সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : মাগুরায় চাঁদার টাকা দিতে না পারার কারণে রিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হাতের আঙুল বিছিন্ন করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সদর উপজেলা হাজরাপুর ইউনিয়ন উত্তর নোয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গৃহবধূ রিমা খাতুন প্রবাসী আরিফ হোসেনের স্ত্রী। এছাড়া দুর্বৃত্তদের হামলা ঠেকাতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতের কব্জির ওপর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
আহত গৃহবধূ রিমা খাতুন অভিযোগ করেন, সকালে উত্তর নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত মুন্তাজ শিকদারের ছেলে ও হাজরাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছোটভাই ফারুক শিকদার, ছেলে মিঠুন সিকদার আমার বাড়িতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমার ওপর হামলা করেছে। চাঁদার টাকা না দিতে পারায় ওই তিন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ডান হাতের মধ্যমা আঙুল কেটে পড়ে যায়। তাদের আঘাত ঠেকাতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাম হাতের কব্জি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় এই সুযোগে প্রায় আমার ওপর চাঁদা দাবি করে আসছিল। আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলামসহ তার ছোটভাই যুবলীগ কর্মী ফারুক হোসেন ও ছেলে মিঠুন শিকদারকে নিয়ে আমার কাছে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে। পূর্বে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে আমার জমির আইল কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমাকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমার আঙুল কেটে পড়ে যাওয়ার পর বাম হাতে কোপ দিয়ে কেটে ফেলেছে। পরে আমি আমার মা ঘরের মেঝেতে পড়ে গেলে ওই তিন হামলাকারী আমার ওপর নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করেছে। পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে ভর্তি করে।
মাগুরা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার সুমাইয়া আক্তার বলেন, ডান হাতের আঙুল কেটে ঝুলে পড়া ও বাম হাতে কব্জির ওপরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এক নারী ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়েছি বর্তমানে আহত ওই নারী সার্জারি বিভাগে ভর্তি রয়েছে।
মাগুরা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ট্রিপল নাইনে ফোন পাওয়ার পর আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। লিখিত অভিযোগ দিলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







