বিশ্বকাপের সূচি দেখেই আতঙ্কে বড় দলগুলো, কিন্তু কেন?

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাসের পর যে স্বস্তি এসেছিল বড় দলগুলির মধ্যে, সূচি প্রকাশের পর তা কর্পূরের মতো উবে গেছে। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এখন দলগুলির প্রধান চিন্তা ম্যাচের মাঝে লম্বা যাতায়াত, আমেরিকার তীব্র গরম এবং মেক্সিকোর ভয়ঙ্কর উচ্চতা। গ্রুপ সহজ হলেও কাজটা যে সহজ হবে না, তা এখন স্পষ্ট।

শুক্রবার গ্রুপ বিন্যাসের পর স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তেকে হাসিমুখে দেখা গেলেও, সূচি হাতে পাওয়ার পর সেই হাসি উধাও। স্পেনকে প্রথমে খেলতে হবে আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বে আপ্পালাচিয়ান পর্বতের কোলে অবস্থিত আটলান্টায়। এখানে তাপমাত্রা থাকবে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও স্টেডিয়ামে ছাদ ঢাকার ব্যবস্থা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

কিন্তু এরপরই আসল চ্যালেঞ্জ। আটলান্টায় এক সপ্তাহ কাটানোর পর স্প্যানিশ দলকে উড়ে যেতে হবে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায়। প্রায় ২৮০০ কিলোমিটারের এই যাত্রা পেরিয়ে তাদের খেলতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ মিটার উঁচুতে। সম্পূর্ণ ভিন্ন টাইম জোন এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ুর এই পরিস্থিতিতে ফুয়েন্তের উদ্বেগজনক। স্পেনের কোচ বলেন, আমার সবচেয়ে চিন্তা ম্যাচের মাঝে যাতায়াত নিয়ে। তিন-চার দিন অন্তর হাজার হাজার কিলোমিটার যাত্রা করতে হবে আমাদের।

গুরুত্বপূর্ণ সৌদি আরব ম্যাচের পরই মেক্সিকো যাওয়ার কারণে অনুশীলনের জন্য হাতে সময় মিলবে মাত্র তিন দিন। উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসার দলের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচটি সন্ধ্যায় হওয়ায় গরম থেকে রেহাই মিললেও হালকা বাতাসের সমস্যা থাকবে। যারা হারবে, তাদের রাউন্ড অফ ৩২-এর জন্য আবার ছুটতে হবে আমেরিকার মায়ামিতে।

তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেই দলগুলির, যাদের মেক্সিকোতে খেলতে হবে। মেক্সিকোর তিনটি মাঠের মধ্যে রাজধানীর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামটি সবচেয়ে কঠিন। ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর সাক্ষী এই মাঠ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হালকা বাতাসের কারণে এখানে বল অস্বাভাবিক বাঁক নেয়। আমেরিকার গোলকিপার টিম হাওয়ার্ড এই মাঠে ফুটবলকে ‘সসার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মেক্সিকোর তৃতীয় মাঠ মন্টেরে যদিও কম উঁচুতে, কিন্তু আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে অবস্থিত এই মাঠ বিশ্বকাপের সময় সবচেয়ে বেশি গরমের সাক্ষী হবে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার হতে পারে, দেখা যেতে পারে তাপপ্রবাহ।

তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে থাকবে কানাডায় খেলা দলগুলো। ভ্যাঙ্কুভার ও টরন্টোর মাঠ দুটি কম উচ্চতায় অবস্থিত এবং এখানে চরম গরম বা বৃষ্টি কোনোটাই নেই। আমেরিকার ১২টি মাঠের মধ্যে ১১টিতেই ছাদ ঢাকার ব্যবস্থা থাকায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তবে যে ইউরোপীয় দলগুলিকে দুপুরে খেলতে হবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হবে।

এই প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের তিনি ডাগআউটে বসতে দেবেন না; তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে রাখা হবে, যাতে তারা ঘেমেনেয়ে ক্লান্ত না হয়ে যান। বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের মতো আরামপ্রদ শহরে খেলার সুযোগ পাওয়ায় ইংল্যান্ড কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে, এই বিশ্বকাপে শুধুমাত্র মাঠের খেলায় নয়, মাঠের বাইরের এই প্রাকৃতিক এবং ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জগুলিকে জয় করাই দলগুলির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে।

সূূূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

» ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

» নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে বাড়ছে ৫০০ শয্যা, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

» হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা

» ইরানের মাটির নিচে কী আছে? বিরল খনিজের খোঁজে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীরা

» ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

» মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে যুবদল নেতা আহত

» শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭

» ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, সবজিও এখনো চড়া

» কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যায় ৪জন গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিশ্বকাপের সূচি দেখেই আতঙ্কে বড় দলগুলো, কিন্তু কেন?

