ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর চারদিকে উৎসবের আমেজ। প্রকৃতিতে শরৎ নামতেই কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শেরপুরজুড়ে এখন তাই ব্যস্ততা শেষ মুহূর্তে। কোথাও প্রতিমার গায়ে রঙের আঁচড়, কোথাও চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আর উৎসব নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপে মণ্ডপে জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ। ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজার আয়োজন। ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই উৎসব।
চলতি বছর শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলা ও চার পৌরসভায় মোট ১৬৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দেব-দেবীর প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙের কাজ, পোশাক ও অলংকার পরানোর প্রস্তুতি। প্রতিমাকে নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা।
কারিগররা জানান, প্রতিমা তৈরির শুরুতে কাঠ, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয় কাঠামো। এরপর কয়েক দফায় মাটির প্রলেপ দিয়ে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব। মাটির প্রলেপ শুকিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় রঙের কাজ। এরপর পোশাক, অলংকার ও নানা সাজসজ্জায় পূর্ণতা পাবে প্রতিমার রূপ।
প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ে এসে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েক গুণ। সময়মতো কাজ শেষ করতে অনেক কারিগরকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে মণ্ডপগুলোতে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ।
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পূজার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির স্থান ও বিভিন্ন মণ্ডপে পুলিশি নজরদারি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, এ বছর জেলার ১৬৭টি পূজামণ্ডপে আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিটি মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী। জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশ সুপার একে এম জহিরুল ইসলাম বলেছেন, দুর্গাপূজার বিশেষ নিরাপত্তা আইন শৃংথলা বাহিনী প্রস্তুত। এখন থেকেই মণ্ডপ ও যেখানে প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে পুলিশ প্রহরা বসিয়েছে। পুলিশ সাদা পোশাকে নজর রাখছে। পূজা চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।








