জামালপুরে ৩ শিক্ষার্থীর স্থলে ৯ শিক্ষক, সকলেই ফেল

লিয়াকত হোসাইন লায়ন,জামালপুর প্রতিনিধি ॥ জামালপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দুইটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুই্িট দাখিল মাদরাসা রয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা।

জানাগেছে,ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে একজনকেও পাস করাতে পারেননি। এছাড়াও ৮ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়াও সরিষাবাড়ীর ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক মিলে ১১ পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়েও একজনকেও উত্তীর্ণ করাতে পারেননি। বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা ১৪জন পরীক্ষার্থী সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে।

ইসলামপুর কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ জানান, গত বছর পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদরাসা সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, ‘কদমতলী ক্বারী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাশ করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘ছাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।

জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘যে চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে; সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত, তাদের পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পায়। তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও কেন শতভাগ ফেল হলো সে বিষয়ে আমরা তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাইব এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

উল্লেখ্য যে, এবছর জামালপুর জেলা থেকে ৮৫টি কেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৩৯ হাজার ৬ শত ৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৭৮ জন, দাখিল ৫ হাজার ৩ শত ২১ জন ও ভোকেশনাল ৪ হাজার ২ শত ৭৩ জন পরীক্ষার্থী। জামালপুরে পাশের হার শতকরা ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তারেক রহমানের পজিটিভ রাজনীতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

» রাজধানীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান কর্মীরা

» অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের জবাব দেন না প্রীতি জিনতা

» যুদ্ধ নয়, দর-কষাকষির ময়দানে ফেরার চেষ্টায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

» বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা চলবে না : অর্থমন্ত্রী

» আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ : ইসি সচিব

» ৫০তম বিসিএসের ভাইভা প্রার্থীদের জন্য পিএসসির নতুন নির্দেশনা

» জামালপুরে নসিমনের চাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

» প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সুবিধা দিতে পিকেএসএফ-এর সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের চুক্তি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জামালপুরে ৩ শিক্ষার্থীর স্থলে ৯ শিক্ষক, সকলেই ফেল

লিয়াকত হোসাইন লায়ন,জামালপুর প্রতিনিধি ॥ জামালপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দুইটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুই্িট দাখিল মাদরাসা রয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা।

জানাগেছে,ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে একজনকেও পাস করাতে পারেননি। এছাড়াও ৮ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়াও সরিষাবাড়ীর ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক মিলে ১১ পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়েও একজনকেও উত্তীর্ণ করাতে পারেননি। বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা ১৪জন পরীক্ষার্থী সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে।

ইসলামপুর কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ জানান, গত বছর পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদরাসা সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, ‘কদমতলী ক্বারী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাশ করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘ছাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।

জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘যে চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে; সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত, তাদের পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পায়। তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও কেন শতভাগ ফেল হলো সে বিষয়ে আমরা তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাইব এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

উল্লেখ্য যে, এবছর জামালপুর জেলা থেকে ৮৫টি কেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৩৯ হাজার ৬ শত ৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৭৮ জন, দাখিল ৫ হাজার ৩ শত ২১ জন ও ভোকেশনাল ৪ হাজার ২ শত ৭৩ জন পরীক্ষার্থী। জামালপুরে পাশের হার শতকরা ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com