ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা আশা করলেও বাস্তবে বেইজিং সেই পথে হাঁটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি নেবে না চীন।
দোহার ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
তিনি বলেন, “চীন কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়লেও বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় তারা এখনও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।”
এলমাসরির মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হলেও চীন বিকল্প পথ ও কৌশল খুঁজে নিতে সক্ষম হয়েছে।
তার ভাষায়, “বেইজিং ইতোমধ্যে এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা বের করেছে।”
বিশ্লেষক এলমাসরি বলেন, চীন কখনওই ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইবে না।
তিনি বলেন, “চীন ও ইরান সরাসরি সামরিক মিত্র নয়, তবে তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে।”
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখে চীন।
“বেইজিং মনে করে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক শক্তি। তাই তারা মধ্যপ্রাচ্যকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়,” বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাত নয়, এটি এখন বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া সরাসরি সংঘাতে জড়িত না হলেও তেহরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে।
এ অবস্থায় চীনের অবস্থান ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল-জাজিরা








