সুখের প্রদীপ নিভে যায়

সুলেখা আক্তার শান্তা :
বিধবা হওয়ার পর স্বামীর বাড়ি আর ভাত জোটে না রহিমার। ছোট মেয়ে জেনিয়ারে নিয়ে চলে আসে বাপের বাড়ি। কি আর করা কপালে যদি সুখ না থাকে। বাপের বাড়ি এসেও শান্তি নাই। ভাই ভাবিদের সমস্ত কাজ কাম করেও তাদের মন পাওয়া যায় না। তাদের খাওয়ার পরে যদি খাবার থাকে তাহলে মা-মেয়ের খেতে পারে। আর না হয় উপোস থাকতে হয়।
জেনিয়া ক্ষুধার যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করে। কান্নার শব্দ পেয়ে ভাই বউ নাদিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে, শুধু খাই খাই করে।
রহিমা বলে, ভাবি রাগ করো কেনো? ছোট বাচ্চা, ওকি ভালো-মন্দ বোঝে?
রাগ করি কি আর সাধে? এতে কি আমাদের মান-সম্মান যায় না।
বাচ্চা কান্নাকাটি করে তাতে তোমাদের মান-সম্মান যায়।
ঠিক আছে, ও আর কান্নাকাটি করবে না। রহিমা কথা না বাড়িয়ে মুখ বন্ধ রাখে। ভাবে আশ্রয়ের শেষ জায়গাটুকুও হারাবে। ভাইদের বোনের প্রতি টান নেই। সহ্য করে যেভাবে দিনরাত পাড়ি দেওয়া যায়। তাতেই মঙ্গল। রহিমার একটাই চিন্তা মেয়েটা বড় হলে বিয়ে দিয়ে যেদিকে দু’চোখ যায় চলে যাবে। তখন আর ভাইদের কাছে বোঝা হয়ে থাকবে না।
নাদিয়াদের সবার দুপুরের খাওয়া শেষ হয়। বাকি থাকে রহিমা আর মেয়ে জেনিয়া। কাজ করতে করতে বেলা শেষ হয় রহিমার। বেলার শেষে মা-মেয়ের খাবার জুটে। রহিমা রাতের জন্য রান্না শুরু করে। রাতে নাদিয়াদের সবার খাওয়া হয়। রহিমা আবদার করে নাদিয়ার কাছে। ভাবি আমারে না দেন মেয়েটার জন্য যদি কয়টা ভাত দিতেন।
সন্ধ্যাবেলা খেয়েছে? আর একবেলা উপোস থাকলে সমস্যা হয়না।
রহিমা করুন সুরে বলে, আচ্ছা ভাবি।
নাদিয়া ভাত তো দিলো না। তারপরও বকবক আর থামে না।
রহিমা স্থির থাকতে না পেরে বলে, ভাবি এত কথা বলেন কেন? আমিও কিন্তু এই বাড়ির অংশীদার।
কি এত বড় কথা। শেষ আশ্রয়টুকু পাবে না থাকার জন্য বেশি কথা বললে।
থাক আর ভাত চাবো না। যখন যা দেন তাই খেয়ে থাকবো। রহিমা মেয়েকে নিয়ে শুয়ে পড়ে। জেনিয়ার ক্ষুধায় ছটফট দেখে, রহিমা গড়িয়ে পড়ে নিরব অশ্রু দু’চোখে অবিরল ধারায়।
জেনিয়া বড় হওয়ায়। মা রহিমা চিন্তায় পড়ে যায় মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। কি দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিবে। তাই মেয়েকে রোজগারের উদ্দেশ্যে ঢাকা পাঠায়। জেনিয়া ঢাকায় এসে একটি দর্জির দোকানে কাজে লাগে পেটে ভাতে। অল্পদিনেই জেনিয়া কাজ শিখে ফেলে। কাজ শিখার পরে যে টাকা বেতন পায় নিজের খাওয়া খরচ বাদে বাকি টাকা মায়ের জন্য পাঠিয়ে দেয়। দোকানের মালিক শরিফ ভালোবাসে জেনিয়াকে। এরপর দু’জনার মতেই বিয়ে হয়। বিয়ের পর দু’জনের ভালোভাবেই কাটে দিন।
জেনিয়ার বাচ্চা হবে। তাই শরিফ বউয়ের প্রতি খুব যত্নশীল। ঠিকমতো গোসল করা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম পাড়ানো। জেনিয়া স্বামীর এত যত্ন-আত্তি দেখে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করে যে শরিফের মতো এমন স্বামী পেয়েছে।
