ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ফোনে ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলেই অনেকে নানা উপায় চেষ্টা করেন। কেউ রাউটার রিস্টার্ট করেন, কেউ মোবাইল ডাটা বন্ধ করে আবার চালু করেন। এর মধ্যে একটি পরামর্শ বেশ জনপ্রিয়—ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ করে দিলেই নাকি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বেড়ে যায়। কিন্তু দাবিটি কতটা সত্য?
ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই—দুটিই বেতার প্রযুক্তি। ওয়াই-ফাইয়ের ২ দশমিক ৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড এবং ব্লুটুথ একই ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে কাজ করতে পারে। ফলে একই জায়গায় একাধিক বেতার ডিভাইস সক্রিয় থাকলে তাদের সংকেতের মধ্যে কিছুটা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষ করে ছোট ঘর, অফিস বা এমন জায়গায় যেখানে একসঙ্গে অনেক ফোন, ল্যাপটপ, ইয়ারবাড ও অন্যান্য বেতার ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, সেখানে এই প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্লুটুথ চালু থাকলেই ওয়াই-ফাই ধীর হয়ে যাবে। আধুনিক স্মার্টফোন ও রাউটারে ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই একসঙ্গে ব্যবহারের সময় হস্তক্ষেপ কমানোর ব্যবস্থা থাকে। তাই সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্লুটুথ বন্ধ করে দিলে ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা নয়।
তবে ফোনে পুরোনো ওয়াই-ফাই হার্ডওয়্যার থাকলে, অথবা রাউটার ২ দশমিক ৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে কাজ করলে এবং আশপাশে অনেক বেতার ডিভাইস সক্রিয় থাকলে ব্লুটুথ বন্ধ করে সাময়িকভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এতে গতি বা সংযোগে কোনো পার্থক্য না হলে ব্লুটুথ বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই।
বরং ওয়াই-ফাই ধীর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারণগুলো আগে পরীক্ষা করা বেশি কার্যকর। রাউটার থেকে ফোনের দূরত্ব বেশি হলে বা মাঝখানে মোটা দেয়াল থাকলে সংকেত দুর্বল হতে পারে। একই নেটওয়ার্কে অনেক ডিভাইস যুক্ত থাকলেও গতি কমে যেতে পারে। এ ছাড়া রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত নয়, যেখানে চারপাশে অনেক বাধা রয়েছে।
ফোন ও রাউটার দুটিই সমর্থন করলে ৫ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি রাউটার রিস্টার্ট করা, অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রয়োজনে ওয়াই-ফাই চ্যানেল পরিবর্তন করেও সংযোগের মান উন্নত করা সম্ভব।
তাই ব্লুটুথ বন্ধ করা কোনো ‘ম্যাজিক ট্রিক’ নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এতে সামান্য উপকার মিলতে পারে। কিন্তু প্রতিবার ব্লুটুথ বন্ধ করলেই ওয়াই-ফাই বা ইন্টারনেটের গতি বেড়ে যাবে—এ ধারণা ঠিক নয়। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








