কলা খাওয়ার সঙ্গে সর্দি-কাশির কী সম্পর্ক?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফল কলা। সারাবছর সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় পুষ্টিকর ফলটি সবার কাছেই বিশেষ গুরুত্ববহ। তবে, কিছু মানুষ কলা খাওয়া এড়িয়ে যান। তারা মনে করেন, এটি সর্দি-কাশি বাড়ায়। অন্যদিকে, কিছু মানুষ বলেন, এই ফলের সঙ্গে ঋতুজনিত অসুস্থতার কোনো প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক নেই। এই ধরনের বৈচিত্র্যময় মতামত আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্ত করে। তবে আসল ঘটনা কি? কোনটা সত্য?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলা অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও বেশ কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ। আর আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে এটি ‘শীতল’ প্রকৃতির খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। যা শরীরের বাত, পিত্ত ও কফ এই তিনটির ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ বিএন সিনহা বলেছেন, ‘কলা অতিরিক্ত খেলে প্রায়ই সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি সাধারণত তখনই ঘটে, যখন আপনি খুব বেশি পরিমাণে কলা খান।’ অর্থাৎ, পরিমিত পরিমাণে খেলে কোনো সমস্যা হওয়ার শঙ্কা থাকে না।

রাতে কি কলা খাওয়া যায়?

সাধারণত মনে করা হয় যে, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কলা এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষ করে রাতে এবং শীতকালে। রাতে আমাদের শরীরের কার্যকলাপ ধীর হয়ে যায়, ফলে আমরা সংক্রমণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ি। একইভাবে, শীতকালে বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা শরীরে ভাইরাসের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে, পরিমিত পরিমাণে কোন সমস্যা হয় না।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ড. আশুতোষ গৌতম ব্যাখ্যা করেন, “রাতে বা শীতকালে কলা খাওয়ার মধ্যে অনিরাপদ কিছু নেই। তবে, গভীর রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ কলা একটি ভারী ফল এবং এটি হজম হতে অনেক সময় লাগে।”

অন্যদিকে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, কলায় এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা ‘ব্যানানা লেকটিন’ নামে পরিচিত। এই প্রোটিনের ক্ষমতা রয়েছে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার। একই সঙ্গে ভাইরাসকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। যা ইঙ্গিত দেয়, সর্দি-কাশি ও ফ্লুর মতো বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের জন্য এন্টিভাইরাল ওষুধ তৈরিতে এবং চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশে কলা সহায়ক হতে পারে।

শুধু তাই নয়, একাধিক প্রতিবেদনে সর্দি-কাশি ও পাকস্থলির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য কলা খাওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অস্বস্তিকর দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন বিজয়-রাশমিকা

» মহাকাশ থেকে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ‘দুর্ধর্ষ পরিকল্পনা’, আসছে স্টারলিংকের বিকল্প

» পুরাতন রমনা থানার সামনে মোটরসাইকেল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ

» মোহাম্মদপুরে আ. লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল গ্রেপ্তার

» তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

» জনগণ বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস, বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি: প্রিন্স

» জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড: ডিবি চায় ডিভাইস, জামায়াতের উদ্বেগ নিরাপত্তায়

» রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাল ছাত্রদল সভাপতি রাকিব

» থানায় রুমিন ফারহানা আপা এক ধরনের মব করেছেন: রাশেদ খাঁন

» স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কলা খাওয়ার সঙ্গে সর্দি-কাশির কী সম্পর্ক?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফল কলা। সারাবছর সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় পুষ্টিকর ফলটি সবার কাছেই বিশেষ গুরুত্ববহ। তবে, কিছু মানুষ কলা খাওয়া এড়িয়ে যান। তারা মনে করেন, এটি সর্দি-কাশি বাড়ায়। অন্যদিকে, কিছু মানুষ বলেন, এই ফলের সঙ্গে ঋতুজনিত অসুস্থতার কোনো প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক নেই। এই ধরনের বৈচিত্র্যময় মতামত আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্ত করে। তবে আসল ঘটনা কি? কোনটা সত্য?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলা অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও বেশ কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ। আর আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে এটি ‘শীতল’ প্রকৃতির খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। যা শরীরের বাত, পিত্ত ও কফ এই তিনটির ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ বিএন সিনহা বলেছেন, ‘কলা অতিরিক্ত খেলে প্রায়ই সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি সাধারণত তখনই ঘটে, যখন আপনি খুব বেশি পরিমাণে কলা খান।’ অর্থাৎ, পরিমিত পরিমাণে খেলে কোনো সমস্যা হওয়ার শঙ্কা থাকে না।

রাতে কি কলা খাওয়া যায়?

সাধারণত মনে করা হয় যে, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কলা এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষ করে রাতে এবং শীতকালে। রাতে আমাদের শরীরের কার্যকলাপ ধীর হয়ে যায়, ফলে আমরা সংক্রমণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ি। একইভাবে, শীতকালে বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা শরীরে ভাইরাসের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে, পরিমিত পরিমাণে কোন সমস্যা হয় না।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ড. আশুতোষ গৌতম ব্যাখ্যা করেন, “রাতে বা শীতকালে কলা খাওয়ার মধ্যে অনিরাপদ কিছু নেই। তবে, গভীর রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ কলা একটি ভারী ফল এবং এটি হজম হতে অনেক সময় লাগে।”

অন্যদিকে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, কলায় এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা ‘ব্যানানা লেকটিন’ নামে পরিচিত। এই প্রোটিনের ক্ষমতা রয়েছে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার। একই সঙ্গে ভাইরাসকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। যা ইঙ্গিত দেয়, সর্দি-কাশি ও ফ্লুর মতো বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের জন্য এন্টিভাইরাল ওষুধ তৈরিতে এবং চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশে কলা সহায়ক হতে পারে।

শুধু তাই নয়, একাধিক প্রতিবেদনে সর্দি-কাশি ও পাকস্থলির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য কলা খাওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com