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাসের পর যে স্বস্তি এসেছিল বড় দলগুলির মধ্যে, সূচি প্রকাশের পর তা কর্পূরের মতো উবে গেছে। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এখন দলগুলির প্রধান চিন্তা ম্যাচের মাঝে লম্বা যাতায়াত, আমেরিকার তীব্র গরম এবং মেক্সিকোর ভয়ঙ্কর উচ্চতা। গ্রুপ সহজ হলেও কাজটা যে সহজ হবে না, তা এখন স্পষ্ট।

শুক্রবার গ্রুপ বিন্যাসের পর স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তেকে হাসিমুখে দেখা গেলেও, সূচি হাতে পাওয়ার পর সেই হাসি উধাও। স্পেনকে প্রথমে খেলতে হবে আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বে আপ্পালাচিয়ান পর্বতের কোলে অবস্থিত আটলান্টায়। এখানে তাপমাত্রা থাকবে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও স্টেডিয়ামে ছাদ ঢাকার ব্যবস্থা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

কিন্তু এরপরই আসল চ্যালেঞ্জ। আটলান্টায় এক সপ্তাহ কাটানোর পর স্প্যানিশ দলকে উড়ে যেতে হবে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায়। প্রায় ২৮০০ কিলোমিটারের এই যাত্রা পেরিয়ে তাদের খেলতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ মিটার উঁচুতে। সম্পূর্ণ ভিন্ন টাইম জোন এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ুর এই পরিস্থিতিতে ফুয়েন্তের উদ্বেগজনক। স্পেনের কোচ বলেন, আমার সবচেয়ে চিন্তা ম্যাচের মাঝে যাতায়াত নিয়ে। তিন-চার দিন অন্তর হাজার হাজার কিলোমিটার যাত্রা করতে হবে আমাদের।

গুরুত্বপূর্ণ সৌদি আরব ম্যাচের পরই মেক্সিকো যাওয়ার কারণে অনুশীলনের জন্য হাতে সময় মিলবে মাত্র তিন দিন। উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসার দলের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচটি সন্ধ্যায় হওয়ায় গরম থেকে রেহাই মিললেও হালকা বাতাসের সমস্যা থাকবে। যারা হারবে, তাদের রাউন্ড অফ ৩২-এর জন্য আবার ছুটতে হবে আমেরিকার মায়ামিতে।

তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেই দলগুলির, যাদের মেক্সিকোতে খেলতে হবে। মেক্সিকোর তিনটি মাঠের মধ্যে রাজধানীর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামটি সবচেয়ে কঠিন। ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর সাক্ষী এই মাঠ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হালকা বাতাসের কারণে এখানে বল অস্বাভাবিক বাঁক নেয়। আমেরিকার গোলকিপার টিম হাওয়ার্ড এই মাঠে ফুটবলকে ‘সসার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মেক্সিকোর তৃতীয় মাঠ মন্টেরে যদিও কম উঁচুতে, কিন্তু আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে অবস্থিত এই মাঠ বিশ্বকাপের সময় সবচেয়ে বেশি গরমের সাক্ষী হবে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার হতে পারে, দেখা যেতে পারে তাপপ্রবাহ।

তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে থাকবে কানাডায় খেলা দলগুলো। ভ্যাঙ্কুভার ও টরন্টোর মাঠ দুটি কম উচ্চতায় অবস্থিত এবং এখানে চরম গরম বা বৃষ্টি কোনোটাই নেই। আমেরিকার ১২টি মাঠের মধ্যে ১১টিতেই ছাদ ঢাকার ব্যবস্থা থাকায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তবে যে ইউরোপীয় দলগুলিকে দুপুরে খেলতে হবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হবে।

এই প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের তিনি ডাগআউটে বসতে দেবেন না; তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে রাখা হবে, যাতে তারা ঘেমেনেয়ে ক্লান্ত না হয়ে যান। বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের মতো আরামপ্রদ শহরে খেলার সুযোগ পাওয়ায় ইংল্যান্ড কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে, এই বিশ্বকাপে শুধুমাত্র মাঠের খেলায় নয়, মাঠের বাইরের এই প্রাকৃতিক এবং ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জগুলিকে জয় করাই দলগুলির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে।

সূূূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com