ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর’ তিন সদস্য অস্ত্র ও গুলিসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তাদের জিম্মিতে থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীরা হলেন মো. আলামিন হোসেন (৪০), তৈবুর রহমান (২৪) ও মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তাদের মধ্যে আলামিনের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায়, তৈবুরের সাতক্ষীরায় এবং মামুনের খুলনায়।
তিনি জানান, আত্মসমর্পণের সময় তারা দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন। একই সঙ্গে তাদের জিম্মিতে থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ২১ মে সুন্দরবনের আরেক বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ সাত সদস্য পাঁচটি অস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের জিম্মিতে থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








