নৌ পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ সদস্য গুলিবিদ্ধ

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : কুষ্টিয়ার হরিপুর সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে নিয়মিত টহল চলাকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে নৌ-পুলিশের একটি দল। এতে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার  দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) খন্দকার শফিকুল ইসলাম, সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টহল ডিউটির অংশ হিসেবে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একটি দল রাতে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে বের হয়। টহল দলটি যখন কুষ্টিয়া সীমান্তের হরিপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। হঠাৎ এই হামলায় পুলিশ সদস্যরা অপ্রস্তুত থাকলেও দ্রুত পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি চলে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোলাগুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশ সদস্য এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীতে টহল দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। বিষয়টি নৌ-পুলিশের হওয়ায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।

নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে আমাদের অভিযানে গেলে দলটি হামলার শিকার হয়। নৌপথে এমন পরিকল্পিত ও দুঃসাহসিক হামলার পেছনে কোনো বাহিনী বা অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগতভাবে বিষয়টি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» স্বপ্ন বকুল

» ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম

» কাঠালের মধ্যে মিললো ৪০ বোতল কাশির সিরাপ

» শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ গ্রেফতার

» ইয়াবা ও টাকাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার

» নৌ পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ সদস্য গুলিবিদ্ধ

» ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে সমস্যা হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল

» হরমুজ সচল করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক, সামরিক জোট গঠনের তোড়জোড়

» সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৩৩৭২ জন হজযাত্রী

» পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: মন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নৌ পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ সদস্য গুলিবিদ্ধ

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : কুষ্টিয়ার হরিপুর সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে নিয়মিত টহল চলাকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে নৌ-পুলিশের একটি দল। এতে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার  দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) খন্দকার শফিকুল ইসলাম, সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টহল ডিউটির অংশ হিসেবে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একটি দল রাতে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে বের হয়। টহল দলটি যখন কুষ্টিয়া সীমান্তের হরিপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। হঠাৎ এই হামলায় পুলিশ সদস্যরা অপ্রস্তুত থাকলেও দ্রুত পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি চলে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোলাগুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশ সদস্য এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীতে টহল দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। বিষয়টি নৌ-পুলিশের হওয়ায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।

নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে আমাদের অভিযানে গেলে দলটি হামলার শিকার হয়। নৌপথে এমন পরিকল্পিত ও দুঃসাহসিক হামলার পেছনে কোনো বাহিনী বা অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগতভাবে বিষয়টি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com