মেয়ের এমন খুশির সংবাদ শুনে রহিমা ঢাকায় আসে। মেয়ের কাছে কিছুদিন থাকে। জেনিয়ার মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। মেয়ে হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই খুশি। বাচ্চার নাম রাখে খুকি। খুকি জন্মের এক মাসের মাথায় শরিফ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
জেনিয়ার জীবনে নেমে আসে দুঃখ। স্বামী না থাকায়, দোকানে বসায় এলাকার কিছু বকাটে ছেলেদের দৃষ্টিতে পড়ে জেনিয়া। জেনিয়া বকাটেদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে যায়। একদিন জেনিয়ার সঙ্গে বকাটে ছেলেদের গন্ডগোল হয়। পল্লব গন্ডগোল মাঝে জেনিয়ার দোকানে হাজির। পল্লব এই গন্ডগোল মীমাংসা করে দেয়। এই সুবাদে জেনিয়ার দোকানে পল্লব প্রায়ই আসে। রীতিমতো তাদের দেখা, কথা বলায় দু’জনের সম্পর্ক খুব ভালো হয়। জেনিয়া মেয়ে খুকিকে নিয়ে দোকানে কাজ করতে না পারায়। খুকিকে মায়ের কাছে রাখে। জেনিয়া একাই ঢাকায় থাকে। পল্লব সবকিছু জেনেশুনে জেনিয়াকে বিয়ে করতে চায়। জেনিয়া বকাটে ছেলেদের কথা চিন্তা করে পল্লবকে বিয়ে করতে রাজি হয়। বিয়ের পর জেনিয়া দোকান করুক তা পল্লব চায়না। পল্লবের কথামতো দোকান ছেড়ে দেয়। দোকান ছেড়ে দেওয়া যে টাকা আসে তা পল্লবের হাতে তুলে দেয় জেনিয়া। বড়লোকের ছেলে বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে জেনিয়াকে। এই বিয়ের কথা বললে তারা রাজি হবেন না। এই ব্যাপার জেনিয়া ও মেনে নেয়। পল্লব বাড়ি গেলে জেনিয়ার কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। এমন পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন চলতে থাকে। পল্লবের কাছে জেনিয়া জানতে চায় এমন পরিস্থিতি কতদিন চলবে?
পল্লব তার উত্তরে বলে, যেভাবে চলছে খারাপ কি?
এইভাবে কি জীবন চলে?
পল্লব বলে, আমার ফ্যামিলির কাছে তোমার কথা কখনোই বলা সম্ভব নয়।
তোমার ফ্যামিলির কাছে যদি আমার কথা বলতে না পারো তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিলে কেন?
তোমার আগের ঘরের সন্তান আছে। এসব ব্যাপার আমার ফ্যামিলি কখনোই মানবেনা।
আমিতো তোমাকে সবই জানিয়েছি তখন কেন তুমি ফ্যামিলির কথা ভাবোনি?
সব ভাবনা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে আসেনা।
তুমি আমাকে এখন খরচ দিচ্ছ না। আমার মা-মেয়ে ওইদিকে না খেয়ে আছে। আমার দোকানের সব টাকা তোমার কাছে। আমার টাকা আমাকে ফেরত দাও।
তোমার কথা আমার ভাল লাগে না। এই কথা বলে, পল্লব কাপড়-চোপড় গুছিয়ে বের হতে প্রস্তুতি নেয়।
জেনিয়া জিজ্ঞেস করে তুমি কোথায় যাচ্ছ?
পল্লব বলে, আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানে তোমাকে কখনোই নেওয়া সম্ভব না। জেনিয়া বাধা দেয়। জেনিয়াকে ধাক্কা মেরে বের হয়ে চলে যায় পল্লব। জেনিয়া আটকাতে পারেনা পল্লবকে।
এরপর পল্লব বাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। জেনিয়া স্বামীর না আসার কারণে ভেঙ্গে পড়ে। জেনিয়া সিদ্ধান্ত নেয় সে পল্লবের বাড়ি যাবে। জেনিয়া স্বামীর উদ্দেশ্যে তার বাড়ি যায়। জেনিয়া বাড়ি পৌঁছালে দেখে পল্লব তার বাড়িতেই আছে।
পল্লব জেনিয়াকে দেখে বলে, কেন তুমি আমার বাড়িতে এসেছো। জেনিয়া বলে, স্বামীর বাড়ি স্ত্রী তো আসবেই।
পল্লব বলে, তুমি আমার স্ত্রী!
