ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : জানিয়েছে, অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে প্রতি মাসে একবার ডিমান্ড চার্জ কাটা হয়। কোনো মাসে প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ না করলে পরবর্তী রিচার্জের সময় আগের মাসগুলোর বকেয়া ডিমান্ড চার্জের সঙ্গে চলতি মাসের চার্জও কেটে নেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘এলটি-আবাসিক’ শ্রেণির কোনো গ্রাহকের অনুমোদিত লোড ২ কিলোওয়াট হলে এবং তিনি টানা তিন মাস রিচার্জ না করলে প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হিসাবে তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ হবে ২৫২ টাকা।
একই নিয়ম পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
মিটার ভাড়া কত : গ্রাহক নিজ অর্থে প্রিপেইড মিটার কিনে স্থাপন করলে কোনো মিটার ভাড়া দিতে হয় না। তবে ডিপিডিসির সরবরাহ করা মিটারের জন্য প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হয়।
ডিপিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গেল-ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা।
নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহক নিজে মিটার কিনলে অথবা নষ্ট মিটারের পরিবর্তে নিজ অর্থে নতুন মিটার স্থাপন করলে ওই মিটারের জন্য কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না।
রিচার্জের সময় ৫ শতাংশ ভ্যাট : সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিলের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রিপেইড মিটার রিচার্জের সময় মোট রিচার্জের অর্থের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের টোকেন কেন : ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের পর প্রথমবার প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করলে অনেক গ্রাহক ২০০ থেকে ২২০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন পান। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে ডিপিডিসি।
সংস্থাটি বলছে, নতুন মূল্যহার মিটারে কার্যকর করার জন্য ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জে দীর্ঘ টোকেন তৈরি হয়। পরবর্তী রিচার্জগুলোতে স্বাভাবিক ২০ ডিজিটের টোকেন পাওয়া যাবে।
দীর্ঘ টোকেন মিটারে ম্যানুয়ালি প্রবেশ করানোর ঝামেলা কমাতে ধাপে ধাপে মিটারগুলোকে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় মিটার ব্যবস্থার আওতায় এএমআই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এসব মিটারে ম্যানুয়ালি টোকেন প্রবেশ করানোর প্রয়োজন নেই। বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেও রিচার্জ করা যাচ্ছে।
প্রিপেইড মিটারে ‘ভূতুড়ে বিল’ হওয়ার সুযোগ আছে? : ডিপিডিসির দাবি, প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ বা তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ কাটার কোনো কারিগরি সুযোগ প্রিপেইড মিটারে নেই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যহার অনুযায়ী ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটার থেকে কেটে নেওয়া হয়।
তবে কমন নিউট্রালজনিত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারিগরি সমস্যার কারণে অস্বাভাবিক বিলিংয়ের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে ডিপিডিসি।
ছুটির দিন ও রাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না : গ্রাহকদের সুবিধার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়কে ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে ডিপিডিসি।
এই সময়ে মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না। মিটার নেগেটিভ ব্যালেন্সে সচল থাকবে এবং পরবর্তী রিচার্জের সময় ওই অর্থ সমন্বয় করা হবে।
এ ছাড়া মিটারের এনার্জি ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে গ্রাহক ‘ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স’ চালু করে জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। পরবর্তী রিচার্জের সময় ব্যবহৃত অর্থ সমন্বয় করা হবে।
সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ করবেন : প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক অর্থ কেটে নেওয়া, বিলিংয়ে অসঙ্গতি, কারিগরি ত্রুটি কিংবা আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি।
এ ধরনের সমস্যায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, অভিযোগ কেন্দ্র অথবা ডিপিডিসির হটলাইন ১৬১১৬-এ যোগাযোগ করা যাবে।
অভিযোগের সময় গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।








