যাকে বলা হয় ‘সর্বমন্ত্রী’, তিনি সব মন্ত্রণায়ল আজানও দেন ইকামতও দেন : ডা. শফিকুর রহমান

‎ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর এক সহকর্মীকে ‘সর্বমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) সহকর্মী যাকে বলা হয় সর্বমন্ত্রী। সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজানও ইকামতও দেন। মাঝে মাঝে তিনি সংসদে ফতোয়া দেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন যেন হয়ে যায় এজন্য আমরা এগুলো বলেছিলাম। লজ্জা! একটি সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন? আমরা এই রাজনীতি করি নাই; করবো না।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল প্রথমে ‌‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিলো না। তারা চুপ ছিলো। নীরবে নীরবে ‘না’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল। এরপর জনরোষের মুখে পড়ে শহীদ আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। একবারই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন। সেই গণভোটে ৬৭.৮ পার্সেন্ট ভোটের মূল্য কি দিলেন তিনি?

জামায়াত আমির বলেন, ২৪ হয়েছিলো বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। সুতরাং যাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের সরকার-বিরোধী দল, তারা যদি ওই সমস্ত শহীদ পরিবার আহত ভাইবোনদের অবজ্ঞা করেন; তাহলে নিজের সাথেই গাদ্দারির শামিল হবে। আমরা অনুরোধ করবো, এসমস্ত লড়াকু যোদ্ধাদের অবদানকে যেন খাটো করে দেখা না হয়।

তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের দায়িত্ব, তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।

নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা এবং গডফাদার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। মাঝখানে সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচার নারায়ণগঞ্জের মানুষ পায়নি। শুধু ত্বকী না দফায় দফায় লাশ নারায়ণগঞ্জকে উপহার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ হুংকার দিয়ে বলতেন, খেলা হবে। এখন কি আর বলে খেলা হবে? হুংকার দেওয়া ভালো নয়। অহংকার আল্লাহর চাদর। নতুন করে নারায়ণগঞ্জে গডফাদার তৈরি হোক এটা নারায়ণগঞ্জবাসী চায় না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» শিগগির জামায়াতের পতন হবে: রাশেদ খাঁন

» আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির

» যাকে বলা হয় ‘সর্বমন্ত্রী’, তিনি সব মন্ত্রণায়ল আজানও দেন ইকামতও দেন : ডা. শফিকুর রহমান

» ইয়াবাসহ যুবক আটক

» জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভিএফজিবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

» শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘অটো সজল’ তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার

» সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশিদের জানাজা অনুষ্ঠিত

» তিন উইকেট হারিয়ে চাপে অস্ট্রেলিয়া, দাপুটে বাংলাদেশ

» মেহেরপুরে বিজিবির কড়া অবস্থানে ব্যর্থ হলো বিএসএফের পুশইন চেষ্টা

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জন গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

যাকে বলা হয় ‘সর্বমন্ত্রী’, তিনি সব মন্ত্রণায়ল আজানও দেন ইকামতও দেন : ডা. শফিকুর রহমান

‎ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর এক সহকর্মীকে ‘সর্বমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) সহকর্মী যাকে বলা হয় সর্বমন্ত্রী। সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজানও ইকামতও দেন। মাঝে মাঝে তিনি সংসদে ফতোয়া দেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন যেন হয়ে যায় এজন্য আমরা এগুলো বলেছিলাম। লজ্জা! একটি সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন? আমরা এই রাজনীতি করি নাই; করবো না।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল প্রথমে ‌‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিলো না। তারা চুপ ছিলো। নীরবে নীরবে ‘না’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল। এরপর জনরোষের মুখে পড়ে শহীদ আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। একবারই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন। সেই গণভোটে ৬৭.৮ পার্সেন্ট ভোটের মূল্য কি দিলেন তিনি?

জামায়াত আমির বলেন, ২৪ হয়েছিলো বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। সুতরাং যাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের সরকার-বিরোধী দল, তারা যদি ওই সমস্ত শহীদ পরিবার আহত ভাইবোনদের অবজ্ঞা করেন; তাহলে নিজের সাথেই গাদ্দারির শামিল হবে। আমরা অনুরোধ করবো, এসমস্ত লড়াকু যোদ্ধাদের অবদানকে যেন খাটো করে দেখা না হয়।

তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের দায়িত্ব, তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।

নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা এবং গডফাদার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। মাঝখানে সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচার নারায়ণগঞ্জের মানুষ পায়নি। শুধু ত্বকী না দফায় দফায় লাশ নারায়ণগঞ্জকে উপহার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ হুংকার দিয়ে বলতেন, খেলা হবে। এখন কি আর বলে খেলা হবে? হুংকার দেওয়া ভালো নয়। অহংকার আল্লাহর চাদর। নতুন করে নারায়ণগঞ্জে গডফাদার তৈরি হোক এটা নারায়ণগঞ্জবাসী চায় না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com