বিলম্বিত চিকিৎসায় সংকটে স্ট্রোক ও হৃদরোগীরা

ছবি সংগৃহীত

 

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম: : হৃদরোগ ও স্ট্রোক রোগীদের যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর রোগীভেদে নিতে হয় দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি। কিন্তু এখন স্ট্রোক ও হৃদরোগীরা থেরাপি সেন্টারে আসতে আসতে বিলম্ব করে ফেলেন। ততদিনে রোগীর অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হতে শুরু করে। ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের দেখা দেয় নানা জটিলতা, সংকট।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা’। ১৯৯৬ সালে ‘ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি’ ৮ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ১২১টি দেশে দিনটি পালন করে। দিবস নিয়ে চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিনিয়ত হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগী বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে থেরাপি রোগীও। কিন্তু সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে সীমিত ব্যবস্থা থাকলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল। আবার বেসরকারি কিছু কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর মান ও দক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।   চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দা রিহ্যাবিলিটেশন প্যারালাইসড (সিআরপি) কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ থেরাপি দেওয়া হয়। গত বছরে এই সেন্টারে মোট ১৪  হাজার ৩৩৪ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে। এর মধ্যে শিশু ৬ হাজার ৩৩ জন, বয়স্ক ৫ হাজার ৮৪০ জন, বয়স্ক (ষাটোর্ধ) ২ হাজার ৪৬১ জন। তাছাড়া নিয়মিত থেরাপি গ্রহণ করে এমন রোগী ৫২ হাজার ৭৫৪ জন, কৃত্রিম পা লাগানো হয় ১৩৭ জনকে ও আর্থাইটিস রোগী ২৪৭ জন।

সিআরপি চট্টগ্রাম এ কে খান কেন্দ্রের কনসালটেন্ট মো. খলিলুর রহমান বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগী সময় মত আসে না। বিলম্বে আসার কারণে রোগীর জটিল আকার ধারণ করে। তাছাড়া, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগীর জন্য ফিজিওথেরাপি গ্রহণ যে একটি অতিজরুরি চিকিৎসা, এটি এখনও অনেকেই জানেনা। ফলে চিকিৎসা বিলম্ব হয়।

চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের মত গরীব দেশ হৃদরোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, অধিকাংশ জনগণের সাধ্যের বাইরে। আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে  হৃদরোগ প্রতিরোধ করা। শারীরিক কার্যক্রম হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় মহাওষুধের মত কাজ করে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং থেরাপি  গ্রহণ কেবল ওজনই কমায় না, এটি হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টোরল, মানসিক চাপ এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতার ওপর এক সঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (নিউরোমেডিসিন) ডা. সামি এম. আদনান বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্ট্রোক-পরবর্তী রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথেও ফিজিওথেরাপি ও পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আমি মনে করি, যথাসময়ে চিকিৎসার পাশাপাশি সমন্বিত পুনর্বাসনই স্ট্রোকজনিত অক্ষমতা কমিয়ে রোগীর কর্মক্ষমতা ও জীবনমান ফিরিয়ে আনার অন্যতম চাবিকাঠি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিনিয়ত থেরাপির চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু চট্টগ্রামে থেরাপিস্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান কম। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন চার বছরের একটি কোর্স থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারি  প্রতিষ্ঠান না থাকার সুবাধে গড়ে ওঠেছে মানহীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখান  থেকে থেরাপিস্ট বের হলেও তারা মানসম্পন্ন থেরাপি প্রদান করতে পারেননা। তাতে রোগীরাও আশানুরূপ উপকার পান না।   সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মাইবিএল কি আরও বড় পরিসরে আসছে? ইঙ্গিত দিল বাংলালিংক

» বাংলালিংক-কে অ্যাডভান্সড ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

» রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

» ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫ কেন্দ্রের ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে থাকবে এসআরবি

» ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : ১৮৫ কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তায় সরঞ্জাম বিতরণ

» চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন : সড়কমন্ত্রী

» হেরে গেলে ফলাফল মানবেন তো ট্রাম্প?

» বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য : টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী

» সাইবার হামলার আশঙ্কায় এনআইডি সার্ভার সাময়িক বন্ধ

» সিডনিতে সাংবাদিকদের মিলনমেলা : এবিজেএ’র সভাপতি মতিন ও সম্পাদক ফয়সাল

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিলম্বিত চিকিৎসায় সংকটে স্ট্রোক ও হৃদরোগীরা

ছবি সংগৃহীত

 

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম: : হৃদরোগ ও স্ট্রোক রোগীদের যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর রোগীভেদে নিতে হয় দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি। কিন্তু এখন স্ট্রোক ও হৃদরোগীরা থেরাপি সেন্টারে আসতে আসতে বিলম্ব করে ফেলেন। ততদিনে রোগীর অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হতে শুরু করে। ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের দেখা দেয় নানা জটিলতা, সংকট।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা’। ১৯৯৬ সালে ‘ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অফ ফিজিক্যাল থেরাপি’ ৮ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ১২১টি দেশে দিনটি পালন করে। দিবস নিয়ে চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিনিয়ত হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগী বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে থেরাপি রোগীও। কিন্তু সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে সীমিত ব্যবস্থা থাকলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল। আবার বেসরকারি কিছু কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর মান ও দক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।   চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দা রিহ্যাবিলিটেশন প্যারালাইসড (সিআরপি) কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ থেরাপি দেওয়া হয়। গত বছরে এই সেন্টারে মোট ১৪  হাজার ৩৩৪ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে। এর মধ্যে শিশু ৬ হাজার ৩৩ জন, বয়স্ক ৫ হাজার ৮৪০ জন, বয়স্ক (ষাটোর্ধ) ২ হাজার ৪৬১ জন। তাছাড়া নিয়মিত থেরাপি গ্রহণ করে এমন রোগী ৫২ হাজার ৭৫৪ জন, কৃত্রিম পা লাগানো হয় ১৩৭ জনকে ও আর্থাইটিস রোগী ২৪৭ জন।

সিআরপি চট্টগ্রাম এ কে খান কেন্দ্রের কনসালটেন্ট মো. খলিলুর রহমান বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগী সময় মত আসে না। বিলম্বে আসার কারণে রোগীর জটিল আকার ধারণ করে। তাছাড়া, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগীর জন্য ফিজিওথেরাপি গ্রহণ যে একটি অতিজরুরি চিকিৎসা, এটি এখনও অনেকেই জানেনা। ফলে চিকিৎসা বিলম্ব হয়।

চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের মত গরীব দেশ হৃদরোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, অধিকাংশ জনগণের সাধ্যের বাইরে। আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে  হৃদরোগ প্রতিরোধ করা। শারীরিক কার্যক্রম হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় মহাওষুধের মত কাজ করে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং থেরাপি  গ্রহণ কেবল ওজনই কমায় না, এটি হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টোরল, মানসিক চাপ এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতার ওপর এক সঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (নিউরোমেডিসিন) ডা. সামি এম. আদনান বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্ট্রোক-পরবর্তী রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথেও ফিজিওথেরাপি ও পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আমি মনে করি, যথাসময়ে চিকিৎসার পাশাপাশি সমন্বিত পুনর্বাসনই স্ট্রোকজনিত অক্ষমতা কমিয়ে রোগীর কর্মক্ষমতা ও জীবনমান ফিরিয়ে আনার অন্যতম চাবিকাঠি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিনিয়ত থেরাপির চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু চট্টগ্রামে থেরাপিস্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান কম। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন চার বছরের একটি কোর্স থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারি  প্রতিষ্ঠান না থাকার সুবাধে গড়ে ওঠেছে মানহীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখান  থেকে থেরাপিস্ট বের হলেও তারা মানসম্পন্ন থেরাপি প্রদান করতে পারেননা। তাতে রোগীরাও আশানুরূপ উপকার পান না।   সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com