ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯)কে ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর যুক্তরাষ্ট্রে এনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই আল-মামুনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, পাচারকারীরা জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্রাজিলে নিয়ে যেত। পরে সেখান থেকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকোর তাপাচুলা এলাকায় জড়ো করা হতো। এরপর তাদের মেক্সিকোর মন্টেরে শহরে পাঠিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হতো।
তদন্তে জানা যায়, এর আগে এই চক্রের সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) গ্রেপ্তার হন। পরে তারা দোষ স্বীকার করলে টেক্সাসের ফেডারেল আদালত তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, মিলন ও মোক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আল-মামুনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় গত ৮ জুলাই ব্রাজিল সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রসিকিউটরদের বরাতে কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আল-মামুনের পাঁচ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন এবং ৩৬০ জনের উল্লেখযোগ্য কারাদণ্ড হয়েছে। কয়েকজনের সম্পদও জব্দ করা হয়েছে।
এ ধরনের অপরাধ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সমন্বয়ে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ) কাজ করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ এই মানবপাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








