মানুষের দুঃখ শুনতে পারাও এক ধরনের দয়া

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সব দুঃখের সমাধান আমাদের হাতে থাকে না। কারও সমস্যা দূর করার মতো সামর্থ্যও হয়তো নেই। তবু একজন মানুষ যখন নিজের কষ্টের কথা বলতে চান, তখন তার পাশে বসা যায়, মন দিয়ে শোনা যায়। অনেক সময় এটুকুই তার জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।

ইসলাম মানুষের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও কোমল আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অতি দয়ালু ও পরম দয়াময়।’ (সুরা হজ: ৬৫) হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নম্র আচরণ থেকে বঞ্চিত সে প্রকৃত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৯২)

সব সময় সমাধান দিতে হয় না

কেউ নিজের কথা বললে আমরা অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিতে শুরু করি। অথচ তিনি হয়তো কোনো সমাধান চান না। শুধু এমন একজন মানুষ চান, যার কাছে নিজের কথাগুলো নির্ভয়ে বলা যায়।

তাই কাউকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া, তার কষ্টকে ছোট করে দেখা কিংবা নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। আগে মন দিয়ে তার কথা শোনা দরকার। প্রয়োজন হলে পরে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

কষ্টকে ছোট করে দেখবেন না

একজনের কাছে যে বিষয়টি সামান্য, অন্যের কাছে সেটিই হয়তো গভীর বেদনার কারণ। তাই ‘এটা নিয়ে এত কষ্ট পাওয়ার কী আছে?’ এ ধরনের কথা মানুষকে আরও একা করে দিতে পারে।

কেউ নিজের কথা বললে তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও সেটিকে অস্বীকার করার অধিকার আমাদের নেই।

ব্যক্তিগত কথা আমানত

মানুষ অনেক সময় এমন কিছু কথা বলে, যা সে অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারে না। তাই কারও ব্যক্তিগত কথা শুনলে সেটিকে আমানত মনে করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং এরপর এদিক-সেদিক তাকায়, তখন তা আমানত।’ (সুনান আবু দাউদ: ৪৮৬৮)

তাই কারও ব্যক্তিগত কথা পরে অন্যের কাছে বলে বেড়ানো, আলোচনা করা বা হাসি-তামাশার বিষয় বানানো বিশ্বাসের অমর্যাদা।

কখনো নীরব থাকাই ভালো

সব কথার উত্তর দিতে হয় না। কিছু পরিস্থিতিতে দীর্ঘ উপদেশের চেয়ে নীরবে পাশে থাকাই বেশি প্রয়োজনীয়।

কেউ কাঁদতে কাঁদতে নিজের কথা বললে তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে কথা শেষ করতে দেওয়া যায়। কখনো শুধু বলা যায়, ‘আল্লাহ আপনার কষ্ট সহজ করে দিন।’ কিংবা ‘আপনার জন্য দোয়া করব।’

কয়েকটি আন্তরিক কথা একজন মানুষের মনে বড় ভরসা তৈরি করতে পারে।

কষ্ট শুনে বিচার নয়

কারও জীবনের পুরো ঘটনা না জেনে তার পরিস্থিতি নিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। আমরা হয়তো তার জীবনের এমন অনেক বাস্তবতা জানি না, যা তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তাই কেউ নিজের কথা বললে প্রথমে তাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। ভুল থাকলে সংশোধনের কথা বলা যাবে, তবে তার আগে তার কথা শোনা দরকার।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার কোনো কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

অন্যের সমস্যা সমাধান করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে তার বোঝা কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করা সম্ভব।

কখন নীরব থাকা যথেষ্ট নয়

কারও কথা শুনতে গিয়ে যদি বোঝা যায় তিনি গুরুতর বিপদে আছেন, নিজের বা অন্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কিংবা দ্রুত সাহায্যের প্রয়োজন, তখন শুধু শ্রোতা হয়ে থাকা যথেষ্ট নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্বস্ত স্বজন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত।

গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ এই নয় যে গুরুতর বিপদের আশঙ্কা থাকলেও প্রয়োজনীয় সাহায্য থেকে বিরত থাকতে হবে।

কেউ কষ্টের কথা বললে একটু সময় দিন, মন দিয়ে শুনুন। হয়তো তার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না, তবু আপনার আন্তরিক উপস্থিতি তার কষ্ট কিছুটা হালকা করতে পারে। কখনো কখনো পাশে থাকাটাই বড় দয়া।

তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ মুসলিম ও সুনান আবু দাউদ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বট বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: বিমানমন্ত্রী

» সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

» ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনকে হাস্যকর বললেন বিমানমন্ত্রী

» শিশু হাসপাতালের কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

» ছাড় নয়-চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: চিফ হুইপ

» ‘ফ্যামিলি কার্ড তালাক বন্ধ করেছে, ভাত খাইতে হলে স্বামীকে ওই নারীর কাছে আসতে হবে’

