ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার মাঠে আসছে বড় পরিবর্তন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৭ সাল থেকে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের মাঠে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বেহাল অবস্থার কারণে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো ও ফ্লুমিনেন্সের খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। সেই চাপের মুখেই অবশেষে ঘাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠ পরিচালনাকারী ‘ফ্লা-ফ্লু কনসোর্টিয়াম’।

বর্তমান ঘাসের পরিবর্তে বসানো হবে আধুনিক প্রযুক্তির ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। ঘন সূচির মধ্যে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের চাপ সামলানো এবং মাঠের স্থায়িত্ব ও টেকসই ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

বর্তমানে মারাকানা স্টেডিয়ামে ‘বারমুডা সেলিব্রেশন’ ঘাস ব্যবহার করা হলেও ২০২৭ সালের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে আরও আধুনিক ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। এটি প্রচলিত ঘাসের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং পিচ দ্রুত মেরামত ও নিয়মিত পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ৩৮তম বা শেষ রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হবে সংস্কারকাজ। পুরনো ঘাস পুরোপুরি তুলে ফেলে ওই মাসেই নতুন ঘাস রোপণের কাজ শুরু হবে।

তবে মাঠ বদলের এই ধকলের কারণে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর বার্ষিক চ্যারিটি ম্যাচ ‘গেম অব স্টার্স’। মাঠ প্রস্তুত না থাকায় এবার বড়দিনের সপ্তাহে প্রথাগত এই জমকালো ইভেন্টটি আয়োজন করা যাচ্ছে না। আয়োজকরা এখন নতুন কোনো তারিখের খোঁজে ব্যস্ত—হয়তো লিগ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে, নতুবা ঘাস রোপণ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বছরে!

মারাকানা স্টেডিয়ামের বেহাল দশার পেছনে মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের পাঁচটি মূল বিষয়কে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চারটিরই মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আবহাওয়া ও ঠাসা সূচি থেকে। ম্যাচের দিন বা খেলা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ম্যাচ খেলার হার এক লাফেই ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে পরপর দুটি ম্যাচের মধ্যকার বিরতিও কমে গেছে। ফলে মাঠে ঘাসের প্রাকৃতিক ঘনত্ব ও সজীবতা আশঙ্কাজনকভাবে নষ্ট হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর তুলনামূলক কম ম্যাচ হলেও অস্বাভাবিক আবহাওয়া পিচের ওপর বড় আঘাত হেনেছে। অস্বাভাবিক গরম শীতকাল এবং ভারী বর্ষণের যৌথ প্রভাবে ঘাসের আস্তরণ পাতলা ও অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। আর ক্ষয়ক্ষতি সামলে ঘাস আবার স্বাভাবিক হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় পিচের গুণমান পুরোপুরি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবোকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারাকানার সিইও ফ্রেড নান্তেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিচ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নারী বিশ্বকাপের সাথে সম্পর্কিত নয়—যদিও টুর্নামেন্টটির ৯টি ম্যাচ আয়োজিত হবে এই মারাকানাতেই। তাঁর মতে, মাঠের ঘাস বদলানোর প্রক্রিয়ায় নারী বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» চাঞ্চল্যকর ৪ অপহরণ মামলার আসামি কক্সবাজারে গ্রেফতার

» গাঁজাসহ মা-ছেলে আটক

» ব্যাংক থেকে পাওয়া যাবে বিনা সুদে ঋণ, কারা পাবেন এই সুবিধা

» ‘তোমাকে দিয়ে হবে না, নাচে তুমি জিরো’

» ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার মাঠে আসছে বড় পরিবর্তন

» হরমুজের পর লোহিত সাগরেও হুমকি, বিশ্ববাজারে তেল পৌঁছাবে কীভাবে?

» হরমুজ নিয়ে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে তেহরান

» ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

» সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল

» বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার মাঠে আসছে বড় পরিবর্তন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৭ সাল থেকে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের মাঠে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বেহাল অবস্থার কারণে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো ও ফ্লুমিনেন্সের খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। সেই চাপের মুখেই অবশেষে ঘাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠ পরিচালনাকারী ‘ফ্লা-ফ্লু কনসোর্টিয়াম’।

বর্তমান ঘাসের পরিবর্তে বসানো হবে আধুনিক প্রযুক্তির ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। ঘন সূচির মধ্যে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের চাপ সামলানো এবং মাঠের স্থায়িত্ব ও টেকসই ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

বর্তমানে মারাকানা স্টেডিয়ামে ‘বারমুডা সেলিব্রেশন’ ঘাস ব্যবহার করা হলেও ২০২৭ সালের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে আরও আধুনিক ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। এটি প্রচলিত ঘাসের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং পিচ দ্রুত মেরামত ও নিয়মিত পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ৩৮তম বা শেষ রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হবে সংস্কারকাজ। পুরনো ঘাস পুরোপুরি তুলে ফেলে ওই মাসেই নতুন ঘাস রোপণের কাজ শুরু হবে।

তবে মাঠ বদলের এই ধকলের কারণে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর বার্ষিক চ্যারিটি ম্যাচ ‘গেম অব স্টার্স’। মাঠ প্রস্তুত না থাকায় এবার বড়দিনের সপ্তাহে প্রথাগত এই জমকালো ইভেন্টটি আয়োজন করা যাচ্ছে না। আয়োজকরা এখন নতুন কোনো তারিখের খোঁজে ব্যস্ত—হয়তো লিগ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে, নতুবা ঘাস রোপণ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বছরে!

মারাকানা স্টেডিয়ামের বেহাল দশার পেছনে মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের পাঁচটি মূল বিষয়কে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চারটিরই মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আবহাওয়া ও ঠাসা সূচি থেকে। ম্যাচের দিন বা খেলা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ম্যাচ খেলার হার এক লাফেই ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে পরপর দুটি ম্যাচের মধ্যকার বিরতিও কমে গেছে। ফলে মাঠে ঘাসের প্রাকৃতিক ঘনত্ব ও সজীবতা আশঙ্কাজনকভাবে নষ্ট হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর তুলনামূলক কম ম্যাচ হলেও অস্বাভাবিক আবহাওয়া পিচের ওপর বড় আঘাত হেনেছে। অস্বাভাবিক গরম শীতকাল এবং ভারী বর্ষণের যৌথ প্রভাবে ঘাসের আস্তরণ পাতলা ও অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। আর ক্ষয়ক্ষতি সামলে ঘাস আবার স্বাভাবিক হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় পিচের গুণমান পুরোপুরি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবোকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারাকানার সিইও ফ্রেড নান্তেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিচ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নারী বিশ্বকাপের সাথে সম্পর্কিত নয়—যদিও টুর্নামেন্টটির ৯টি ম্যাচ আয়োজিত হবে এই মারাকানাতেই। তাঁর মতে, মাঠের ঘাস বদলানোর প্রক্রিয়ায় নারী বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com