মিশরে দুই বাংলাদেশির অকাল প্রাণহানি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মিশরে উচ্চশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী, অন্যজন উন্নত শিক্ষার আশায় মায়ের সঙ্গে যাওয়া একটি শিশু।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ইমাম মাহমুদ সা’দ সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য মিশরের কায়রোতে যান। সেখানে পৌঁছানোর প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কায়রোর খাইরুল মিনারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাহবুব ইসলাম ও মোসা. বিনা দম্পতির একমাত্র সন্তান রাইমান ইসলামের মৃত্যু হয়েছে মিশরের কায়রোতে। উন্নত শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তার মা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ রাইমানের উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি দুবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) শিকার হয়। পরে কায়রোর আব্বাসিয়া হুম্মিয়াত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়।

দূতাবাস ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় কায়রোর আবুরের হানতাশ কবরস্থানে রাইমান ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাইমানের বাবা মাহবুব ইসলাম সৌদি আরবে কর্মরত থাকায় জরুরি ভিত্তিতে মিশরে যেতে পারেননি। ফলে তিনি সন্তানের শেষ মুহূর্ত কিংবা দাফনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

একদিকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু, অন্যদিকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে মায়ের সঙ্গে মিশরে গিয়ে এক শিশুর জীবনাবসান—দুটি ঘটনাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কোনো আগ্রাসনে ‘ধ্বংস হবে না ইরানের পরমাণু সক্ষমতা’, বড় অগ্রগতির দাবি

» সারাদেশে বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা

» আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

» মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল

» বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, তা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

» সরকারও মনে হয় ৮০’র দশকে ফিরে যাবে: নাহিদ

» দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির ‘প্রার্থী বদল’

» প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা, মেহনত ও কষ্ট দেখে আমরা নিজেরাও অনুপ্রাণিত হই: এমপি হানজালা

» আ.লীগের পতন হয়েছে-ভারতে দাফন হয়েছে; এই চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস

» বাঁধনকে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মিশরে দুই বাংলাদেশির অকাল প্রাণহানি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মিশরে উচ্চশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী, অন্যজন উন্নত শিক্ষার আশায় মায়ের সঙ্গে যাওয়া একটি শিশু।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ইমাম মাহমুদ সা’দ সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য মিশরের কায়রোতে যান। সেখানে পৌঁছানোর প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কায়রোর খাইরুল মিনারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাহবুব ইসলাম ও মোসা. বিনা দম্পতির একমাত্র সন্তান রাইমান ইসলামের মৃত্যু হয়েছে মিশরের কায়রোতে। উন্নত শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তার মা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ রাইমানের উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি দুবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) শিকার হয়। পরে কায়রোর আব্বাসিয়া হুম্মিয়াত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়।

দূতাবাস ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় কায়রোর আবুরের হানতাশ কবরস্থানে রাইমান ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাইমানের বাবা মাহবুব ইসলাম সৌদি আরবে কর্মরত থাকায় জরুরি ভিত্তিতে মিশরে যেতে পারেননি। ফলে তিনি সন্তানের শেষ মুহূর্ত কিংবা দাফনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

একদিকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু, অন্যদিকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে মায়ের সঙ্গে মিশরে গিয়ে এক শিশুর জীবনাবসান—দুটি ঘটনাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com