কৃষক কার্ডে কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা

ছবি সংগৃহীত

 

মোস্তফা কামাল : বাংলাদেশে কৃষক কার্ডের ধারণাটাই নতুন। আর নতুন বছরের প্রথম দিনই এর যাত্রা। প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেসারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ-এই ১১ উপজেলায় ফার্মার্স কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি সারা দেশের সকল কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষকরা সচ্ছল থাকলে গোটা বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে বলে বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষক পরিচয়পত্র হিসেবে কার্ডটি ডিজাইন করা হলেও, ভিসার প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি একটি নিরাপদ ও সহজ নগদহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে। কৃষকদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন দিগন্তের সূচনা হলো এ কার্ডের মাধ্যমে।

দিনটিতে সারা দেশে ১১টি উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক, মৎস্যচাষি, খামারি ও লবণচাষিদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন, যা তারা খরচ করবেন বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলা নববর্ষের দিন চালু হওয়া এই উদ্যোগটির মাধ্যমে কৃষি খাতে সরকারের আধুনিকায়ন, তথা জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকারের প্রকাশ ঘটিয়েছে। কৃষক কার্ডে কৃষকরা মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। যার মধ্যে রয়েছে-ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্প খরচে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ ও পোকামাকড় দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।

ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা এবং ট্র্যাকিংয়ের জন্য সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশটিতে এ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ করে নাটমেগ (জায়ফল) চাষিদের জন্য এই কার্ড চালু রয়েছে, যা উৎপাদনকারী থেকে ডিলার পর্যন্ত পণ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা পাবেন। দরিদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। তাদেরকে ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক’- এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করার কাজ চলছে। যদ্দুর জানা গেছে, যাদের পাঁচ শতকের কম জমি রয়েছে যাদের, তাদের ফেলা হচ্ছে ভূমিহীন ক্যাটাগরিতে। পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক যেসব কৃষক, তারা পড়ছেন প্রান্তিক শ্রেণিতে। এর বাইরে কৃষকদের মধ্যে যারা ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক, তারা ক্ষুদ্র এবং যারা ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতকের মালিক, তারা মাঝারি কৃষকের শ্রেণিতে পড়ছেন। অন্যদিকে, যাদের জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি, তাদের বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পয়লা বৈশাখে দেয়া কার্ডের মধ্যে বেশিরভাগই ভূমিচাষী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন। তবে সংখ্যায় অংল্প হলেও কার্ডধারীদের তালিকায় মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি এবং লবণচাষীও রয়েছে।

এর মধ্যে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা প্রায় ৮৫৫ জন। কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে তিনটি ধাপে। এর মধ্যে এখন চলছে প্রি-পাইলটিং বা প্রাক-পরীক্ষামূলক ধাপ। এ ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগস্টের মধ্যে শুরু হবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে (তৃতীয় ধাপে) আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কাজের ধরন ও আওতা বিচারে এটি বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। যেনতেন কাজ নয়। সারা দেশের কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরি, কার্ডের আওতায় আনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ প্রদানের সুবিধা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দুঃসাহসী এ কাজে সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কৃষিমন্ত্রী। দেশের একজন ব্যতিক্রমী বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে তার সেই অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে করা হয়। মাথায় কিছু একটা নিলে সেটার সফল সমাপ্তি টানার রেকর্ড আছে তার। আবার প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-চেতনা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভিশনারি। বহুমুখীও। কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে বছরে অন্তত আড়াই হাজার নগদ টাকা দেয়ার পরিকল্পণা রয়েছে সরকারের। চাষি ও খামারিদের সুবিধার কথা ভেবে সরকারের এ উদ্যোগ কৃষকদের ভরসা জাগিয়েছে। ভরসা বা প্রত্যাশা জাগার পর তা বাস্তবায়ন সরকারের দায়বদ্ধতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সেইক্ষেত্রে সাবধানতা-সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রণোদনার ব্যাপারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বড় তিক্ত। তাই এর বাস্তব প্রতিফলনে সরকারকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কঠোর হতে হবে। এ ব্যাপারে ন্যূনতম শৈথিল্যও বড় বদনাম তথা বিপর্যয় ডাকতে পারে।

বাংলাদেশে এর আগেও বিভিন্ন সময় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড’ চালু করেছিল তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দশ টাকার কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং জেলেদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই পরবর্তীতে সেভাবে কাজে আসতে দেখা যায়নি। এর বড় কারণ ছিল অনিয়ম-দুর্নীতি। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনেকক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ অন্য ব্যক্তিদের তালিকায় রেখে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর যেন সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা দেখতে না হয়। সরকারের দিক থেকে এবার তেমনটি ঘটবে না বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দাবি-‘এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক মুক্ত। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই’। তার এ ওয়াদা রক্ষা ও কাজ বাস্তবায়নের বাকিটা মানুষ দেখতে চায় বাস্তবে, মুখের কথায় নয়।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন । সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

» ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার

» বনদস্যু সামাদ আটক, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

» জ্বালানি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ হবে: ডা. জাহেদ

» শুক্রবার টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

» কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে হত্যা

» ‘মুখে নয়, খেলা হবে মাঠে’

