ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রিট দায়েরকারী কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওএসডি প্রত্যাহার ও সিলগালা করা দাপ্তরিক কক্ষ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওই কর্মকর্তার করা আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিন, আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সৈয়দা নাসরীন। রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বিটিআরসিতে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে আত্তীকরণ ও নিয়োগে অনিয়ম এবং তাদের দ্রুত পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে সংস্থায় কর্মরত ৬ জন উপ-পরিচালক—সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এস এম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৫ মার্চ বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রেরিত বিগত ১৬ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বরের চিঠি অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং গুরুতর আর্থিক অনিয়ম-এ তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই রুলে।
উচ্চ আদালতে রিট করার পর রিটকারী দুই উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজাকে বিধিবহির্ভূতভাবে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। ওই বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হলে গত ১৫ এপ্রিল বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের দ্বৈত বেঞ্চ বদলির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশের পর সঞ্জিব কুমার সিংহকে বিটিআরসি প্রশাসনে দায়িত্বহীন অবস্থায় সংযুক্ত করে রাখা হয়।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপ-পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা) স্বাক্ষরিত এক আদেশে সঞ্জিব কুমার সিংহকে ওএসডি করা হয় এবং পরদিনই তার দাপ্তরিক কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই রিট করার জেরে হয়রানিমূলকভাবে তাকে ওএসডি ও কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর ওএসডি প্রত্যাহার ও কক্ষ সিলগালামুক্ত করার আবেদন করেন সঞ্জিব কুমার সিংহ। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো সুরাহা না করে গত ১১ অক্টোবর সঞ্জিব কুমার সিংহসহ রিটকারী অপর তিন উপ-পরিচালক আফজাল রেজা, জাকির হোসেন খান ও আহসানুল হাবিব মিঠুনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ, যেখানে নোটিশের কারণ সম্পূর্ণ অস্পষ্ট রাখা হয়।
পরে ওএসডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সঞ্জিব কুমার সিংহ। শুনানি শেষে আদালত ওএসডি আদেশ প্রশ্নে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন এবং রিটকারীর আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।








