা জামায়াতের হাতে চলে যেতে পারে। আর পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন তখন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।’

‘কারণ, বিএনপি যদি তাদের মিলিট্যান্সি পাওয়ার, সাংগঠনিক শক্তি ও মাসল পাওয়ার হারিয়ে ফেলে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যই পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» শুক্রবার ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

» লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি

» ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প আমাদের জন্য সতর্কবার্তা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

» আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

» চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রফতানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন

» ইসলামে বিভেদ-হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী

» আশুরার শিক্ষা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায়: রাষ্ট্রপতি

» ‘এখানে বসে বসে অনেকখানি উর্দু শিখে ফেলেছি’: হুম্মাম কাদের

» ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেব, সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

» ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ৯০ জন নারী উদ্যোক্তা পেলেনব্র্যাক ব্যাংকের ‘আমরাই তারা’ প্রশিক্ষণ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিলে বিপদে পড়বে বিএনপি : গোলাম মাওলা রনি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : চাঁদাবাজি বন্ধে বিএনপি ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’–এর মতো অভিযান চালালে বিপদে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।

সম্প্রতি ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হলে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তালিকা করে অপারেশন ক্লিন হার্ট হয় নাকি? এই সরকার তালিকা করে আবার কী করেছে? মেট্রোপলিটন কমিশনার বলেছেন, তাদের তালিকায় ৪০০-৫০০ জন রয়েছে। সেই তালিকা থেকে তারা ৫২, ৫৭ বা ৫৮ জনকে ধরেছে। এতে করে সমস্যা আরো বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই বলাবলি করছে, মূলত মাঠ ফাঁকা করার জন্যই এই ৫২ জনকে ধরা হয়েছে।

তাদের চাঁদাবাজির যে এরিয়াগুলো ছিল, সেগুলো হয়তো অন্য কাউন্টারপার্টদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

“এভাবে কোনো সমাধান হবে না। যখন অভিযান চালাতে হবে, তখন সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে একসঙ্গে সবাইকে ধরতে হবে। একটা শক্ত বার্তা যেতে হবে এবং পুরো চক্রটাকে ভেঙে ফেলতে হবে।

আর সেটি করার জন্য দরকার আগের বিএনপি আমলে পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্ট-এর মতো একটি অভিযান। ঠিক সেরকম, বরং আগের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালীভাবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালাতে হবে।”

‘কিন্তু ওই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন হাসান মসুদ চৌধুরী। তিনি যেমন সৎ ছিলেন, তেমনি ছিলেন অত্যন্ত চৌকস। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান-কে দিয়ে বিএনপি কি সেরকম একটি অপারেশন করাতে পারবে?’

‘ওয়াকার-উজ-জামান সাহেবের ওপর তাদের সেই মাত্রার প্রভাব আছে কি না, কিংবা তিনি নিজে এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এমন একটি কাজ করবেন কি না—সেটাও বড় প্রশ্ন।

কারণ, এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে বিএনপিরই হয়তো কয়েকশ মানুষ নিহত হতে পারে। তখন বিএনপি তাকে পূর্ণ আস্থা ও কর্তৃত্ব দেবে কি না, কিংবা তার বাহিনীর জন্য নিরাপদ এক্সিট ও ইনডেমনিটি নিশ্চিত করবে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

‘এর পেছনে কারণও আছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে যেভাবে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আইসিটি কোর্টে নেওয়া হচ্ছে এবং সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, তাতে বাহিনীর ভেতরেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

“সেই প্রেক্ষাপটে, যদি আবার অপারেশন ক্লিন হার্ট টু-এর মতো কোনো ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হয়, তাহলে তারা আগের মতো দৃঢ়ভাবে মাঠে নামবে কি না, নাকি শুধু আনুষ্ঠানিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

গোলাম মাওলা রনি বলেন, “ ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালালে আরো বড় বিপদে পড়বে বিএনপি। এটাই হবে প্রথম সংকট। দ্বিতীয় সংকট হলো—ধরুন সরকার সবকিছু ম্যানেজ করল। এরপর কী হবে? সেনাবাহিনী ও পুলিশ যখন নির্বিচারে অভিযানে নামবে, তখন ৯৯.৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই যাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে, তারা বিএনপির লোকই হবে। যারা গ্রেপ্তার হবে, তারা বিএনপির লোক; যারা নিহত হবে, তারাও বিএনপির লোক।’

‘ফলে পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। বর্তমানে বিএনপির যে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব রয়েছে, সেটি ধীরে ধীরে এনসিপি কিংবা জামায়াতের হাতে চলে যেতে পারে। আর পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন তখন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।’

‘কারণ, বিএনপি যদি তাদের মিলিট্যান্সি পাওয়ার, সাংগঠনিক শক্তি ও মাসল পাওয়ার হারিয়ে ফেলে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যই পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com