» সৌদি আরবের চাপে সুদানের অস্ত্র চুক্তি বাতিল করল পাকিস্তান

» দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

» আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কৃষক কার্ডে কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা

ছবি সংগৃহীত

 

মোস্তফা কামাল : বাংলাদেশে কৃষক কার্ডের ধারণাটাই নতুন। আর নতুন বছরের প্রথম দিনই এর যাত্রা। প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেসারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ-এই ১১ উপজেলায় ফার্মার্স কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি সারা দেশের সকল কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষকরা সচ্ছল থাকলে গোটা বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে বলে বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষক পরিচয়পত্র হিসেবে কার্ডটি ডিজাইন করা হলেও, ভিসার প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি একটি নিরাপদ ও সহজ নগদহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে। কৃষকদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন দিগন্তের সূচনা হলো এ কার্ডের মাধ্যমে।

দিনটিতে সারা দেশে ১১টি উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক, মৎস্যচাষি, খামারি ও লবণচাষিদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন, যা তারা খরচ করবেন বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলা নববর্ষের দিন চালু হওয়া এই উদ্যোগটির মাধ্যমে কৃষি খাতে সরকারের আধুনিকায়ন, তথা জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকারের প্রকাশ ঘটিয়েছে। কৃষক কার্ডে কৃষকরা মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। যার মধ্যে রয়েছে-ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্প খরচে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ ও পোকামাকড় দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।

ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা এবং ট্র্যাকিংয়ের জন্য সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশটিতে এ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ করে নাটমেগ (জায়ফল) চাষিদের জন্য এই কার্ড চালু রয়েছে, যা উৎপাদনকারী থেকে ডিলার পর্যন্ত পণ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় চালু হলো ‘কৃষক কার্ড’।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা পাবেন। দরিদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। তাদেরকে ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক’- এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করার কাজ চলছে। যদ্দুর জানা গেছে, যাদের পাঁচ শতকের কম জমি রয়েছে যাদের, তাদের ফেলা হচ্ছে ভূমিহীন ক্যাটাগরিতে। পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক যেসব কৃষক, তারা পড়ছেন প্রান্তিক শ্রেণিতে। এর বাইরে কৃষকদের মধ্যে যারা ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক, তারা ক্ষুদ্র এবং যারা ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতকের মালিক, তারা মাঝারি কৃষকের শ্রেণিতে পড়ছেন। অন্যদিকে, যাদের জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি, তাদের বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পয়লা বৈশাখে দেয়া কার্ডের মধ্যে বেশিরভাগই ভূমিচাষী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন। তবে সংখ্যায় অংল্প হলেও কার্ডধারীদের তালিকায় মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি এবং লবণচাষীও রয়েছে।

এর মধ্যে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা প্রায় ৮৫৫ জন। কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে তিনটি ধাপে। এর মধ্যে এখন চলছে প্রি-পাইলটিং বা প্রাক-পরীক্ষামূলক ধাপ। এ ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগস্টের মধ্যে শুরু হবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে (তৃতীয় ধাপে) আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কাজের ধরন ও আওতা বিচারে এটি বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। যেনতেন কাজ নয়। সারা দেশের কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরি, কার্ডের আওতায় আনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ প্রদানের সুবিধা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দুঃসাহসী এ কাজে সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কৃষিমন্ত্রী। দেশের একজন ব্যতিক্রমী বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে তার সেই অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে করা হয়। মাথায় কিছু একটা নিলে সেটার সফল সমাপ্তি টানার রেকর্ড আছে তার। আবার প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-চেতনা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভিশনারি। বহুমুখীও। কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে বছরে অন্তত আড়াই হাজার নগদ টাকা দেয়ার পরিকল্পণা রয়েছে সরকারের। চাষি ও খামারিদের সুবিধার কথা ভেবে সরকারের এ উদ্যোগ কৃষকদের ভরসা জাগিয়েছে। ভরসা বা প্রত্যাশা জাগার পর তা বাস্তবায়ন সরকারের দায়বদ্ধতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সেইক্ষেত্রে সাবধানতা-সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রণোদনার ব্যাপারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বড় তিক্ত। তাই এর বাস্তব প্রতিফলনে সরকারকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কঠোর হতে হবে। এ ব্যাপারে ন্যূনতম শৈথিল্যও বড় বদনাম তথা বিপর্যয় ডাকতে পারে।

বাংলাদেশে এর আগেও বিভিন্ন সময় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড’ চালু করেছিল তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দশ টাকার কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং জেলেদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই পরবর্তীতে সেভাবে কাজে আসতে দেখা যায়নি। এর বড় কারণ ছিল অনিয়ম-দুর্নীতি। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনেকক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ অন্য ব্যক্তিদের তালিকায় রেখে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর যেন সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা দেখতে না হয়। সরকারের দিক থেকে এবার তেমনটি ঘটবে না বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দাবি-‘এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক মুক্ত। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই’। তার এ ওয়াদা রক্ষা ও কাজ বাস্তবায়নের বাকিটা মানুষ দেখতে চায় বাস্তবে, মুখের কথায় নয়।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন । সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com