অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম এইউ জানিয়েছে, টেস্টের দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত ৯০ ওভারের চেয়ে চার ওভার কম বোলিং করেছে অস্ট্রেলিয়া। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার করে বোলিং করতে হয় এবং দিনে অন্তত ৯০ ওভার শেষ করার লক্ষ্য থাকে।
নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ওভার থেকে প্রতি ওভার কম করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের একজন খেলোয়াড় ম্যাচ ফি হিসেবে প্রায় ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পান। সে হিসাবে প্রতি ওভারের জন্য একজন খেলোয়াড়কে ১ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা দিতে হতে পারে।
চার ওভার কম বোলিং করায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জরিমানা দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। পুরো দলের ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক প্রায় ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা হতে পারে।
তবে জরিমানা নিশ্চিত নয়। ম্যাচ রেফারি শাস্তি নির্ধারণের সময় ম্যাচের পরিস্থিতি, ভেন্যুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং উইকেট পতনের মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে পারেন। ডারউইনের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে।
শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টও হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, ধীরগতির ওভার রেটের জন্য প্রতি ওভারে একটি করে পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। চার ওভার কম বোলিং করায় অস্ট্রেলিয়ার চার পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চার পয়েন্ট হারালে তাদের অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশও ম্যাচের এক পর্যায়ে নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস মাত্র ৫৩ ওভারে শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ শাস্তি থেকে বেঁচে গেছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল নির্ধারিত ন্যূনতম ৮০ ওভার ব্যাট করার আগেই অলআউট হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করায় অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে সেই ছাড় প্রযোজ্য হচ্ছে না। ফলে ডারউইনে হারের পর মাঠের বাইরেও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে কামিন্সের দল।
এর আগে ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার চার পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। সেই পয়েন্ট হারানোর প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়েও। সূত্র: নিউজ ডট কম এইউ








