দেশের উন্নয়নে যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট এর ৭০ জন শিক্ষার্থী।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ডঃ কাজী মোঃ শাওকত-উল ইসলাম।
প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেজর মোঃ মহসিনুল করিম (অব:)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মহা ব্যবস্থাপক এ.কে.এম. নাওশেরুল আলম।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিটিআই এর ছাত্র উপদেষ্টা শাফী আহমেদ সূচক। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের আর/এস বিভাগীয় প্রধান খাদিজা আক্তার। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাসেল রেজা, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, সিভিল টেকনোলোজি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি মেজর মোঃ মহসিনুল করিম (অব:) বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের মূল লক্ষ্য কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন নয়, বরং দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়া। আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠান শুধু উৎপাদন বা সেবা কেন্দ্রিক না থেকে, শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হোক। “বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের সম্ভাবনা অপরিসীম। বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই খাতে দক্ষতা অর্জন করে, আমাদের প্রকল্প ও শিল্প স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। তাদের হাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা দিয়ে আমরা দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারব।”
সেমিনারের বিশেষ অতিথি এ.কে.এম. নাওশেরুল আলম বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেধা বৃত্তি, সরকারি-উপবৃত্তি, এবং শিক্ষার্থীদের গ্রুপের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে কাজের সুযোগ প্রদান। এই সমস্ত উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্যারিয়ার গঠন এবং বাস্তব জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
এছাড়া, তিনি চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশেষ দৃষ্টান্তও তুলে ধরেন, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। চীনে এক সময় সাধারণ শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হত, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী তারা সেই নীতি পরিবর্তন করে। চীন আজকাল কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। ১৯৮০-এর দশকে চীন তার শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনে এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। চীন সরকারের লক্ষ্য ছিল, দেশের যুবকদের বিশেষ দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়ে প্রস্তুত করা, যাতে তারা শিল্প ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করতে পারে। এই পরিবর্তনগুলোর ফলে চীনের কর্মসংস্থান বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আসে, এবং দেশের অর্থনীতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।
সেমিনারের সভাপতি ডঃ কাজী মোঃ শাওকত-উল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রযুক্তি খাতে কার্যকরভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”
সেমিনারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি, তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে সক্রিয় ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।








