সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারতের মাটিতে প্রোটিয়াদের ইতিহাস রচনা করতে পারে বলে আশার কথা জানিয়েছিলেন। এর সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় ভারতের মাটিতে ২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় টেম্বা বাভুমার দল। একইভাবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার টুর্নামেন্টটিতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘আমার চাওয়া ফাইনালে আমরা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ভারতকে হারাব।’
আফ্রিকান ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এসএ২০–এর নতুন আসর চলছে। টুর্নামেন্টটির কমিশনারের দায়িত্বে আছেন সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। তারই এক ফাঁকে ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্প্রতি দেশটির বিপক্ষে টেস্টে জয় নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘এই সিরিজটি ছিল দুর্দান্ত। আমরা জানি এখানকার সফর বেশ কঠিন হয়। টেস্ট সিরিজে তারা (আফ্রিকা) যেভাবে দাপট দেখাল আমি অবাক হয়েছি। সত্যিই তারা আমাকে বিস্মিত করেছে। তবে এটি অসাধারণ। গত দেড় বছর ধরে আমাদের টেস্ট স্কোয়াড জাতীয় দলগুলোর হিসাবে বাতিঘর হয়ে উঠেছে, এটি সত্যিই দারুণ বিষয়।’
একইভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকার ভালো করার সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন সাবেক এই তারকা ওপেনার, ‘টেম্বা এবং কোচ শুকরি (কনরাড) আমাদের বিস্মিত করেছে। আশা করি এই চমক অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে সাদা বলের ফরম্যাটেও আমাদের অনেক প্রতিভা আছে। (ভারতীয় উপমহাদেশের কন্ডিশন বিবেচনায়) আমি মনে করি মিডল অর্ডারে স্পিন সামলানোর মতো দক্ষতাসম্পন্ন ব্যাটার আছে, বিশেষ করে ভারতের মাটিতে। তাই আশা করাই যায়, দারুণ একটি বিশ্বকাপ দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে।’
গত জুনে বাভুমার নেতৃত্বে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে প্রোটিয়ারা। এর মধ্য দিয়ে ১১ বছর পর তারা কোনো আইসিসি ট্রফিখরা কাটাল। ভারতের বিপক্ষে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিশোধ নেওয়ার আশা জানানোর পাশাপাশি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘আপনি ভারতীয় প্রতিভাদের শেষ বলে দিতে পারবেন না। তার ওপর বিশ্বকাপ এবার তাদের ঘরের মাঠে। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট এখন ট্রানজিশন পর্যায়ে আছে। গৌতমের (গম্ভীর) অধীনে এখন সিনিয়র ক্রিকেটাররা নেই, তাই তারা ট্রানজিশনে। তাই কী ঘটতে চলেছে দেখা যাক। তবে প্রতিভা ও সামর্থ্য হিসাব করলে, শেষ চারে ভারতের না ওঠাটা হবে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু।’

প্রসঙ্গত, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। যেখানে প্রতিযোগী ২০ দলকে ভাগ করা হয়েছে চারটি গ্রুপে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে ভারতের ৫টি ও শ্রীলঙ্কার ৩টি ভেন্যুতে। ভারতের ভেন্যুগুলো হচ্ছে– দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, কলকাতার ইডেন গার্ডেন, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বারাম, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ও মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়াম। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা ও সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মেগা টুর্নামেন্টটির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।








