ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সমাধান খুঁজে বের করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করেন। রবিবার প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ট্রাম্প আবারও দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার এবং চলমান সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
ফোনালাপকে ‘কর্মমুখী’ ও ‘গঠনমূলক’ উল্লেখ করে উশাকভ বলেন, রাশিয়া তাদের মৌলিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এই সংঘাতের সমাধান চায়।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, শনিবার তাঁর সঙ্গেও ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের পরিস্থিতি উঠে এসেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লেখেন, যুদ্ধের অবসানের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সপ্তাহে উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও তাঁদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার থেকে আঙ্কারায় শুরু হওয়া ওই শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
উশাকভ অভিযোগ করেন, কিয়েভ এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা সংঘাত দীর্ঘায়িত ও আরও তীব্র করার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে। তিনি মূলত রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তাঁর দাবি, এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। উশাকভ আরও বলেন, পুতিন ট্রাম্পকে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং একের পর এক জনপদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।
রুশ সামরিক কর্মকর্তারা শুক্রবার পুতিনকে জানান, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলে নিয়েছে মস্কোর বাহিনী। তবে শনিবার জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের সামরিক সদর দপ্তর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, শহরটি এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত মাসে জেলেনস্কি পুতিনকে একান্ত বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ক্রেমলিনের নেতা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উশাকভ আরও জানান, ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আবারও মস্কো সফরে যেতে প্রস্তুত আছেন।
তাঁর দাবি, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ওয়াশিংটনের মনোযোগ বেশি থাকায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া উশাকভের মতে, ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পেতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পুতিন।
সূত্র : আল-জাজিরা।








