পরকীয়ার জেরে খালাতো ভাইয়ের হাতে খুন , স্ত্রী ও খালাতো ভাই গ্রেফতার

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : বগুড়ায় পরকীয়ার জেরে খালাতো ভাইয়ের হাতে খুন হয় বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) ও খালাতো ভাই বিপুলকে (৩৭) গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

নিহত জহুরুল বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা। এর আগে, ওইদিন সকালে জহুরুল ইসলামের লাশ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক খালাতো ভাই বিপুল। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে জহুরুলকে হত্যা করা হয়। বুধবার বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এসব তথ্য জানান। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

জানা যায়, শৈশব থেকেই শামিমা আক্তার ও তার ফুফাতো ভাই বিপুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিপুলকে না পেলেও জহুরুলের সঙ্গে শামিমার বিয়ে হয়। বিপুল এবং জহুরুল একে অপরের খালাতো ভাই। কিন্তু বিয়ের পরেও শামিমা আর বিপুলের পরকীয়ার সম্পর্ক চলমান ছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে জহুরুলের সঙ্গে শামীমার বিরোধ তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে চিরতরে সরিয়ে দিতেই শামিমা ও বিপুল স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে স্ত্রী শামিমা আক্তার দুধের সঙ্গে প্রায় ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন স্বামী জহুরুলকে। ওষুধ খেয়ে জহুরুল অচেতন হয়ে পড়লে শামিমা ফোন করেন প্রেমিক বিপুলকে। এরপর ঘুমন্ত জহুরুলকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পাশের একটি অর্ধনির্মিত বাড়িতে। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে তার মাথায় গুরুতর জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভাঙা টয়লেটের টাইলস দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় পাশের ধানক্ষেতে।

হত্যার পর শামিমা আক্তার নিজের অপরাধ ঢাকতে নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তবে এই হত্যার ঘটনায় শামিমা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ নিশ্চিত হয়, নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমাই এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, তদন্তের পর জানা যায় পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন গ্রেফতার

» সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ১, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

» ১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন শাম্মী আক্তার

» আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি

» বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক

» প্রধান সড়কে অটোরিকশা-ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা: ডিএমপি

» ইরানের প্রেসিডেন্টকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিল পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান বহর

» জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: শ্রমমন্ত্রী

» মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের

» গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পরকীয়ার জেরে খালাতো ভাইয়ের হাতে খুন , স্ত্রী ও খালাতো ভাই গ্রেফতার

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : বগুড়ায় পরকীয়ার জেরে খালাতো ভাইয়ের হাতে খুন হয় বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামীমা আক্তার (৩০) ও খালাতো ভাই বিপুলকে (৩৭) গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

নিহত জহুরুল বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা। এর আগে, ওইদিন সকালে জহুরুল ইসলামের লাশ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক খালাতো ভাই বিপুল। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে জহুরুলকে হত্যা করা হয়। বুধবার বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এসব তথ্য জানান। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

জানা যায়, শৈশব থেকেই শামিমা আক্তার ও তার ফুফাতো ভাই বিপুলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিপুলকে না পেলেও জহুরুলের সঙ্গে শামিমার বিয়ে হয়। বিপুল এবং জহুরুল একে অপরের খালাতো ভাই। কিন্তু বিয়ের পরেও শামিমা আর বিপুলের পরকীয়ার সম্পর্ক চলমান ছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে জহুরুলের সঙ্গে শামীমার বিরোধ তৈরি হয়। এই সম্পর্ককে চিরতরে সরিয়ে দিতেই শামিমা ও বিপুল স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে স্ত্রী শামিমা আক্তার দুধের সঙ্গে প্রায় ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন স্বামী জহুরুলকে। ওষুধ খেয়ে জহুরুল অচেতন হয়ে পড়লে শামিমা ফোন করেন প্রেমিক বিপুলকে। এরপর ঘুমন্ত জহুরুলকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির পাশের একটি অর্ধনির্মিত বাড়িতে। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে তার মাথায় গুরুতর জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভাঙা টয়লেটের টাইলস দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় পাশের ধানক্ষেতে।

হত্যার পর শামিমা আক্তার নিজের অপরাধ ঢাকতে নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তবে এই হত্যার ঘটনায় শামিমা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ নিশ্চিত হয়, নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামিমাই এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, তদন্তের পর জানা যায় পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com