ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে কিউবা। নজিরবিহীন এক অর্থনৈতিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি, যা দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) উপস্থাপিত এই প্যাকেজে বেসরকারি খাতের পরিসর বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সহজেই পাস হবে।
প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী কিউবানদের বিনিয়োগের পথও সহজ করা হবে। আবাসন খাতকে বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আংশিক বা পূর্ণ বেসরকারিকরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ব্যাংকের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্বীকার করেছেন, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কেবল বাইরের চাপ দায়ী নয়। তিনি বলেন, ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে সেই চাপ আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে দিয়াজ-কানেল ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও সংকটকে গভীর করেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তারা কিউবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’-এর অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে এবং গভীর সংস্কারের দাবি তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে কিউবার অর্থনীতি ধীরে ধীরে একটি মিশ্র ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকেই এ নিয়ে কিছু বিরোধিতার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও দেশটির সরকার মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কারের বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের ভাষায়, “সব সিদ্ধান্তে সবাই একমত হবে না, কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন থামিয়ে রাখা যাবে না।”
তথ্য সূত্র- ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট।