আমি কি এই কথা তোমাকে নতুন করে বলবো?
তুমি যেদিক দিয়ে এসেছো সেই দিকে ফিরে যাও।
আমি ফিরে যেতে আসিনি। আমি আমার অধিকার চাই। এরই মাঝে বাড়ির মানুষ জড়ো হলো সবাই পল্লবকে জিজ্ঞেস করে। পল্লব এ কে?
পল্লব বলে, আমি একে চিনি না।
জেনিয়া উচ্চস্বরে বলে, তুমি আমাকে চেনোনা। তাহলে আমার পরিচয় দেই। জেনিয়া সবার কাছে বলে, আমি পল্লবের স্ত্রী।
সবাই এক সুরে বলে, কি পল্লবের স্ত্রী! তোমাকে বিয়ে করেছে?
পল্লবের মা সাদিয়া উত্তেজিত হয়ে বলে, একজন এসে বলল সে আমার ছেলের স্ত্রী অমনি তাকে আমি বউ বলে মেনে নেব। এই মেয়ে আমার বাড়ি থেকে ভালোই ভালো বের হয়ে যাও না হয় পরিণাম খারাপ হবে। জেনিয়া হতবাক হয়ে পল্লবের দিকে তাকিয়ে থাকে! ভাবে পল্লব যেখানে স্ত্রী হিসেবে নিজেই মানে না। সে অন্যের কথায় কি বলবে। সব দ্বিধা-সংকোচ বাদ দিয়ে স্বামীকে বলে, তুমি একটা কিছু বলো, আমি এখন কি করবো?
লোকজন বলে, বিয়ে করা যায় আর স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আত্মমর্যাদায় বাদে। সবাই সাদিয়াকে বলে, এই মেয়ে এখন কোথায় যাবে। তোমরা এই মেয়েকে বউ হিসেবে মেনে নাও।
সবার চাপে পড়ে জেনিয়াকে ঘরে তুলে নেয়। পল্লবের ভাবি ইসরান বড়লোকের মেয়ে পরনে তার দামি শাড়ি অনেক গয়নাগাটি। ইসরান শাশুড়ি সাদিয়াকে বলে, আম্মা এ কি করলেন আপনি! এই ছোটলোকের বেটিকে ঘরে জায়গা দিলে?
সাদিয়া বলে, ওরে কি সাধে ঘরে তুলছি! লোকজনের চাপে পড়ে মেনে নিয়েছি। জেনিয়াকে বলে, তোর কোন খাওয়া-দাওয়া নেই। তুই এই রান্না ঘরে থাকবি। জেনিয়া তাদের আচার-আচরণ দেখে ভয় পায়। জেনিয়া ইসরানের পা জড়িয়ে ধরে বলে, আপা আমি আপনার ছোট বোন। আজ যদি আপনার বোনের এরকম হত, আপনি কি পারতেন সহ্য করতে? জেনিয়ার এই কথা শুনে ইসরানের মায়া হয়।
ইসরান বলে, তুমি যখন আমাকে বোন বলেছো। তোমার জন্য আমার যা করার দরকার আমি তাই করবো। জেনিয়াকে পা থেকে তুলে বুকে নেয়। বলে, তোমাকে একটা কথা বলি? আমি তোমাকে আপন করে নিয়েছি এই কথা তাদের বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি তাদের সামনে তোমাকে বকাঝকা করব।
জেনিয়া মাথা নেড়ে, হ্যাঁ বলে।
ইসরান নিজের রুমে যায়। স্বামীর মুখ গম্ভীর দেখে। ইসরান জিজ্ঞেস করে তোমার মন খারাপ কেন ফয়সাল?
ফয়সাল বলে, আরে দেখো না কোথা থেকে এক ঝামেলা এসে জুটেছে।
তোমার ভাই তাহলে তাকে বিয়ে করছে কেন?
