আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :আজানের ধ্বনি ভেসে এলে অনেকে কথা বলা বন্ধ করে দেন। আবার কেউ মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় বা দীর্ঘদিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের নানা বক্তব্য দেখা যায়। কিন্তু কোরআন-হাদিস এ বিষয়ে কী বলে? ইসলামে আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।’ প্রশ্ন হলো- আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?

আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?
আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় না। তবে, অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে আজান শোনা এবং এর জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে কেউ যদি আজানের সময় কথা বলে বা অন্যকোনো কাজে ব্যস্ত থাকে, তাহলে এ কারণে সে গুনাহগার হবে—এমন কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই।

অর্থাৎ আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত, কিন্তু তা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই তা আদায় না করলে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে, তবে গুনাহ হবে বলা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: আজানের সময় মাথায় কাপড় দেওয়া কি জরুরি কিছু?

আজানের জবাব দেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আজানের জবাব দেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। তাই আজান শুনে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া, অজু করা এবং সময়মতো জামাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা একজন মুসলমানের মূল দায়িত্ব।

জরুরি প্রয়োজনে কাজ চালিয়ে যাওয়া
আজানের সময় সাধারণ কথাবার্তা বা অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম। তবে কেউ যদি জরুরি দায়িত্বে থাকেন, যেমন চিকিৎসাসেবা, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, জরুরি ফোনকল বা এমন কোনো কাজ, যা তখনই শেষ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

একইভাবে ওয়াজ, দ্বীনি আলোচনা বা কোরআন তেলাওয়াত চললেও সাময়িক বিরতি দিয়ে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয় না
অনেকের মুখে শোনা যায়, আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ বলেন, আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। এসব বক্তব্যের কোনো সহিহ প্রমাণ নেই। আলেমরা এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই এ ধরনের কথা প্রচার বা বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

আরও পড়ুন: অজু ছাড়া আজান দেওয়া যায়?

আজানের জবাব কীভাবে দেবেন?
মুয়াজ্জিন যা বলেন, সাধারণভাবে তার অনুরূপই বলতে হয়।

তবে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবে বলতে হবে- ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

ফজরের আজানে ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ বলা হলে জবাবে বলা উত্তম- ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা।’

হাদিসে আজানের জবাবদাতার জন্য জান্নাতের সুসংবাদও বর্ণিত হয়েছে।

মোটকথা, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ—এমন ধারণার কোনো সহিহ দলিল নেই। তবে আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই আজান শুনে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রাখা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।

ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত কথার চেয়ে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করাই একজন মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ।

তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৫; ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৯৯; আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫/৪২৭, ৫/৪৩০    সূএ :ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত, আহত ৩

» মানবপাচার মামলার এক আসামি গ্রেফতার

» অডিট রিপোর্ট না দেওয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি

» দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনো বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

» পুকুরে জেলেদের জালে উঠে এলো শর্টগান

» সংসদই হতে হবে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান মঞ্চ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

» আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

» ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :আজানের ধ্বনি ভেসে এলে অনেকে কথা বলা বন্ধ করে দেন। আবার কেউ মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় বা দীর্ঘদিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের নানা বক্তব্য দেখা যায়। কিন্তু কোরআন-হাদিস এ বিষয়ে কী বলে? ইসলামে আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।’ প্রশ্ন হলো- আজানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হবে?

আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?
আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয় না। তবে, অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে আজান শোনা এবং এর জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে কেউ যদি আজানের সময় কথা বলে বা অন্যকোনো কাজে ব্যস্ত থাকে, তাহলে এ কারণে সে গুনাহগার হবে—এমন কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই।

অর্থাৎ আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত, কিন্তু তা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই তা আদায় না করলে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে, তবে গুনাহ হবে বলা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: আজানের সময় মাথায় কাপড় দেওয়া কি জরুরি কিছু?

আজানের জবাব দেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আজানের জবাব দেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। তাই আজান শুনে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া, অজু করা এবং সময়মতো জামাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা একজন মুসলমানের মূল দায়িত্ব।

জরুরি প্রয়োজনে কাজ চালিয়ে যাওয়া
আজানের সময় সাধারণ কথাবার্তা বা অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম। তবে কেউ যদি জরুরি দায়িত্বে থাকেন, যেমন চিকিৎসাসেবা, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, জরুরি ফোনকল বা এমন কোনো কাজ, যা তখনই শেষ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

একইভাবে ওয়াজ, দ্বীনি আলোচনা বা কোরআন তেলাওয়াত চললেও সাময়িক বিরতি দিয়ে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয় না
অনেকের মুখে শোনা যায়, আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ বলেন, আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। এসব বক্তব্যের কোনো সহিহ প্রমাণ নেই। আলেমরা এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই এ ধরনের কথা প্রচার বা বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

আরও পড়ুন: অজু ছাড়া আজান দেওয়া যায়?

আজানের জবাব কীভাবে দেবেন?
মুয়াজ্জিন যা বলেন, সাধারণভাবে তার অনুরূপই বলতে হয়।

তবে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবে বলতে হবে- ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

ফজরের আজানে ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ বলা হলে জবাবে বলা উত্তম- ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা।’

হাদিসে আজানের জবাবদাতার জন্য জান্নাতের সুসংবাদও বর্ণিত হয়েছে।

মোটকথা, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ—এমন ধারণার কোনো সহিহ দলিল নেই। তবে আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই আজান শুনে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রাখা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।

ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত কথার চেয়ে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করাই একজন মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ।

তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৫; ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৯৯; আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫/৪২৭, ৫/৪৩০    সূএ :ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com