হরমুজ আগে, পারমাণবিক পরে- ইরানের শর্তই মানতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

অনলাইন ডেস্ক : বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারমাণবিক ইস্যু পরে আলোচনার ইরানি শর্তই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- এমন প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে কূটনৈতিক অঙ্গনে।

সোমবার সকালে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে এসকর্ট (বিশেষ নিরাপত্তা) কার্যক্রম শুরু করলেও, মঙ্গলবারই তা স্থগিত করা হয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’র কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক চায়, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে।

ইরানের শর্তই প্রাধান্য ‍পাচ্ছে?
কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রস্তাবে তেহরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ সংকট সমাধানকে প্রথম ধাপে রাখতে বলছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই অবস্থানের দিকেই এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, দুই দেশ একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যেখানে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনও হয়নি।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রেও সৌদি যুবরাজের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব ঘটনা বড় আকারের সংঘাতে রূপ নেয়নি।

বড় চুক্তির সম্ভাবনা কম
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা বাড়লেও, একইসঙ্গে যুদ্ধ, হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যুর পূর্ণ সমাধান একসঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি- এই দুই ইস্যুতে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» চব্বিশের গণহত্যার ৭ মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: সংসদে আইনমন্ত্রী

» আ.লীগকে প্রতিহত করার ঘোষণা ছাত্রদল সহ সভাপতির

» ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে

» বজ্রপাতে শ্রমিকসহ তিনজনের মৃত্যু

» বিশ্ব বাবা দিবস আজ

» সিডনিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

» সংসদ সদস্যদের মানোন্নয়ন করা দরকার : মান্না

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জন গ্রেফতার

» যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দ্রুত শেষ করার আহ্বান আঞ্চলিক নেতাদের

» দেশের ক্রীড়া যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

হরমুজ আগে, পারমাণবিক পরে- ইরানের শর্তই মানতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

অনলাইন ডেস্ক : বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারমাণবিক ইস্যু পরে আলোচনার ইরানি শর্তই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- এমন প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে কূটনৈতিক অঙ্গনে।

সোমবার সকালে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে এসকর্ট (বিশেষ নিরাপত্তা) কার্যক্রম শুরু করলেও, মঙ্গলবারই তা স্থগিত করা হয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’র কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক চায়, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে।

ইরানের শর্তই প্রাধান্য ‍পাচ্ছে?
কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রস্তাবে তেহরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ সংকট সমাধানকে প্রথম ধাপে রাখতে বলছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই অবস্থানের দিকেই এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, দুই দেশ একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যেখানে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনও হয়নি।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রেও সৌদি যুবরাজের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব ঘটনা বড় আকারের সংঘাতে রূপ নেয়নি।

বড় চুক্তির সম্ভাবনা কম
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা বাড়লেও, একইসঙ্গে যুদ্ধ, হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যুর পূর্ণ সমাধান একসঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি- এই দুই ইস্যুতে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com