আমার ভাইয়ের কথা বাদ দাও।
জেনিয়া স্বামীর বাড়ি আশ্রয় পায় ঠিকই। কিন্তু শোয়ার জন্য জুটে রান্নাঘর।
সাদিয়া ভোর হলে রান্নাঘরে ঢুকে জেনিয়াকে লাথি মেরে বলে, তুই এখান থেকে চলে যা।
জেনিয়া বলে, আমি আমার স্বামীর বাড়ি থেকে যাব না।
তুই স্বামী পেলি কোথায়? যে তোকে স্ত্রী হিসেবে মানে না।
জেনিয়া চুপ হয়ে থাকে ভাবে সবার যখন একই উদ্দেশ্য এখানে আমার কথার কোন মূল্য নেই। তারচেয়ে কথা না বলাই ভালো।
পল্লব তার বাবা-মা ভাই জেনিয়ার বিষয়ে আলাপ নিয়ে বসে। আজ রাতে জেনিয়াকে মেরে ফেলবে। পল্লবের বাবা রুস্তম বলে, কিছুতেই ওকে বাঁচিয়ে রাখা যাবেনা। ইসরান এই কথা শুনে ফেলে। ইসরান কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জেনিয়াকে বলে, তুই এখান থেকে পালা। ওরা তোকে আজ রাতে মেরে ফেলবে!
জেনিয়া আতঙ্কিতহ হয়ে বলে, আপা বলেন কি!
হ্যাঁ আমি যা বলছি সত্যি বলছি! আমি তোকে এখান থেকে পালানোর ব্যবস্থা করে দেব।
সত্যি আপা আপনি আমার বোনের মতোই উপকার করলেন। এসব কথা এখন ছাড় আমাকে তোর কিছু বলতে হবেনা।
সন্ধ্যা হলো, আস্তে আস্তে চারদিক অন্ধকার হয়ে এলো।
জেনিয়া বাড়ি থেকে বের হয়। মনে মনে ভাবে জানিনা মা আর মেয়ের কাছে যেতে পারবো কিনা।
ইসরান বলে, তোকে যেভাবে পথ দেখিয়ে দিচ্ছি তুই সেভাবে চলে যাবি।
এরপর জেনিয়া অন্ধকারে বের হয়। অনেক কষ্টে নিজের দেশের গাড়ির পথ ধরল। গাড়িতে উঠে মাকে ফোন দেয়। মা তোমার বুকে ফিরে আসছি। মা তুমি আমি আর আমার মেয়ে একসাথে পৃথিবীর পথ চলবো।
রহিমা মেয়েকে বলে, আয় মা তুই আমার বুকে ফিরে আয়।
এরপর গাড়ি ছাড়ে। গাড়ি ভোর বেলা তার গন্তব্যস্থানে পৌঁছায়। জেনিয়া গাড়ি থেকে নেমে রোড পারিদেয়। এমন সময় একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে। জেনিয়ার ওইখানে মৃত্যু হয়। রহিমা অপেক্ষায় থাকে মেয়ে বাড়ি আসবে। মাহিম একটি লাশ দেখে। মুখ দেখে চিনতে পারে। তার ফুফাতো বোন জেনিয়ার লাশ। এরপর লাশ বাড়ি নিয়ে আসে। বাড়িতে এসে ফুফু রহিমাকে চিৎকার করে ডাকে। রহিমা ঘর থেকে দৌড়ে বের হয় এসে দেখে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ। রহিমা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আমার পোড়া কপাল। এই ছিল লেখা কপালে। এখন আমার খুকির কি উপায় হইবে। মারে আমার বুকের আগুন কি দিয়া নিভাই। এ তো আর ঠান্ডা হবার নয়। রহিমা আর নাতি খুকি প্রায়ই জেনিয়ার কবরের কাছে গিয়ে বসে। আর দু’চোখের অশ্রু বয়ে চলে। তাদের “সুখের প্রদীপ নিভে যায়”। এভাবেই শেষ হয় এক অখ্যাত জীবনের সাধারণ কাহিনী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ডিসেম্বরে দেশে কোনো পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে : নাহিদ ইসলাম

» আমার দেশ পত্রিকা একসময় আমাদের পত্রিকা ছিল, আমার দেশ এখন জামায়াতের মুখপত্র: রাশেদ খাঁন

» নিকেতন সোসাইটিকে ক্যাশলেস পেমেন্ট সুবিধা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

» ‘স্বপ্নের ওমরাহ ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের আওতায় তিন জন ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনারকে ওমরাহ প্যাকেজ পুরস্কার দিল

» ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক

» বালিতে ইনফিনিক্সের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ কনসেপ্ট স্টোর

» স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

» মুক্তির সংগ্রাম চলছে চলবে

» আমিরাতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

» মিরপুরের কালশী রোডে বিক্ষোভে পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সুখের প্রদীপ নিভে যায়

সুলেখা আক্তার শান্তা :
বিধবা হওয়ার পর স্বামীর বাড়ি আর ভাত জোটে না রহিমার। ছোট মেয়ে জেনিয়ারে নিয়ে চলে আসে বাপের বাড়ি। কি আর করা কপালে যদি সুখ না থাকে। বাপের বাড়ি এসেও শান্তি নাই। ভাই ভাবিদের সমস্ত কাজ কাম করেও তাদের মন পাওয়া যায় না। তাদের খাওয়ার পরে যদি খাবার থাকে তাহলে মা-মেয়ের খেতে পারে। আর না হয় উপোস থাকতে হয়।
জেনিয়া ক্ষুধার যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করে। কান্নার শব্দ পেয়ে ভাই বউ নাদিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে, শুধু খাই খাই করে।
রহিমা বলে, ভাবি রাগ করো কেনো? ছোট বাচ্চা, ওকি ভালো-মন্দ বোঝে?
রাগ করি কি আর সাধে? এতে কি আমাদের মান-সম্মান যায় না।
বাচ্চা কান্নাকাটি করে তাতে তোমাদের মান-সম্মান যায়।
ঠিক আছে, ও আর কান্নাকাটি করবে না। রহিমা কথা না বাড়িয়ে মুখ বন্ধ রাখে। ভাবে আশ্রয়ের শেষ জায়গাটুকুও হারাবে। ভাইদের বোনের প্রতি টান নেই। সহ্য করে যেভাবে দিনরাত পাড়ি দেওয়া যায়। তাতেই মঙ্গল। রহিমার একটাই চিন্তা মেয়েটা বড় হলে বিয়ে দিয়ে যেদিকে দু’চোখ যায় চলে যাবে। তখন আর ভাইদের কাছে বোঝা হয়ে থাকবে না।
নাদিয়াদের সবার দুপুরের খাওয়া শেষ হয়। বাকি থাকে রহিমা আর মেয়ে জেনিয়া। কাজ করতে করতে বেলা শেষ হয় রহিমার। বেলার শেষে মা-মেয়ের খাবার জুটে। রহিমা রাতের জন্য রান্না শুরু করে। রাতে নাদিয়াদের সবার খাওয়া হয়। রহিমা আবদার করে নাদিয়ার কাছে। ভাবি আমারে না দেন মেয়েটার জন্য যদি কয়টা ভাত দিতেন।
সন্ধ্যাবেলা খেয়েছে? আর একবেলা উপোস থাকলে সমস্যা হয়না।
রহিমা করুন সুরে বলে, আচ্ছা ভাবি।
নাদিয়া ভাত তো দিলো না। তারপরও বকবক আর থামে না।
রহিমা স্থির থাকতে না পেরে বলে, ভাবি এত কথা বলেন কেন? আমিও কিন্তু এই বাড়ির অংশীদার।
কি এত বড় কথা। শেষ আশ্রয়টুকু পাবে না থাকার জন্য বেশি কথা বললে।
থাক আর ভাত চাবো না। যখন যা দেন তাই খেয়ে থাকবো। রহিমা মেয়েকে নিয়ে শুয়ে পড়ে। জেনিয়ার ক্ষুধায় ছটফট দেখে, রহিমা গড়িয়ে পড়ে নিরব অশ্রু দু’চোখে অবিরল ধারায়।
জেনিয়া বড় হওয়ায়। মা রহিমা চিন্তায় পড়ে যায় মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। কি দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিবে। তাই মেয়েকে রোজগারের উদ্দেশ্যে ঢাকা পাঠায়। জেনিয়া ঢাকায় এসে একটি দর্জির দোকানে কাজে লাগে পেটে ভাতে। অল্পদিনেই জেনিয়া কাজ শিখে ফেলে। কাজ শিখার পরে যে টাকা বেতন পায় নিজের খাওয়া খরচ বাদে বাকি টাকা মায়ের জন্য পাঠিয়ে দেয়। দোকানের মালিক শরিফ ভালোবাসে জেনিয়াকে। এরপর দু’জনার মতেই বিয়ে হয়। বিয়ের পর দু’জনের ভালোভাবেই কাটে দিন।
