ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেনে হামলার ধরন আরও বদলেছে রাশিয়া। দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখন দিনের বেলাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমান হামলার সতর্কতা জারি রাখতে হচ্ছে। গত চার দিনে প্রায় ৮০০টি জেটচালিত ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি জানান, গত চার দিনে রাশিয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০০টি ছিল জেটচালিত। অর্থাৎ রাশিয়ার হামলায় ব্যবহৃত মোট ড্রোনের অর্ধেকেরও বেশি এখন নতুন এই মডেলের।
নতুন মডেলের শাহেদ ড্রোন ঘণ্টায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মাইল গতিতে উড়তে পারে। আগের পিস্টন ইঞ্জিনচালিত সংস্করণের তুলনায় এর গতি প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি ইউক্রেনের তৈরি স্বল্পমূল্যের কিছু প্রতিরোধক ড্রোনের চেয়েও এগুলো দ্রুতগতির হওয়ায় জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কিয়েভের ১৫ মাইল পশ্চিমে মাইলা গ্রামের একটি গোলাবারুদ গুদামে ‘গেরান-৪’ ড্রোন আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত হন। হামলার পর সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিস্ফোরণ চলতে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের বাড়িঘরও।
গত পাঁচ দিন ধরে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলাতেও দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। সোমবার দুপুরের আগেই কিয়েভে আটবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। পরিস্থিতির কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সতর্কতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকেও অনেক সময় হামলাস্থল থেকে সরে যেতে হচ্ছে। এতে আগুন বা অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেসনভ মানুষকে গুজব ও আতঙ্কে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হামলায় সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোনের প্রযুক্তি পরে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইরান ২০২৩ সালের শরতে প্রথম জেটচালিত শাহেদ-২৩৮ উন্মোচন করে। পরে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়া ‘গেরান-৪’ ও ‘গেরান-৫’ তৈরি শুরু করে। বেস্ক্রেসনভের দাবি, আগস্টে ইউক্রেনে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি জেটচালিত ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০।
এর আগে পিস্টনচালিত শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় স্বল্পমূল্যের স্থলভিত্তিক প্রতিরোধক ড্রোন তৈরি করে সাফল্য পেয়েছিল ইউক্রেন। এতে এসব ড্রোন ধ্বংসের হার ৯০ শতাংশের বেশি হয়েছিল। তবে নতুন জেটচালিত ড্রোনের গতি বেশি হওয়ায় এবার সেগুলো ঠেকাতে আরও দ্রুতগতির প্রতিরোধক ড্রোন তৈরির চেষ্টা করছেন ইউক্রেনের প্রকৌশলীরা।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।








