ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : তামিলনাড়ুর মসনদে বসা নিয়ে নাটকীয়তা তুঙ্গে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলেও অভিনেতা বিজয়কে এখনই সরকার গড়তে দিচ্ছেন না রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকার।
বুধবার এবং বৃহস্পতিবার পরপর দুদিন রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) প্রধান বিজয়। তবে নথিপত্রে প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যার অভাব থাকায় রাজ্যপাল তাঁকে সরাসরি শপথ নিতে বাধা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১০টি কম। বর্তমানে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের ঝুলিতে রয়েছে ১১৩টি আসন। কিন্তু সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন।
রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যপাল বিজয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন যে মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে তিনি কীভাবে একটি স্থিতিশীল সরকার চালাবেন এবং বাকি প্রয়োজনীয় সমর্থন তিনি কোথা থেকে জোগাড় করবেন। জবাবে বিজয় জানিয়েছেন যে তিনি বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। বর্তমানে বামপন্থী দল এবং পিএমকে-র মতো আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে টিভিকে। এই দলগুলো পাশে দাঁড়ালে বিজয় ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করে যাবেন। তবে এই সমীকরণে কিছু রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেউ ডিএমকে আবার কেউ বিজেপির পুরনো মিত্র। এদিকে এআইএডিএমকে-র একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজয় তাঁর দলের ১০৭ জন বিধায়ককে চেন্নাইয়ের অদূরে মামাল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে রেখেছেন যাতে অন্য কোনো দল তাঁদের ভাঙিয়ে নিতে না পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিজয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভা স্থগিত রেখে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন। আপাতত আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই জট কাটানোর চেষ্টা করছে টিভিকে। দক্ষিণের রাজনীতিতে এখন সবার নজর রাজভবনের দিকে, শেষ পর্যন্ত বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
সূত্র: এনডিটিভি