জেনিয়ার বাচ্চা হবে। তাই শরিফ বউয়ের প্রতি খুব যত্নশীল। ঠিকমতো গোসল করা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম পাড়ানো। জেনিয়া স্বামীর এত যত্ন-আত্তি দেখে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করে যে শরিফের মতো এমন স্বামী পেয়েছে।
মেয়ের এমন খুশির সংবাদ শুনে রহিমা ঢাকায় আসে। মেয়ের কাছে কিছুদিন থাকে। জেনিয়ার মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। মেয়ে হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই খুশি। বাচ্চার নাম রাখে খুকি। খুকি জন্মের এক মাসের মাথায় শরিফ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
জেনিয়ার জীবনে নেমে আসে দুঃখ। স্বামী না থাকায়, দোকানে বসায় এলাকার কিছু বকাটে ছেলেদের দৃষ্টিতে পড়ে জেনিয়া। জেনিয়া বকাটেদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে যায়। একদিন জেনিয়ার সঙ্গে বকাটে ছেলেদের গন্ডগোল হয়। পল্লব গন্ডগোল মাঝে জেনিয়ার দোকানে হাজির। পল্লব এই গন্ডগোল মীমাংসা করে দেয়। এই সুবাদে জেনিয়ার দোকানে পল্লব প্রায়ই আসে। রীতিমতো তাদের দেখা, কথা বলায় দু’জনের সম্পর্ক খুব ভালো হয়। জেনিয়া মেয়ে খুকিকে নিয়ে দোকানে কাজ করতে না পারায়। খুকিকে মায়ের কাছে রাখে। জেনিয়া একাই ঢাকায় থাকে। পল্লব সবকিছু জেনেশুনে জেনিয়াকে বিয়ে করতে চায়। জেনিয়া বকাটে ছেলেদের কথা চিন্তা করে পল্লবকে বিয়ে করতে রাজি হয়। বিয়ের পর জেনিয়া দোকান করুক তা পল্লব চায়না। পল্লবের কথামতো দোকান ছেড়ে দেয়। দোকান ছেড়ে দেওয়া যে টাকা আসে তা পল্লবের হাতে তুলে দেয় জেনিয়া। বড়লোকের ছেলে বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে জেনিয়াকে। এই বিয়ের কথা বললে তারা রাজি হবেন না। এই ব্যাপার জেনিয়া ও মেনে নেয়। পল্লব বাড়ি গেলে জেনিয়ার কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। এমন পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন চলতে থাকে। পল্লবের কাছে জেনিয়া জানতে চায় এমন পরিস্থিতি কতদিন চলবে?
পল্লব তার উত্তরে বলে, যেভাবে চলছে খারাপ কি?
এইভাবে কি জীবন চলে?
পল্লব বলে, আমার ফ্যামিলির কাছে তোমার কথা কখনোই বলা সম্ভব নয়।
তোমার ফ্যামিলির কাছে যদি আমার কথা বলতে না পারো তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিলে কেন?
তোমার আগের ঘরের সন্তান আছে। এসব ব্যাপার আমার ফ্যামিলি কখনোই মানবেনা।
আমিতো তোমাকে সবই জানিয়েছি তখন কেন তুমি ফ্যামিলির কথা ভাবোনি?
সব ভাবনা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে আসেনা।
তুমি আমাকে এখন খরচ দিচ্ছ না। আমার মা-মেয়ে ওইদিকে না খেয়ে আছে। আমার দোকানের সব টাকা তোমার কাছে। আমার টাকা আমাকে ফেরত দাও।
তোমার কথা আমার ভাল লাগে না। এই কথা বলে, পল্লব কাপড়-চোপড় গুছিয়ে বের হতে প্রস্তুতি নেয়।
জেনিয়া জিজ্ঞেস করে তুমি কোথায় যাচ্ছ?