» হাসিনার সস্তা ভার্সন হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: সাদিক কায়েম

» নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়ালে ছাড় নয়, শাস্তি আরও বড়: ইশরাক

» গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দাবি এনসিপির

» নৌকা বাইচে বিজয়ের আনন্দে শোকের ছায়া, চার সন্তানের জনকের মৃত্যু

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মানুষের দুঃখ শুনতে পারাও এক ধরনের দয়া

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সব দুঃখের সমাধান আমাদের হাতে থাকে না। কারও সমস্যা দূর করার মতো সামর্থ্যও হয়তো নেই। তবু একজন মানুষ যখন নিজের কষ্টের কথা বলতে চান, তখন তার পাশে বসা যায়, মন দিয়ে শোনা যায়। অনেক সময় এটুকুই তার জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।

ইসলাম মানুষের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও কোমল আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অতি দয়ালু ও পরম দয়াময়।’ (সুরা হজ: ৬৫) হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নম্র আচরণ থেকে বঞ্চিত সে প্রকৃত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৯২)

সব সময় সমাধান দিতে হয় না

কেউ নিজের কথা বললে আমরা অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিতে শুরু করি। অথচ তিনি হয়তো কোনো সমাধান চান না। শুধু এমন একজন মানুষ চান, যার কাছে নিজের কথাগুলো নির্ভয়ে বলা যায়।

তাই কাউকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া, তার কষ্টকে ছোট করে দেখা কিংবা নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। আগে মন দিয়ে তার কথা শোনা দরকার। প্রয়োজন হলে পরে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

কষ্টকে ছোট করে দেখবেন না

একজনের কাছে যে বিষয়টি সামান্য, অন্যের কাছে সেটিই হয়তো গভীর বেদনার কারণ। তাই ‘এটা নিয়ে এত কষ্ট পাওয়ার কী আছে?’ এ ধরনের কথা মানুষকে আরও একা করে দিতে পারে।

কেউ নিজের কথা বললে তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও সেটিকে অস্বীকার করার অধিকার আমাদের নেই।

ব্যক্তিগত কথা আমানত

মানুষ অনেক সময় এমন কিছু কথা বলে, যা সে অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারে না। তাই কারও ব্যক্তিগত কথা শুনলে সেটিকে আমানত মনে করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং এরপর এদিক-সেদিক তাকায়, তখন তা আমানত।’ (সুনান আবু দাউদ: ৪৮৬৮)

তাই কারও ব্যক্তিগত কথা পরে অন্যের কাছে বলে বেড়ানো, আলোচনা করা বা হাসি-তামাশার বিষয় বানানো বিশ্বাসের অমর্যাদা।

কখনো নীরব থাকাই ভালো

সব কথার উত্তর দিতে হয় না। কিছু পরিস্থিতিতে দীর্ঘ উপদেশের চেয়ে নীরবে পাশে থাকাই বেশি প্রয়োজনীয়।

কেউ কাঁদতে কাঁদতে নিজের কথা বললে তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে কথা শেষ করতে দেওয়া যায়। কখনো শুধু বলা যায়, ‘আল্লাহ আপনার কষ্ট সহজ করে দিন।’ কিংবা ‘আপনার জন্য দোয়া করব।’

কয়েকটি আন্তরিক কথা একজন মানুষের মনে বড় ভরসা তৈরি করতে পারে।

কষ্ট শুনে বিচার নয়

কারও জীবনের পুরো ঘটনা না জেনে তার পরিস্থিতি নিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। আমরা হয়তো তার জীবনের এমন অনেক বাস্তবতা জানি না, যা তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তাই কেউ নিজের কথা বললে প্রথমে তাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। ভুল থাকলে সংশোধনের কথা বলা যাবে, তবে তার আগে তার কথা শোনা দরকার।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার কোনো কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

অন্যের সমস্যা সমাধান করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে তার বোঝা কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করা সম্ভব।

কখন নীরব থাকা যথেষ্ট নয়

কারও কথা শুনতে গিয়ে যদি বোঝা যায় তিনি গুরুতর বিপদে আছেন, নিজের বা অন্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কিংবা দ্রুত সাহায্যের প্রয়োজন, তখন শুধু শ্রোতা হয়ে থাকা যথেষ্ট নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্বস্ত স্বজন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত।

গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ এই নয় যে গুরুতর বিপদের আশঙ্কা থাকলেও প্রয়োজনীয় সাহায্য থেকে বিরত থাকতে হবে।

কেউ কষ্টের কথা বললে একটু সময় দিন, মন দিয়ে শুনুন। হয়তো তার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না, তবু আপনার আন্তরিক উপস্থিতি তার কষ্ট কিছুটা হালকা করতে পারে। কখনো কখনো পাশে থাকাটাই বড় দয়া।

তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ মুসলিম ও সুনান আবু দাউদ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com