ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : গত ১৭ জুন যুদ্ধ শেষ করতে এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল। এই চুক্তির পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ আবারও অন্ধকারের মুখে পড়েছে। আল জাজিরার মারিয়াম আলির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ইরান অনুমতি ছাড়া যাওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তিনটি জাহাজে হামলা করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের মাটিতে তীব্র হামলা চালায়, এমনকি রাজধানী তেহরানেও আঘাত হানে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে শান্তি চুক্তি এখন ‘শেষ’। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি ও জাহাজের সংখ্যা
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন দিয়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলত। কিন্তু গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পথ বন্ধ করে দেয়। ১৭ জুনের চুক্তির পর পথটি আবার খুললেও জাহাজ চলাচল আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ১৮ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৫১৩টি জাহাজ এই প্রণালি পার হতে পেরেছে, অর্থাৎ দিনে গড়ে মাত্র ২৮টি জাহাজ চলেছে।
সমঝোতার পর ৫টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে ২৫ জুন সিঙ্গাপুরের ‘এভার লাভলি’, ২৭ জুন পানামার তেলের ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ এবং জুলাইয়ের ৬ ও ৭ তারিখে কাতারের ‘আল রেকায়াত’, সৌদির ‘উইদয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার একটি জাহাজে হামলা হয়।
আটকে পড়া নাবিক ও রুট নিয়ে বিরোধ
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও হামলার কারণে প্রায় ৬,০০০ নাবিক এখনও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন।
বর্তমানে জাহাজ চলাচলের রুট বা পথ নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের নিচে মাইন বা বোমার আতঙ্কে জাহাজগুলো আগের পথ ব্যবহার করছে না। তারা ওমান ও ইরানের জলসীমা ব্যবহার করছে। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাফ জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে তেহরানের নির্ধারিত পথেই চলতে হবে, ওমানের পথ ব্যবহার করলে হামলা হতে পারে। তাছাড়া ইরান এই পথ ব্যবহারের জন্য ফি বা কর নেওয়ার কথা ভাবছে, যা মানতে রাজি নন ট্রাম্প।