পল্লব বলে, আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানে তোমাকে কখনোই নেওয়া সম্ভব না। জেনিয়া বাধা দেয়। জেনিয়াকে ধাক্কা মেরে বের হয়ে চলে যায় পল্লব। জেনিয়া আটকাতে পারেনা পল্লবকে।
এরপর পল্লব বাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। জেনিয়া স্বামীর না আসার কারণে ভেঙ্গে পড়ে। জেনিয়া সিদ্ধান্ত নেয় সে পল্লবের বাড়ি যাবে। জেনিয়া স্বামীর উদ্দেশ্যে তার বাড়ি যায়। জেনিয়া বাড়ি পৌঁছালে দেখে পল্লব তার বাড়িতেই আছে।
পল্লব জেনিয়াকে দেখে বলে, কেন তুমি আমার বাড়িতে এসেছো। জেনিয়া বলে, স্বামীর বাড়ি স্ত্রী তো আসবেই।
পল্লব বলে, তুমি আমার স্ত্রী!
আমি কি এই কথা তোমাকে নতুন করে বলবো?
তুমি যেদিক দিয়ে এসেছো সেই দিকে ফিরে যাও।
আমি ফিরে যেতে আসিনি। আমি আমার অধিকার চাই। এরই মাঝে বাড়ির মানুষ জড়ো হলো সবাই পল্লবকে জিজ্ঞেস করে। পল্লব এ কে?
পল্লব বলে, আমি একে চিনি না।
জেনিয়া উচ্চস্বরে বলে, তুমি আমাকে চেনোনা। তাহলে আমার পরিচয় দেই। জেনিয়া সবার কাছে বলে, আমি পল্লবের স্ত্রী।
সবাই এক সুরে বলে, কি পল্লবের স্ত্রী! তোমাকে বিয়ে করেছে?
পল্লবের মা সাদিয়া উত্তেজিত হয়ে বলে, একজন এসে বলল সে আমার ছেলের স্ত্রী অমনি তাকে আমি বউ বলে মেনে নেব। এই মেয়ে আমার বাড়ি থেকে ভালোই ভালো বের হয়ে যাও না হয় পরিণাম খারাপ হবে। জেনিয়া হতবাক হয়ে পল্লবের দিকে তাকিয়ে থাকে! ভাবে পল্লব যেখানে স্ত্রী হিসেবে নিজেই মানে না। সে অন্যের কথায় কি বলবে। সব দ্বিধা-সংকোচ বাদ দিয়ে স্বামীকে বলে, তুমি একটা কিছু বলো, আমি এখন কি করবো?
লোকজন বলে, বিয়ে করা যায় আর স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আত্মমর্যাদায় বাদে। সবাই সাদিয়াকে বলে, এই মেয়ে এখন কোথায় যাবে। তোমরা এই মেয়েকে বউ হিসেবে মেনে নাও।
সবার চাপে পড়ে জেনিয়াকে ঘরে তুলে নেয়। পল্লবের ভাবি ইসরান বড়লোকের মেয়ে পরনে তার দামি শাড়ি অনেক গয়নাগাটি। ইসরান শাশুড়ি সাদিয়াকে বলে, আম্মা এ কি করলেন আপনি! এই ছোটলোকের বেটিকে ঘরে জায়গা দিলে?
সাদিয়া বলে, ওরে কি সাধে ঘরে তুলছি! লোকজনের চাপে পড়ে মেনে নিয়েছি। জেনিয়াকে বলে, তোর কোন খাওয়া-দাওয়া নেই। তুই এই রান্না ঘরে থাকবি। জেনিয়া তাদের আচার-আচরণ দেখে ভয় পায়। জেনিয়া ইসরানের পা জড়িয়ে ধরে বলে, আপা আমি আপনার ছোট বোন। আজ যদি আপনার বোনের এরকম হত, আপনি কি পারতেন সহ্য করতে? জেনিয়ার এই কথা শুনে ইসরানের মায়া হয়।
ইসরান বলে, তুমি যখন আমাকে বোন বলেছো। তোমার জন্য আমার যা করার দরকার আমি তাই করবো। জেনিয়াকে পা থেকে তুলে বুকে নেয়। বলে, তোমাকে একটা কথা বলি? আমি তোমাকে আপন করে নিয়েছি এই কথা তাদের বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি তাদের সামনে তোমাকে বকাঝকা করব।
জেনিয়া মাথা নেড়ে, হ্যাঁ বলে।
ইসরান নিজের রুমে যায়। স্বামীর মুখ গম্ভীর দেখে। ইসরান জিজ্ঞেস করে তোমার মন খারাপ কেন ফয়সাল?
ফয়সাল বলে, আরে দেখো না কোথা থেকে এক ঝামেলা এসে জুটেছে।
তোমার ভাই তাহলে তাকে বিয়ে করছে কেন?
আমার ভাইয়ের কথা বাদ দাও।
জেনিয়া স্বামীর বাড়ি আশ্রয় পায় ঠিকই। কিন্তু শোয়ার জন্য জুটে রান্নাঘর।
সাদিয়া ভোর হলে রান্নাঘরে ঢুকে জেনিয়াকে লাথি মেরে বলে, তুই এখান থেকে চলে যা।
জেনিয়া বলে, আমি আমার স্বামীর বাড়ি থেকে যাব না।
তুই স্বামী পেলি কোথায়? যে তোকে স্ত্রী হিসেবে মানে না।
জেনিয়া চুপ হয়ে থাকে ভাবে সবার যখন একই উদ্দেশ্য এখানে আমার কথার কোন মূল্য নেই। তারচেয়ে কথা না বলাই ভালো।
পল্লব তার বাবা-মা ভাই জেনিয়ার বিষয়ে আলাপ নিয়ে বসে। আজ রাতে জেনিয়াকে মেরে ফেলবে। পল্লবের বাবা রুস্তম বলে, কিছুতেই ওকে বাঁচিয়ে রাখা যাবেনা। ইসরান এই কথা শুনে ফেলে। ইসরান কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জেনিয়াকে বলে, তুই এখান থেকে পালা। ওরা তোকে আজ রাতে মেরে ফেলবে!
জেনিয়া আতঙ্কিতহ হয়ে বলে, আপা বলেন কি!
হ্যাঁ আমি যা বলছি সত্যি বলছি! আমি তোকে এখান থেকে পালানোর ব্যবস্থা করে দেব।
সত্যি আপা আপনি আমার বোনের মতোই উপকার করলেন। এসব কথা এখন ছাড় আমাকে তোর কিছু বলতে হবেনা।
সন্ধ্যা হলো, আস্তে আস্তে চারদিক অন্ধকার হয়ে এলো।
জেনিয়া বাড়ি থেকে বের হয়। মনে মনে ভাবে জানিনা মা আর মেয়ের কাছে যেতে পারবো কিনা।
ইসরান বলে, তোকে যেভাবে পথ দেখিয়ে দিচ্ছি তুই সেভাবে চলে যাবি।
এরপর জেনিয়া অন্ধকারে বের হয়। অনেক কষ্টে নিজের দেশের গাড়ির পথ ধরল। গাড়িতে উঠে মাকে ফোন দেয়। মা তোমার বুকে ফিরে আসছি। মা তুমি আমি আর আমার মেয়ে একসাথে পৃথিবীর পথ চলবো।
রহিমা মেয়েকে বলে, আয় মা তুই আমার বুকে ফিরে আয়।
এরপর গাড়ি ছাড়ে। গাড়ি ভোর বেলা তার গন্তব্যস্থানে পৌঁছায়। জেনিয়া গাড়ি থেকে নেমে রোড পারিদেয়। এমন সময় একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে। জেনিয়ার ওইখানে মৃত্যু হয়। রহিমা অপেক্ষায় থাকে মেয়ে বাড়ি আসবে। মাহিম একটি লাশ দেখে। মুখ দেখে চিনতে পারে। তার ফুফাতো বোন জেনিয়ার লাশ। এরপর লাশ বাড়ি নিয়ে আসে। বাড়িতে এসে ফুফু রহিমাকে চিৎকার করে ডাকে। রহিমা ঘর থেকে দৌড়ে বের হয় এসে দেখে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ। রহিমা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আমার পোড়া কপাল। এই ছিল লেখা কপালে। এখন আমার খুকির কি উপায় হইবে। মারে আমার বুকের আগুন কি দিয়া নিভাই। এ তো আর ঠান্ডা হবার নয়। রহিমা আর নাতি খুকি প্রায়ই জেনিয়ার কবরের কাছে গিয়ে বসে। আর দু’চোখের অশ্রু বয়ে চলে। তাদের “সুখের প্রদীপ নিভে যায়”। এভাবেই শেষ হয় এক অখ্যাত জীবনের সাধারণ কাহিনী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com